সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ অক্টোবরঃ চোখে ছিল বড় স্বপ্ন, ছিল তাকে সত্যি করার মনবলও। শুধু ছিল না অর্থ। কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার কথা মাথায় আনারও সাহস হয়নি তরুণীর। মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। বাবা রান্নার কাজ করেন। উভয়ের মিতিল উপার্জনেও নুন আনতে পান্তা ফোরায় অবস্থা। এদিকে মেয়ের চান প্রশাসক হতে। শুধুমাত্র টাকার অভাবে মেধাবী মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে না ভেবেই ভেঙে পড়েছিলেন দম্পতি। তবে তরুণী তাঁর বাবা-মাকে বোঝান সিভিল সার্ভিস পাশ করতে গেলে চাই মেধা, কোচিং নয়। নিজেই পড়াশোনা করে সাফল্য ছিনিয়ে নিলেন ওড়িশার ছাত্রী। ইউটিউব দেখে পড়াশোনা করেই পাশ করলেন দেশের কঠিনতম পরীক্ষা।

আরও পড়ুনঃ Amit Shah: বঙ্গে এসেই পরিবর্তনের ডাক অমিত শাহের, বনগাঁর মঞ্চ থেকেই নয়া প্রতিশ্রুতি
কৃতি ছাত্রীর নাম বিনি মুরুলি। ওড়িশার বোন্দা আদিবাসী সম্প্রদায়ের তরুণী। আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কোচিং নিতে পারেনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার আগে। তবে শুধুমাত্র ইউটিউব ভিডিয়ো দেখে এবং ইন্টারনেট ঘেঁটে নিজেই পড়াশোনা করে সিভিল সার্ভিস-এর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় সেই পরীক্ষায় ৫৯৬ র্যাঙ্ক নিয়ে পাশ করেন বিনির। বোন্দার মত পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় থেকে বিনিই প্রথম এত উচ্চপদের একটি চাকরি পেলেন। দেশের অন্যতম এক সংবাদকে বিনি জানালেন, “অর্থাভাবকে কখনই আমার স্বপ্নের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দিইনি। বাবা-মা কোচিংয়ে পড়াতে পারেননি। তাই ইউটিউব ও ইন্টারনেট ঘেঁটেই সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কষ্টের ফল পেয়ে দারুন লাগছে।” মেয়ের সাফল্যে গর্বিত রাম মুরুলি। তিনি বলেন, ‘‘ওর এই সাফল্য আমাদের সম্প্রদায়ের অনেক মেয়েকেই অনুপ্রেরণা জোগাবে।’’
আরও পড়ুনঃ কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিশ্চিত : ট্রাম্প
ওড়িশার বোন্দার ঘাটের একটি সরকারি স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন বিনি। তার পর উচ্চশিক্ষার জন্য জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সংসারের আর্থিক পরিস্থিতি ভাল ছিল না। তাই পড়াশোনার খরচ চালাতে একটি আয়ুবের্দিক ওষুধ সংস্থাতেও কাজ করেছেন। ২০২০ সালে প্রথম বার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন। কিন্তু পাশ করতে পারেননি। অবশেষে তাঁর সেই প্রচেষ্টা সার্থক হল এই বছর।


More Stories
ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রভাব কোথায়? বিরোধিতা কেন?
বারাসাত ইউনিভার্সিটিতে এবিভিপি -তৃণমূল সংঘর্ষ
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের