Home » বালাকোটের মতো অপারেশন সিঁদুরের আগেও নিস্পৃহ মোদি! হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেও জনসমক্ষে ছিলেন মোদি

বালাকোটের মতো অপারেশন সিঁদুরের আগেও নিস্পৃহ মোদি! হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেও জনসমক্ষে ছিলেন মোদি

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ‘অপারেশন সিঁদুরে’র কয়েক ঘণ্টা আগেও জনসমক্ষে বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী কিন্তু ঘুণাক্ষরেও পাকিস্তানে প্রত্যাঘাতের বিষয়টি নিয়ে কোনরকম ‘হিন্ট’ দেননি তিনি। এমনকী, বডি ল্যাঙ্গুয়েজও বুঝতে দেননি, কোনও বিষয় নিয়ে তিনি চিন্তায় আছেন বা টেনশন করছেন। তাঁর এই হাবভাবেই পাকিস্তান ‘ধোঁকা’ খেয়েছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

পুলওয়ামার বদলা নিতে একইভাবে ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছিল ভারত। এতো বড় হামলার আগে কাকপক্ষীও টের পায়নি! ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেখে তো আন্দাজই করতে পারেনি পাকিস্তানও। সেবার এয়ারস্ট্রাইকের আগের দিন, ২৫ ফেব্রুয়ারি নয়া দিল্লিতে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় কেউ আন্দাজ করতে পারেনি রাতে কী হতে চলেছে! সেবারও একইভাবে নির্লিপ্ত ছিলেন তিনি।

গতকাল হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই জনসমক্ষে ছিলেন মোদি। এক সংবাদ মাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সিন্ধু নদের জল নিয়ে কথা বললেও একবারের জন্যও ‘পি’ ওয়ার্ড উচ্চারণ করেননি। মনোবিদরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর হাবেভাবেও বোঝা যায়নি বড় কিছু ঘটতে চলেছে। এত বড় অপারেশনের আগে সাধারণত দেশের প্রধানমন্ত্রী চিন্তায় থাকবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই রাস্তার ধারপাশ দিয়েও যাননি মোদি।

২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে নির্মম হত্যালীলা চালিয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা বেছে বেছে ২৫ নিরীহ পর্যটকে হত্যা করেছিল। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে এক স্থানীয় কাশ্মীরির প্রাণও যায়। তারপর থেকেই বদলার জ্বালায় জ্বলছিল আসমুদ্র হিমাচল। এদিকে সেনাবাহিনীর তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। দফায় দফায় বৈঠক করচিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। আলোচনায় থাকছিলেন সিডিএস, সেনাপ্রধানরা। কূটনৈতিক চাল চেলে পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করা গেলেও প্রকৃত প্রত্যাঘাত অধরাই ছিল। এর মাঝেই আচমকা বুধবার দেশজুড়ে ২৭ জেলায় এবং ৮ কেন্দ্রশাসিত এলাকায় বিভিন্ন এলাকায় মক ড্রিল করা হবে বলে ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। কেন এই ঘোষণা তা নিয়ে হকচকিয়ে যায় দেশবাসী। তথৈবচ অবস্থা ছিল পাকিস্তানেরও। এর মাঝেই রাতের অন্ধকারে প্রত্যাঘাত করে ভারত। বদলা নেয় টার্গেট কিলিংয়ের। আর এতেই পাকিস্তান ‘ধোঁকা’ খেয়েছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

এদিকে অপারেশন সিঁদুরের পর ইউরোপ সফর বাতিল করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

চলতি মাসেই ক্রোয়েশিয়া, নরওয়ে এবং নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। এমন স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে থাকতে চান না প্রধানমন্ত্রী, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

অপারেশন সিঁদুরের পরেই বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরেই গেলেন রাইসিনা হিলে রাষ্ট্রপতি ভবনে। বৃহস্পতিবার ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সর্বদল বৈঠকও ডেকেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সকাল ১১টায় হবে ওই বৈঠক। সূত্রের খবর, মোদী ওই বৈঠকে বলেছেন, যে যে লক্ষ্যে প্রত্যাঘাত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, তার সবটাই সফল ভাবে করতে পেরেছে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী। কোনও ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ হয়নি।

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন রাত জেগে তত্ত্বাবধান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামটিও তাঁরই দেওয়া বলে জানা গিয়েছে।

About Post Author