Home » ডান হাতে দশটি সেলাই মাধ্যমিক ছাত্রীর, পরীক্ষা কি দিতে পারল?

ডান হাতে দশটি সেলাই মাধ্যমিক ছাত্রীর, পরীক্ষা কি দিতে পারল?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ খাকি পোশাকের আড়ালে একজন মানুষ থাকে। সেই মানুষটির মানবিক রূপ আমরা হয়ত আমরা অনেক সময়ই  চোখ এড়িয়ে যায়।  অযথা পুলিশ সম্পর্কে দোষারোপ করি। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে পুলিশতো আইনের রক্ষক। সেই পুলিশ কর্মীও তো কোন একজনের বাবা অথবা কারোর স্ত্রী আবার কোন মা বাবার সন্তানও।সুতরাং তাদেরও অন্তরে মানবিকতা আছে, আর সেই মানবিকতার জ্বলজ্যান্ত উদাহরন রামপুরহাট থানার সাব-ইন্সপেক্টর রমেশ সাহা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত এক মাধ্যমিক ছাত্রীকে পুলিশের গাড়িতে করে রামপুরহাটের শরদিন্দু বিদ্যায়তন ভেনুতে পৌঁছে দিলেন শুধু মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষায় যাতে সেই ছাত্রী বসতে পারে।রামপুরহাট থানার কুসুম্বা স্কুলের ছাত্রী রুনি খাতুন কিছুদিন আগে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে তার ডান হাতে দশটি সেলাই পড়ে। এবারে সে পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা সেই নিয়ে ছিল সংশয় । তার  সেন্টার পড়েছে রামপুরহাট শরদিন্দু বিদ্যায়তনে। পরীক্ষার প্রথম দিন সে ও তার অভিভাবক কুসুম্বা স্কুলে পৌঁছায় এবং পরীক্ষার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহাশয়দের বলেন । কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে নিজ দায়িত্বে সেন্টারে পৌঁছাতে বলে । কিন্তু সেই মুহূর্তে তার সেন্টারে পৌঁছানো সময় সাপেক্ষ ছিল। ঘটনার খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার সাব-ইন্সপেক্টর রমেশ সাহা  তড়িঘড়ি মেয়েটিকে পুলিশের গাড়িতে করে রামপুরহাটের শরদিন্দু বিদ্যায়তন ভেনুতে পৌঁছে দেন। পুলিশ তাকে গাড়িতে করে না নিয়ে এলে পরীক্ষার সময় পেরিয়ে যেত এবং সে হয়তো পরীক্ষায় বসতে পারত না। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে তার সিটে বসিয়ে দিলেও সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। তখন তার ডান হাত দুর্ঘটনাগ্রস্ত থাকায় সে লিখতে পারবে না। অগত্যা সে যাতে অন্য কোনো লেখকের সাহায্য নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারে তার জন্য স্কুলের তরফ থেকে ব্যবস্থা করা হয়। যোগাযোগ করা হয় তার কুসুম্বা স্কুলে। ঘটনার খবর জানানো হয় রামপুরহাটের মহকুমা শাসক সাদ্দাম নাভাসকেও।তারপরই  অত্যান্ত তৎপরতার সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরীক্ষার  ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রশাসন। এদিকে রামপুরহাট থানার সাব ইন্সপেক্টর রমেশ সাহার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রত্যেকে।  তিনি ওই ছাত্রীকে পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে এসে সেন্টারে পৌঁছে না দিলে ওই ছাত্রী হয়ত পরীক্ষাই দিতে পারত না।  পুলিশের এই মানবিক মুখ আবারো প্রমাণ করে দিল রামপুরহাট থানার পুলিশ মানুষের পাশেই মানুষের সঙ্গেই রয়েছে । এর জন্য পরিবারের তরফ থেকে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিকরা রামপুরহাট থানার সাব-ইন্সপেক্টর রমেশ সাহার প্রশংসা করেন সঙ্গে ধন্যবাদ জ্ঞাপনও করেন।

 

 

About Post Author