Home » যাত্রাগাছি ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্তের ডিএনএ টেস্টের আর্জিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ নির্যাতিতার পরিবার

যাত্রাগাছি ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্তের ডিএনএ টেস্টের আর্জিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ নির্যাতিতার পরিবার

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ অক্টোবর: নিউ টাউনের যাত্রাগাছি কাণ্ডে এবার ধৃতের  ডিএনএ টেস্টের দাবি তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার। এই দাবি নিয়ে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল নির্যাতিতার পরিবার। দশম শ্রেণীর নাবালিকা এক ছাত্রীকে গত অগস্ট মাসে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছিল এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় পুলিশ অভিযোগের দিনেই গ্রেফতার করেছিল সেই প্রতিবেশী সঞ্জয়  হালদারকে। এখন আদালতে পোক্ত প্রমান  পেশ করতে অভিযুক্তের ডিএনএ টেস্ট করাতে চায় পুলিশ তথা নির্যাতিতার পরিবার।

আরও পড়ুন: বিনীত গোয়েল মামলায় নতুন মোড়, মোদী অধীনস্থ দফতরের হলফনামা চাইল হাইকোর্ট

নাবালিকার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, একবার নয় বাড়িতে নাবালিকাকে একা পেয়ে বহুবার ধর্ষণ করেছে অভিযুক্ত। প্রতিবেশী হিসাবে নির্যাতিতা তাঁকে কাকা বলে ডাকতেন। ১৬ বছরের নাবালিকাকে সঞ্জয় ভয় দেখিয়েছিল কাউকে কিছু জানালে মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারবে। কার্যত সে অত্যাচারিত হওয়ার পরেও বাড়িতে কিছু জানায়নি। শেষ কিছুদিন ধরে সে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানোয় ধরা পড়ে নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাবাসীরা সঞ্জয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে সঞ্জয়কে। নাবালিকার পরিবারের আইনজীবী শামিম আহমেদ সোমবার জানান, মেয়েটির গর্ভপাত করানো হবে। তার আগে যদি অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা না করানো হয়, তবে অভিযোগ প্রমাণ করতে সমস্যা হবে।

আরও পড়ুন: জেলে গিয়ে সন্দীপকে জেরা করবে ইডি, অনুমতি দিল সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত

ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্তসূত্রে নাবালিকার গোপন জবানবন্দির চেষ্টা করলে নাবালিকা তাতে রাজি হয়নি। তবে, আজ মঙ্গলবার শিশু কল্যাণ কমিটির সামনে নাবালিকাকে হাজির হবে, সেখানেই তার গোপন জবানবন্দি হবে নির্যাতিতার।

আরজি কর, জয়নগরের মত যাত্রাগাছি ধর্ষণ কাণ্ডের আবার নির্যাতিতার পরিবার প্রশ্ন তুলেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতার আইনজীবী শামিমের অভিযোগ, ‘‘পুলিশ ঠিক পথে তদন্ত করছে না। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করায়নি তারা। এমনকি, নির্যাতিতার আল্ট্রাসোনোগ্রাফিও (ইউএসজি) করানো হয়নি। কোনও ল্যাবরেটরি পুলিশের অনুমতি ছাড়া এই পরীক্ষা করবে না। তাই, নাবালিকার সুবিচারের দাবিতেই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।’’ আইনজীবীর মন্তব্যের পাল্টা উত্তর শোনা গিয়েছে বিধাননগর পুলিশের এক আধিকারিকের গলায়। তাঁর দাবি, ‘‘তদন্ত ঠিক পথেই এগোচ্ছে। ওদের পরিবার কেন হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে জানি না। তবে পুলিশ পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষাও করা হবে।’’

About Post Author