Home » ফের অচলঅবস্থা বিশ্বভারতীতে, অধিকাংশ ভবনে তালা

ফের অচলঅবস্থা বিশ্বভারতীতে, অধিকাংশ ভবনে তালা

জয়ন্ত দাস, সময় কলকাতা বীরভূম: ফের অচলঅবস্থা বিশ্বভারতীতে। সোমবার সকাল থেকেই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবনে তালা ঝুলছে।ফলে ক্লাস করতে এসেও ক্লাস না করেই ফিরতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের।ভবনগুলিতে তালা থাকায় এদিন ছাত্রছাত্রীদের মতো শিক্ষক শিক্ষিকারাও ভবনগুলিতে ঢুকতে পারেন নি।তাঁরাও এদিক ওদিক চায়ের দোকানে বসে সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।কে বা কারা ভবনগুলিতে তালা লাগাল তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষ বলেন, এই বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, ছাত্রাবাস খোলা, অফলাইনে পরীক্ষা নেওয়া সহ তিনটি দাবিতে আধিকারিকদের আটকে রেখে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে লাগাতার আন্দোলনে নামেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা।ওই ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। আদালতের নির্দেশে আধিকারিকরা ঘেরাও মুক্ত হন।আদালত দ্রুত ছাত্রাবাস খোলার নির্দেশ দিলেও এখন অধিকাংশ ছাত্রাবাস খোলেনি।পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের দাবি, কর্তৃপক্ষ না মানায় তারা পরীক্ষা বয়কটও করেছে।এরই মাঝে আচমকা বিভিন্ন ভবনে তালা পড়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ফলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে এসে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরাও। রাখি বিশ্বাস নামে এক অভিভাবক বলেন, সোমবার ক্লাস হবে জেনেই মেয়েকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি সব ভবন তালাবন্ধ। এভাবে আর কতদিন ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ থাকবে।

এদিনও নিজেদের দাবিকে সামনে রেখে বিশ্বভারতী বিশ্ব বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে জড়ো হয় ছাত্রছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, ছাত্রাবাস না খুলে আদালতের নির্দেশের অবমাননা করছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশের পরেও কর্তৃপক্ষ ছাত্রাবাস খোলেনি যা আদালত অবমাননার সামিল। তাছাড়া ছাত্তছাত্রীদের দাবিগুলিকেও এখনও পর্যন্ত তাঁরা মান্যতা দেননি। তাই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছি। অন্যদিকে ছাত্রাবাস খোলার দাবিতে সোমবার সকাল থেকে বিশ্বভারতীর উপচার্যের বাসভবন পূর্বিতা সামনে বসে অবস্থান বিক্ষোভ।এবিভিপি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা  উপচার্যের বাসভবনের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে নামেন।

ছাত্রছাত্রীদের একাংশ ও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের জেদাজেদির কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে পড়ুয়াদের। নিজেদের জেদ বজায় রাখতে আর কতদিন এভাবে পড়াশোনা লাটে উঠে থাকবে কবিগুরুর বিশ্বভারতীতে প্রশ্ন পড়ুয়াদের একাংশের।

 

 

 

About Post Author