সময় কলকাতা, সানি রায় ও আর্থিকা দত্ত, জলপাইগুড়ি:- ধূপগুড়ির কয়েকটি প্রসিদ্ধ জায়গার মধ্যে বড় কালী মন্দির অন্যতম। ধূপগুড়ি ব্লকের কালীরহাট এলাকার বড় কালী মন্দির। প্রসিদ্ধ হওয়ার পিছনে বহু অজানা কারণ।এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য লৌকিক কাহিনী।এছাড়া কয়েকটি গ্রামের মানুষ শুভ কাজ করার আগে এই মন্দিরে পুজো দিয়ে থাকেন।
ভক্তদের দাবি, ভক্তি ভরে মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে তিনি মনস্কামনা পূরণ করেন।ফাল্গুন মাসের প্রথম দিকেই দেবীর বাৎসরিক পূজা হয়ে থাকে। জানা গিয়েছে, এক সময় কালীপুজোর দিনেই পুজো হত। এবছর ৩০ সে মাঘ পূজা শুরু হবে। সাথে পাঁচদিন ব্যাপী আনন্দ মেলা হবে। কালের নিয়মে পূজার সময় প্রচুর নিয়মের রদবদল হয়েছে পুজো কমিটির তরফে। পুজো কমিটির বিশেষ উদ্যোগে প্রত্যেক বছর এই পুজোর সময়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় নির্দিষ্ট সময়কে উপেক্ষা করে পূজোর সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায়, সমস্ত রকমের সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পুজো কমিটির তরফে। পাশাপাশি সরকারি সমস্ত রকম নিয়ম কানুনকে পালন করি চলবে পাঁচ দিনব্যাপী আনন্দমেলা।
কিন্তু কেন এই মন্দির প্রসিদ্ধ?
মন্দির বিখ্যাত হওয়ার পিছনে বহু অলৌকিক কাহিনী রয়েছে। যে কাহিনী গুলো লোকমুখে প্রচারিত হতে হতে মন্দিরের মাহাত্ম্য অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত কাহিনীর একটি কাহিনী সর্বোপরি জনপ্রিয় ।
অলৌকিক কাহিনী
এক বৃদ্ধা ছেলে আচমকাই নিখোঁজ হয়। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজাখুঁজির পরেও ,যখন সেই ছেলের সন্ধান বৃদ্ধা না পেয়ে হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন। তখন তিনি ধুপগুড়ির কালিরহাটের এই বড় কালী মন্দিরে এসে মানত করেন। মানত করার পরের দিনই সেই নিখোঁজ ছেলে ফিরে আসে বাড়ি। ছেলে ফিরে আসার পরে ছেলের কাছে জানতে চাওয়া হলে ছেলে জানায় এক বৃদ্ধা তাকে বাড়ি এসে পৌঁছে দিয়ে গেছে। তখন থেকেই লোকমুখে প্রচলিত হতে থাকে বড় কালী নিজে অথবা তার দূত পাঠিয়ে সেই নিখোঁজ ছেলেকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে।
একটা সময় এই মন্দিরে পাঁঠা বলি হত। অনেকেই সে পায়রা মানত করে বলি দিতেন। যদিও আইনের চাপে এখন সেসব অতীত। তা সত্ত্বেও বহু মানুষ আজও বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল থেকে আসে এই মন্দিরে পুজো দিতে। বহু মানুষের মনস্কামনা পূর্ণ হয়েছে এই মন্দিরে মানত করার পরে। ফলে ধীরে ধীরে এই মন্দিরের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।



More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও