Home » বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ বারাসাতে কোথায় আসতেন?

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ বারাসাতে কোথায় আসতেন?

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময়কলকাতা: বাংলার পথে প্রান্তরে নবাবী আমলকে জড়িয়ে রয়েছে অনেক জানা অজানা ইতিহাস। শুধু নবাবী বা বাদশাহী আমল নয়- প্রাচীন ঐতিহ্য কিছুক্ষেত্রে সংরক্ষণ হয়,কিছু ক্ষেত্রে হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জনশ্রুতি ও লোকপরম্পরা মেনে ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে আনার প্রচেষ্টা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।এমনই এক ইতিহাস জড়িয়ে আছে বারাসাতের সিরাজ উদ্যানে। নবাব সিরাজ কি আসতেন বারাসাতে?

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা বহুবার এসেছেন বারাসাতে,কাটিয়েছেন বহু সময় ।তাঁর লোকলস্কর বা সেনাবাহিনী নিয়ে যাওয়ার পথে নবাব বিশ্রাম নিতেন বারাসাতে। অন্তত কিংবদন্তী তাই বলে। তাঁর বিশ্রামের এলাকা ও সেনা ছাউনি পড়ত বারাসাতের হাতিপুকুরে।সিরাজের সাধের বারাসাতে হালে তৈরী হয়েছে তাঁর নামাঙ্কিত প্রমোদ উদ্যান। সিরাজের স্মৃতি সম্বলিত উত্তর চব্বিশ পরগণার সদরশহর বারাসাতের হাতিপুকুরের অতীত বর্ণময়। ইতিহাস ও আধুনিকতার মিশেলে সিরাজউদ্যান হয়ে উঠেছে জেলা তথা রাজ্যের দর্শনীয় এক প্রমোদকানন।

ইংরেজ দের সাথে সংঘাত তীব্রতর আকার নেওয়ায় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদৌলা ১৭৫৬ সালে কাশীমবাজার কুঠি লুঠ করে আনুমানিক ৫০ হাজার সেনা নিয়ে কলকাতা আক্রমণ করার লক্ষ্যে এগোতে থাকেন। সব সৈন্য নিয়ে তিনি কলকাতা যান নি। ঐতিহাসিক লো বলেছেন -প্রায় চল্লিশ হাজার সৈন্য ও প্রচুর সংখ্যায় হাতি তিনি রেখে যান বারাসাতে। বারাসাতে হয় নবাবের সেনাদের সাময়িক ডেরা। নবাবের বাহিনীতে প্রচুর সংখ্যায় হাতি ছিল ফলে নবাবি ছাউনি যেখানে ছিল তার নাম হয়ে ওঠে হাতিপুকুর। এখনও উত্তর চব্বিশ পরগণার জেলা শাসকের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকাকে বারাসাতের প্রাচীন মানুষ হাতিপুকুর নামেই চেনেন। আর ইতিহাস বিজড়িত হাতিপুকুরে বছর চারেক আগে বারাসাত পৌরসভার তত্ত্বাবধানে ও সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে রমনীয় সিরাজ উদ্যান।

প্রায় বছর পাঁচেক আগে সূচনা হওয়া সিরাজ উদ্যান কে নিয়ে রয়েছে বিতর্ক,রয়েছে কিছু প্রশ্ন। সিরাজ উদ্যান নামকরণ নিয়ে শাসক দলের বিরোধীরা বহুবার প্রশ্ন তুলেছিলেন।ফরোয়ার্ড ব্লক নেতা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় নাম নিয়ে ঘোরতর আপত্তি তোলা ছাড়াও বলেন, ভাবনার রূপায়ণ করতে শুরু করেছিলেন স্থানীয় বামফ্রন্ট নেতৃত্ব।এই তত্ব মানতে নারাজ তৃণমূল।সিরাজের নাম যে প্রমোদ কাননের সঙ্গে জুড়ে আছে তার প্রেরিত হস্তী বাহিনীর জন্য তা জানিয়ে বিষয়টি প্রশ্নের উর্দ্ধে জানিয়ে দিয়েছেন বারাসাত তৃণমূল জেলা কংগ্রেসের সভাপতি অশনি মুখোপাধ্যায়।ইতিহাসবিদ সুজন ভট্টাচার্য ও বলেছেন, সিরাজ উদ্যানের ঐতিহ্য অতি প্রাচীন। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে ওঠা বিতর্কে কান না দিয়ে সিরাজ উদ্যানকে আরও ঢেলে সাজাতে চান বারাসাত পুরসভার মুখ্য প্রশাসক সুনীল মুখোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক কচকচানিকে সরিয়ে রাখলে বলা যেতে পারে সিরাজ উদ্যান সংস্কৃতিতে জেলা ও রাজ্যের এক উজ্জ্বল ক্ষেত্র।
উল্লেখ্য,সিরাজ উদ্যানের মধ্যে রয়েছে টয় ট্রেন, শোভা বাড়িয়েছে বিভিন্ন ধরণের ফুলের গাছ। রয়েছে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সহ আধুনিক প্রযুক্তি।এতদসত্বেও একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ঐতিহাসিক এই স্থানে প্রযুক্তির সাথে কেন মিশেল হবে না ইতিহাসের উপাদান ও তথ্য সম্বলিত সংগ্রহশালা?আর্কইভ ও অডিটরিয়ামের জন্য স্থানীয় নেতৃত্বের আকুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয় নি।ছাত্র ও গবেষকদের জন্য প্রামাণ্য উপাদানের অভাব সিরাজ উদ্যানের দৃষ্টিনন্দন জমকালো আলোকমালার মধ্যে একবিন্দু অন্ধকার।

About Post Author