সময় কলকাতা ডেস্ক : সমাজ বা ধর্মকে বর্ম করে আইন ভাঙার খেলা চলছেই।এখানে তাই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে নারীনির্যাতনে বা ধর্মীয় সংবেদনশীলতায় মৌন থাকার ।এখানে আইনরক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনকে মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।এখানে তাই দুষ্কৃতীরা বাড়ির দরজা ভেঙে প্রকাশ্যে মহিলাকে জোর করে টেনে নিয়ে গেলে প্রতিবাদ করার কেউ থাকে না। এরকমই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠছে বৌবাজার থানা এলাকায় যেখানে স্বেচ্ছায় স্বামীর ঘর ছেড়ে আসা হাওড়ার মহিলাকে অপহরণের কায়দায় দরজা ভেঙে টেনে নিয়ে চলে যায় একদল দুষ্কৃতী। ভিডিও ফুটেজে অভিযোগের সত্যতা মিললেও বৌবাজার থানার পুলিশ আছে শীতঘুমে।
ভারতীয় সংবিধান যখন পরিষ্কার করে বলছে -স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসে স্বামীকে স্ত্রীর সম্মতি নিতে হবে সেখানে অভিযোগ উঠছে যে,স্বামীর সঙ্গে থাকতে অনিচ্ছুক স্ত্রীকে জোর করে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। আবার মানবিকতার স্বার্থে সেই অনিচ্ছুক স্ত্রীর আশ্রয়দাতাকে নিগ্রহ বা আশ্রয়দাতার বাড়ি ভাঙচুর করতে ছাড়ছেন না কিছু মানুষ। অভিযোগ,আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাঁরা মহিলাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন স্বামীর ডেরায়।এত কিছু করার পরে কৌশল করে বিষয়টির ওপরে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ধর্মের আস্তরণ। আর আইন হাতে তুলে নেওয়া দুষ্কৃতীরা বহাল তবিয়তে ঘুরছে প্রকাশ্যে। অথচ এরকম এক ক্ষেত্রে আইন ভাঙা হলেও অভিযোগ নিতে রাজি হল না বৌবাজার থানার পুলিশ। নারীদের সমাজে স্থান, নারীদের জন্য তৈরি আইনের প্রয়োগে আইনরক্ষকদের ঢিলেমিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল খাস কলকাতার বুকে রবিবার ঘটে যাওয়া এক ঘটনা।
ঘটনাটির একাধিক অভিমুখ রয়েছে । হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানা এলাকায় স্বামীর অত্যাচারে জর্জরিত ছিলেন সন্ধ্যা মাঝি। স্বামীর কাছে থাকবেন না বলায় তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন বৌবাজারের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম মোল্লা। অন্তত মনিরুল ইসলাম মোল্লা তেমনটাই দাবী করছেন। পাশাপাশি,স্বামীর কাছে ফেরার বিষয়ে স্ত্রীর আপত্তি পরিষ্কার হয়ে যায় দম্পতি আদালতে প্রাথমিক ভাবে যাওয়ার পরেই।স্বামী বুঝে যান স্ত্রীকে আইন মোতাবেক বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তুরূপের তাস তাঁর হাতে নেই। এসময় মনিরুলের বৌবাজারের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন সন্ধ্যা মাঝি।রবিবার ঘটনা অন্য খাতে মোড় নেয় যখন একদল দুষ্কৃতী বৌবাজারে মনিরুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে এসে সন্ধ্যা মাঝিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।অভিযোগ, দুষ্কৃতী দল প্রথমে মনিরুলের বাড়ির দরজা ভেঙে ঢোকে অতঃপর ঘরে ভাঙচুর চালায়। এরপরে তারা মনিরুলকে মারধর করে বলেও অভিযোগ। সন্ধ্যা মাঝিকে টানতে টানতে তাঁরা নিয়ে যায় ও একটি গাড়িতে করে সরে পড়ে।ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজে সমস্ত ঘটনাই ধরা পড়েছে।মনিরুল ইসলাম মোল্লা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা মাঝি কে তাঁর ডেরা থেকে অপহরণের কায়দায় জোর করে তুলে নিয়ে জগৎবল্লভপুরে স্বামীর কাছে দিয়ে আসে খুনীরা।
মনিরুল ইসলাম মোল্লা প্রশ্ন বলেছেন, তিনি যা করেছেন তা আইন মেনে করেছেন । যা করেছেন মানবিকভাবে করেছেন। তিনি মুসলমান ধর্মাবলম্বী হলেও মানবিকতার স্বার্থে স্বামীর কাছে থাকতে নারাজ এক হিন্দু মহিলাকে আশ্রয় দান করেছেন। কী অন্যায় তাঁর যে তাঁকে নিগ্রহের শিকার হতে হ’ল তা বুঝতে পারছেন না মনিরুল ইসলাম মোল্লা। তিনি আরও বিস্মিত,পুলিশ প্রশাসন কেন তাঁর অভিযোগ নিতে চাইছে না?


More Stories
স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ, সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন