Home » প্রদীপে খড়্গহস্ত ” অভিমানী” হিরণ

প্রদীপে খড়্গহস্ত ” অভিমানী” হিরণ

সময় কলকাতা ডেস্ক : খড়্গপুরে পুরবোর্ড তৃণমূল গড়লে কী হবে, বিজেপি বিধায়ক ও নবনির্বাচিত কাউন্সিলর  হিরণ নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকারকে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসতে দিতে নারাজ। কোনওভাবেই মন থেকে মানতে না পেরে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে বিঁধতে উদ্যত হিরণ কি  ঈষৎ “অভিমানী” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি?

তৃণমূল শাসনে খড়্গপুরের দশা এবং শ্মশানতত্ত্ব আরও একবার বিজেপি বিধায়ক তথা অধুনা কাউন্সিলার হিরণের গলায়।খড়্গপুর পুরসভার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকারের ওপরে খড়্গহস্ত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ওপরে ক্ষোভ মিশ্রিত অভিমানই যেন উগরে দিলেন হিরণ। এগারোমাস আগে বিধায়ক প্রার্থী হয়ে ভোট প্রচারের সময়ে হিরণ তৃণমূল শাসনে শ্মশানের সঙ্গে তুলনায় খড়্গপুরকে টেনেছিলেন, বিধায়ক হওয়ার পরে কাউন্সিলার হয়ে একইভাবে খড়্গপুরের অবস্থাকে তুলে ধরলেন। আক্রমণের অভিমুখ এবার যেন সম্পূর্ণ হয়েছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরে যেন অভিমানের সুরেই ক্রমশই স্বর চড়িয়েছেন পুরবোর্ডের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকারের বিরুদ্ধে ।কিছুতেই মানতে পারছেন না প্রদীপ সরকারের হাতে খড়্গপুর পুরসভার রাশ থেকে যাওয়ার বিষয়টি । বিদ্রুপ আর ব্যঙ্গ  দিয়ে বারংবার চেয়ারম্যানকে আক্রমণ করেছেন হিরণ।

“ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো আড়াই কোটি টাকা ফেরত উনি দিয়েছিলেন! তাতেই হয়তো খুশি হয়ে তাঁকে ফের চেয়ারম্যান করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি, ১০ কোটি যা আসবে, সবটাই উনি ফেরত পাঠাবেন। তাতেই হয়তো খুশি হবেন মুখ্যমন্ত্রী! তবে, ক্ষতি হবে আপামর খড়্গপুরবাসীর। খড়্গপুর শ্মশানে পরিণত হবে।  ওদের দলেরই ১৩ জন কাউন্সিলর ওঁর বিরুদ্ধে ছিলেন। যাই হোক, তাঁর দলের দলনেত্রী যা ভালো বুঝেছেন, তাই করেছেন। ওদের দলীয় বিষয় নিয়ে বলার কিছু নেই। তবে, আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব,,” বুধবার কাউন্সিলর হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এভাবেই খড়্গপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকার-কে তুলোধোনা করলেন বিজেপি বিধায়ক তথা ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণ। যদিও, ভেতরে শপথ গ্রহণের পর ‘সৌজন্য’ তুলে ধরতে প্রদীপ-কে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি! সরাসরি শুভেচ্ছা যাই হোক, ভেতরের যন্ত্রনা অব্যক্ত থাকে নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে প্রদীপ সরকার আবার চেয়ারম্যান হওয়ায় তৃণমূলে তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর কিছু কাউন্সিলর যে ‘অখুশি’। এই সংখ্যা নাকি অশুভ ১৩।তবে, তাঁরা ক্যামেরার সামনে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারছেন না তৃণমূলের দলীয় অনুশাসনের কারণেই। আর, তৃণমূলের এই ১৩-৭ ‘ফাটল’কে স্মরণে রেখেই, প্রদীপের সবথেকে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দী হিরণ তাঁকে তুলোধোনা করতে ছাড়লেন না! তবে, হিরণ-কে তুলোধোনা করলেও, তাঁর বক্তব্যের পরতে পরতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ‘অভিমান’ যেন ঠিকরে বেরিয়েছে! আসলে, হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণ-এর চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে একদিকে যেমন জল্পনা ছড়িয়েছিল, ঠিক তেমনই প্রদীপ সরকার-ই যে তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর সবথেকে বড় প্রতিপক্ষ সেটাও হিরণ ভালো করে জানেন। তাই, প্রদীপ-কে যেন কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না হিরণ! একটা সময় জল্পনা ছড়িয়েছিল, প্রদীপ বিরোধী ১৩ জন কাউন্সিলর নাকি প্রয়োজনে হিরণ-কেও চেয়ারম্যান মেনে নিতে রাজি। সেক্ষেত্রে হিরণকে তৃণমূলে যোগদান করতে হত। এনিয়ে গুঞ্জনও ছড়ায়। অবশেষে সে সম্ভাবনা খারিজ করে গুঞ্জনকে নিজেই কয়েকদিন আগে উড়িয়ে দেন হিরণ।তথাপি ঘটনা-পরম্পরায় প্রদীপ-কে যেন কোনোমতেই চেয়ারম্যান মেনে নিতে পারছেন না হিরণ! আর, সেক্ষেত্রে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী’র প্রতিও হিরণের ‘অভিমান’ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, হিরণকে কটাক্ষ করে প্রদীপ প্রত্যুত্তরে জানিয়েছেন, “উনি কোন দলে আছেন সেটাই কেউ জানেনা! বিজেপির ১০ টা লোকও ওর সঙ্গে নেই, ওকে বিশ্বাস-ই করেনা। নিজের দলেই যার গ্রহণযোগ্যতা নেই, সে কোন মুখে অন্যের সমালোচনা করে!” রাজনৈতিক আক্রমণ -পাল্টা আক্রমণ, ক্রমবর্ধমান তরজা,হিরণের দেওয়া শ্মশান তত্ত্ব, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর বিরোধী দলে থেকেও হিরণের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ‘অভিমান’ – সবমিলিয়ে পুরবোর্ড গঠন হওয়ার পরেও সরগরম খড়্গপুর।।

About Post Author