Home » ‘বাংলায় অনুপ্রবেশ’ই বিজেপির বড় হাতিয়ার’, পিএম-সিএম বিল নিয়েও কড়া বার্তা মোদির! পাল্টা উত্তর দিয়েছে শাসকদল তৃণমূলও

‘বাংলায় অনুপ্রবেশ’ই বিজেপির বড় হাতিয়ার’, পিএম-সিএম বিল নিয়েও কড়া বার্তা মোদির! পাল্টা উত্তর দিয়েছে শাসকদল তৃণমূলও

সময় কলকাতা ডেস্ক:- গত সাড়ে তিনমাসের মধ্যে এই নিয়ে তিনবার বাংলায় আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর বাংলায় এসেই মোদি বলেন, তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। ভোটমুখী বিহার হোক কিংবা বাংলা, মোদির মূল অস্ত্র যে অনুপ্রবেশ, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সকাল বিহারে যে বীজ বপন করে এসেছিলেন, বাংলায় এসে সেই বীজেই কার্যত আরও জল দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মোদি বলেন, এবারে লালকেল্লার সভা থেকে এই বড় উদ্বেগের কথাই বলেছিলেন তিনি।

এখন প্রশ্ন হল, লালকেল্লার সভা থেকে মোদি কী বলেছিলেন ১৫ অগস্ট? অনুপ্রবেশের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেছিলেন, ষড়যন্ত্র করে দেশের জনসংখ্যার বিন্যাস বদলানো হচ্ছে। এর ফলে দেশের যুবকদের রুজি-রোজগার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, বোন-মেয়েদের টার্গেট করা হচ্ছে, জনজাতিদের ভুল পথে চালিত করে তাদের জমি দখল করা হচ্ছে।

এ সব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অনুপ্রবেশ সমস্যা ঠেকাতে নতুন ‘ডেমোগ্রাফি মিশন’ গঠনের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার দমদমের সভা থেকে সেকথাই ফের জানান মোদি।

বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর সমস্যা, এ ব্যাপারে কোনও দ্বিমত নেই।

তবে অনেকের মতে, এই ইস্যুকেই বিজেপি বারবার ব্যবহার করেছে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে। বিজেপি বলছে, পশ্চিমবঙ্গই এই ধরনের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে উর্বর ক্ষেত্র।

তবে এই অভিযোগ প্রথম নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হোক বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ— বারবার তাঁদের বক্তৃতায় উঠে এসেছে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ। আর প্রত্যেকবারই তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কার? বিএসএফেরই তো! তাহলে ব্যর্থ হল কারা?

ফলে বাংলার শাসক-বিরোধী তর্জার মধ্যে অনুপ্রবেশের ইস্যু নিয়ে রাজনীতির ময়দান ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

তবে এর সাথেই সমান্তরালভাবে যা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে তা হল দুর্নীতি বিরোধী বিল। শুক্রবার বিহারের মতোই বাংলায় দাঁড়িয়েও দুর্নীতি বিরোধী বিলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মোদি। টিএমসি নেতা-মন্ত্রীদের দুর্নীতি-ঘোটালা নিয়ে বাংলাবাসীকে সতর্ক করে দেন মোদি।

যদিও, এই দুর্নীতির ইস্যুতেই প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা নিশানা করে তৃণমূলও। কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজারা সাংবাদিক বৈঠক থেকে নারদার ফুটেজ দেখান। কার ফুটেজ – শুভেন্দু অধিকারীর। যিনি এখন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা, বিরোধী দলনেতা।

তৃণমূলের কটাক্ষ, যাদের বিরুদ্ধে বিজেপি নিজেই অভিযোগ তুলে এসেছে তাদের অনেকেই আজ সেই দলে। অভিযুক্তরাই তদন্ত থেকে বাঁচতে বিজেপিতে গিয়েছে। আর শুক্রবার তাদের সামনেই মোদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন।

আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। শাসক-বিরোধী এই তর্জার মাঝেই ভোটের উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে বঙ্গ রাজনীতিতে। ৩৯ মিনিটের ভাষণে মোদি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যারা জেলে যাবে, তারা পদে থাকতে পারবে না। এক তিরে কংগ্রেস, তৃণমূল সব বাকি বিরোধীদের বেঁধেন মোদি।

এদিকে, তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্র থেকে শুরু করে যে সমস্ত রাজ্য ডবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে সব জায়গায় দুর্নীতি, অপশাসন, নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রেই তৃণমূল কার্যত চ্যালেঞ্জের সুরে বলে, বাংলায় মোদি যতবার আসবেন, তৃণমূলের আসন সেই অনুপাতে বাড়বে। ফলে এটা কার্যত স্পষ্ট, ভোটমুখী বাংলায় উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।

About Post Author