সময় কলকাতা ডেস্ক:- বীরভূমের বচসায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ। বেঁধে দেওয়া হল সময়। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার চিঠি পাঠাল জাতীয় মহিলা কমিশন। প্রশ্ন তোলা হল, একজন আইসিকে কুকথা বলেছেন অনুব্রত মণ্ডল, যাঁর অতীতে অপরাধের ছাপ রয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে এখনও কোনও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি কেন? ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেঁধে দেওয়া হল সময়। রাজ্য পুলিশকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে অনুব্রতর বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের রিপোর্ট পাঠাতে বলেছে তারা।
উল্লেখ্য, বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে গালিগালাজ করার ৭ দিন পর বৃহস্পতিবার থানায় হাজিরা দেন অসুস্থ কেষ্ট মণ্ডল। অসুস্থতার কারণে গত শনি ও রবিবার পুলিশের নোটিস এড়িয়েছিলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। টানা পাঁচদিন ‘বেড রেস্টে’র পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। বুধবার পর্যন্ত ছিল অনুব্রতর সেই বিশ্রামের সময়সীমা। তাই বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টে ২৫ নাগাদ তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা চুপচাপ শান্তিকিনেতন এসডিপিও অফিসে হাজিরা দেন। দু’ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
হাজিরা দিয়ে মুচকি হাসি হেসে গটগট করে নিচুপট্টি এলাকায় নিজের পার্টি অফিসে যান অনুব্রত। ততক্ষণে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীবকে চিঠি পাঠিয়ে দেয় জাতীয় মহিলা কমিশন। সেই চিঠিতে লেখা হয়, একজন মহিলার বিরুদ্ধে ওই রকম হুমকি মন্তব্য শুধুই সামাজিক ও মূল্যবোধের অবক্ষয় নয়, বরং এটি একটি ঘৃণ্য অপরাধও। যার ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যয় সংহিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে।
যার অতীতে অপরাধের ছাপ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে এখনও কোনও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি কেন? বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়ে তারা এও জানতে চেয়েছে, যদি একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের পরিবারকে এমন হুমকির শিকার হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাটা কোথায়?
একদিকে অনুব্রতর বিরুদ্ধে কেন যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। অন্যদিকে, তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেই নিয়ে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট চেয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন। রাজ্য পুলিশকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে অনুব্রতর বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের রিপোর্ট পাঠাতে বলেছে তারা।
আইসিকে গালাগালি দেওয়ার অডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বোলপুর পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন যে কেষ্টর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। যৌন হেনস্থা থেকে সরকারি কর্মীকে হুমকি-গালাগালি, একাধিক ধারায় কেষ্টর বিরুদ্ধে স্বতপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। এমনকি, এরপরই অনুব্রতকে বেশ কয়েক বার বোলপুর এসডিপিও অফিসে তলবও করা হয়। কিন্তু অসুস্থতাকে হাতিয়ার করে হাজিরা দেননি তিনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের অসুস্থতা কাটিয়ে পুলিশের সম্মুখীন হন কেষ্ট।


More Stories
দিল্লি গেলেন অভিষেক
সাত-বউ, পাঁচটি রাজপ্রাসাদ শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর টাইগারের!
ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত -নাম না করে মমতাকে বেনজির আক্রমণ শান্তনু সেনের