Home » একই মঞ্চে সুদীপ-কুনাল, কিভাবে মিটলো বিবাদ?

একই মঞ্চে সুদীপ-কুনাল, কিভাবে মিটলো বিবাদ?

সময় কলকাতা ডেস্ক:-

বিবাদ ভুলে একই মঞ্চে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ। এই ফ্রেম এক পলকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে কয়েকমাস আগেই প্রকাশ্যে সুদীপ-কুণালের সেই দ্বন্দ্ব !সেই বিবাদের কথা মনে রেখেছে রাজ্য রাজনীতি ।রবিবার বড়বাজারে লিট্টি চোখা উৎসবে এক হলেন তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ। এই ফ্রেম যেন বাঁধিয়ে রাখার মতো। অনুষ্ঠানে সামিল হন তৃণমূলের এক ঝাঁক নেতা নেত্রী। ছিলেন সুব্রত বক্সি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কিন্তু, সবকিছুর থেকে যেন নজর বারবার ফিরে যাচ্ছিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের দিকেই। এবার প্রশ্ন হল, দুজনেই একই রাজনৈতিক দলের। দুজনেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো দিনের সৈনিক। দলের ইতিহাসে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের সাক্ষী দুজনে। বর্তমানে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংসদ, আরেকজন কুণাল ঘোষ দলের প্রাক্তন সাংসদ। কুণালের সাংগঠনিক দায়িত্বও রয়েছে। তাহলে কেন একই মঞ্চে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষকে দেখে চোখ ধাঁধিয়ে গেল বঙ্গবাসীর?

উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে বেশ কয়েকমাস আগে। সুদীপ-কুণালের চাপা দ্বন্দ্ব কারোরই অজানা নয়। সেই সূত্র ধরেই বাংলার মানুষের আবার মনে পড়ে গেল, গত বছর লোকসভা ভোটে উত্তর কলকাতার লোকসভা আসনে সত্তরোর্ধ্ব সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীপদ পাওয়া আটকাতে কুণাল ঘোষের ফুলঝুড়ির মতো একের পর এক বাক্যবাণ। সেই সময় তৃণমূলে ছিলেন উত্তর কলকাতার আরেক দাপুটে নেতা তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের সহযোদ্ধা তাপস রায়। তাপসের হয়ে রীতিমতো ব্যাটন হাতে নিয়ে দেখা গিয়েছিল কুণালকে। আর তা নিয়ে সুদীপের উদ্দেশে কুণাল যে শুধু চোখা চোখা বাক্যবাণই ছুড়েছিল তা নয়, সুদীপের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষকে।

গত বছরের ২ মার্চ টুইটে কুণাল ঘোষ লিখেছিলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে রোজভ্যালি থেকে বাঁচিয়ে গলায় বকলস পরিয়ে রেখেছেন মোদি। টুইটে সরাসরি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন কুণাল ঘোষ। এমনকী যদি কেন্দ্রীয় এজেন্সি সুদীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আদালতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। যদিও, শেষ পর্যন্ত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চব্বিশের নির্বাচনে উত্তর কলকাতায় প্রার্থী করে তৃণমূল। তারপরেই রাগে, ক্ষোভে বিজেপিতে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো দিনের সৈনিক তাপস রায়। তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি। তবে শেষমেশ তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হেরে যান তাপস। ধীরে ধীরে ক্ষোভ, বাকযুদ্ধ, টুইটযুদ্ধ থেমে যায়। লোকসভা ভোট পেরিয়েছে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস হল। এসবের মাঝেই রবিবার সন্ধ্যায় বাংলার মানুষের চোখ আটকে গেল একটি ফ্রেমে। বিবাদ ভুলে সুদীপ-কুণাল একফ্রেমে।

সম্প্রতি আরজি কর ইস্যুতে একাংশ শিল্পীকে বয়কটের প্রসঙ্গে কুণাল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতান্তর প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। কুণাল জানিয়েছিলেন, আরজি কর ইস্যুতে আন্দোলনে নেমে যারা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, সেই শিল্পীদের কোনওভাবেই তৃণমূল নেতাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে জায়গা দেওয়া হবে না। এমনকী এক্স হ্যান্ডেলে সরাসরি তাঁদের বয়কটের ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অভিষেক বলেছিলেন, পার্টির তরফে কেউ বলেছে? কোনও নোটিস দেখেছেন? অভিষেক এও বলেন, মুখপাত্রদের কথা দলের কথা নয়!২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুধু নিজের বক্তব্যে অনড়ই নয়, পরোক্ষে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকেই খারিজ করে দিয়েছিলেন কুণাল।দলের অভ্যন্তরে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কুণালের এই প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছিল। এবার সুদীপের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিলেন স্বয়ং কুণালই।

About Post Author