Home » রাহুলের ‘মহাসভায়’ নাও থাকতে পারেন মমতা-অভিষেক! কংগ্রেসকে বাড়তি গুরুত্ব নয়! সভায় প্রতিনিধি পাঠিয়েও বুঝিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল

রাহুলের ‘মহাসভায়’ নাও থাকতে পারেন মমতা-অভিষেক! কংগ্রেসকে বাড়তি গুরুত্ব নয়! সভায় প্রতিনিধি পাঠিয়েও বুঝিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল

সময় কলকাতা ডেস্ক:- দিল্লির জমজমাট নৈশভোজে এক ফ্রেমে ধরা পড়েছিলেন রাহুল গান্ধি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ছবিই ক’দিন আগে ইন্ডিয়া ব্লকের ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু মাত্র দু’সপ্তাহ যেতে না-যেতেই ছবিটা যেন পালটে গেল। আগামী ১ সেপ্টেম্বর, পাটনায় রাহুলের ভোট অধিকার যাত্রার মহাসমাপ্তি অনুষ্ঠানে যখন অখিলেশ যাদব, এমকে স্তালিনের মতো ইন্ডিয়া ব্লকের বড় নেতারা উপস্থিত থাকবেন, তখন অনুপস্থিত থাকতে পারেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে প্রতিনিধি পাঠাবে বাংলার তৃণমূল কংগ্রেস। তবে কাকে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। তবে সূত্রের খবর, তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ‘বিহারী বাবু’, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ।

বিহার থেকে উঠে আসা শত্রুঘ্ন সিনহা বর্তমানে আসানসোলের সাংসদ৷ তবে শুধু শত্রুঘ্ন সিনহাই নন, শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষকেও প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হতে পারে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলের সর্বভারতীয় সাধারাণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে।

তবে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি নিজে মমতা ও অভিষেককে বিহারের যাত্রায় অংশ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাই তৃণমূল যে প্রতিনিধি পাঠাবে, তা একশো শতাংশ নিশ্চিত বলে জানা গিয়েছে। আসলে, কংগ্রেসের সঙ্গে সংসদে তৃণমূল ইস্যুভিত্তিক সমন্বয় রক্ষা করে চললেও ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে তাদের যে স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে, সে বিষয়টি আগেই তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তা বাংলা-বাঙালি ইস্যুতে আলাদা প্রতিবাদ হোক বা সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে তীব্র বিরোধিতা। ইন্ডিয়া জোটে থাকলেও তৃণমূল যে কংগ্রেসের জোট শরিক নয়, তা বারবারই বলে থাকেন তৃণমূলের নেতারা।

তাই সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা তথা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনরা বিহারের যাত্রায় সশরীরে হাজির থাকলেও, তৃণমূল প্রতিনিধি পাঠিয়েই সমন্বয় রক্ষা করবে বলে ঠিক করেছে। আসলে বাংলায় কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে বরাবরই তেতো সম্পর্ক তৃণমূল কংগ্রেসের। গত বছর রাহুল গান্ধির সফরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

ওই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়েছিল জোটের ভিতরে আস্থার সংকট রয়েছে। এবার বিহারের সভায় মমতা-অভিষেকের অনুপস্থিতি সেই সংকটকে ফের সামনে আনতে চলেছে। তবে তৃণমূলের দাবি, এ সব জল্পনা অমূলক। বাংলায় বিজেপিকে প্রতিরোধ করাই এখন দলের প্রথম লক্ষ্য।

সেই লক্ষ্যেই মমতা-অভিষেকের রাজ্যে থাকা জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক মহল এই যুক্তি মানতে নারাজ।

তাঁদের মতে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ঐক্যের ছবিতে বড় ফাঁক থেকে যাবে তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতে।

ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের আসন্ন মহাসভায় তৃণমূলের কণ্ঠস্বর কে তুলে ধরবেন ?

এদিকে আবার শিব সেনার উদ্ধব গোষ্ঠীও তৃণমূলের মতোই প্রতিনিধি পাঠাতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। শিব সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে নিজে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। আবার আম আদমি পার্টর প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিহারের যাত্রাতে যাবেন না। আপের তরফে প্রতিনিধি পাঠানো হবে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।

কারণ, আপ এখন আর ইন্ডিয়া জোটে নেই। কংগ্রেসের থেকে তারা দূরত্ব বজায় রাখার পক্ষপাতী। আসলে কংগ্রেসকে জমি ছেড়ে দিতে বিরোধী শিবিরের অনেকেই নারাজ। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মতো বৃহত্তর স্বার্থে ইন্ডিয়া জোটে থেকে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ালেও, বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।

তাতে সব ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে না। তবে এসবের মাঝেই তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তে এটা স্পষ্ট যে দিল্লিতে ‘দোস্তি’, বাংলায় ‘কুস্তি’। আর এই নীতিতে আপাতত কোনও বদলই নেই। বছর ঘুরলেই আরও একটা বিধানসভা নির্বাচন। স্বাভাবিক নিয়মেই লড়বে শাসক-বিরোধী।

About Post Author