সময় কলকাতা ডেস্কঃ “পুলিশ, কবিকে দেখে টুপিটা তুই খুলিস”- মজা করে বিদ্রুপের ছলে বলেছিলেন তুষার রায়। পুলিশকে দলদাস বলাও হাল সময়ে রীতি। অথচ যে পুলিশ বিনিদ্র রাস্তায় জাগে, যে পুলিশ হাসপাতালে গভীর রাতে ছুটে যায় করোনা রোগীকে নিয়ে তাঁদের নিয়ে বীরগাথা লেখা হয় না। বড়জোর সংবাদমাধ্যমে লেখা বা বলা হয় পুলিশের মানবিক মুখ। যেন পুলিশ সাধারণভাবে ঠিক মানবিক হতে পারেন না। তাঁদেরও পুত্র-কন্যা,পিতা মাতা আছে তা যেন আফিম খাইয়ে ভুলিয়ে রাখা হয়। তাঁদের হৃদয় যে নিষ্পাপ বালিকার কান্নায় কেঁদে ওঠে তা জানার প্রয়োজন রাখে না আমজনতা। তবুও কোনও এক বালিকার জন্য দেবদাস বিশ্বাসের মত পুলিশ আধিকারিকের উদ্যোগ বিশ্বাস জন্মাতে বাধ্য করে যে পুলিশ সর্বাগ্রে মানুষ। পুলিশের মনের গভীরেও রয়েছে মানুষ হয়ে মানুষের জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা। তাই পুলিশ স্নেহ বিতরণ করার ক্ষেত্রেও হয়ে ওঠে অনন্য।
গায়ে পুলিশের উর্দি, মাথায় অশোক স্তম্ভের টুপি- কোমরে পিস্তল নিয়ে থানার বড়বাবু যাচ্ছেন সাইকেল চড়ে।ছবিটি দেখে প্রথমে অবাক হয়েছিল রাস্তার পথচলতি মানুষজন । কেউ ভেবেছিলেন দুষ্কৃতী ধরতে পুলিশের এই ভূমিকা,কেউ বা ভেবেছেন সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফের নতুন কোনো কর্মসূচি,কেউ আবার বলেছেন বড়বাবুর শরীর পরিচর্যার অঙ্গ সাইকেল চালনা।প্রকৃত ঘটনা অন্য এবং অনন্য।
সূত্রের খবর,কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় থেকেই তানিয়া আফরিন নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর সাইকেল খোয়া যায়। মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার অন্তর্গত নিমা বাহাদুরপুর উচ্চ হাই স্কুলের ছাত্রী তানিয়া ভেঙে পড়ে এই ঘটনায় ।মুলত হারিয়ে যাওয়া সাইকেলটির জন্যেই বন্ধ হয়ে যেতে বসে অত্যন্ত মেধাবী ও দুস্থ পরিবারের এই ছাত্রীর পড়াশোনার পাট ।।বাড়ি থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে স্কুল ও টিউশন থাকায় পড়তে আসতে না তানিয়া ।এমনকি ১৮ বছরের আগেই পরিবার থেকে তার বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল ।আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তা পৌঁছায় বড়ঞা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দেবদাস বিশ্বাসের কাছে ।অন্তরের কোনও এক প্রান্ত থেকে উদ্যোগী হওয়ার ডাক আসে তাঁর আছে ।তাই দেরি না করে রবিবার ছুটির দিনে বাজারে গিয়ে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে একটি সাইকেল কেনেন।আর সেই সাইকেল চালিয়ে তানিয়ার বাড়িতে পৌঁছে যান পুলিশ আধিকারিক স্বয়ং ।সেখানে গিয়ে তানিয়ার কান্না ভরা চোখের জল মুছিয়ে সাইকেলটি তানিয়ার হাতে তুলে দেন।এমনকি তার পাশে থাকার এবং পড়া চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, ভরসা ও আশ্বাস ছাড়াও নির্দিষ্ট বয়সের আগে বিয়ে বন্ধের নিশ্চিত বার্তা দিয়ে আইনি কর্তব্য পালন করেন। পুলিশ কাকুর কাছে বড্ড ভরসা পেল খুদে মেয়েটি।

প্রসঙ্গত,রাজ্যজুড়ে বেশকিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ভূমিকার প্রশ্ন উঠছে একাধিকবার।সেখানে এই পুলিশ অফিসারের এহেন মানবিক উদ্যোগে খুশি পড়ুয়া সহ তার মা বাবাও।যদিও এই বিষয়ে দেবদাস বিশ্বাস জানিয়েছেন, মানুষের পাশে থাকার জন্য তিনি যা যা করেন তা সুনামের প্রত্যাশী না হয়ে অন্তরের টানে করেন।এক্ষেত্রেও তেমনটাই করেছেন।পুলিশ তাই সর্বাগ্রে মানুষ। তাই, ‘কেবল মানুষই এই মানুষের চিরদিন বাঁচার সাহস’ – কবি তো এমনও বলেছেন যা আজ পুলিশের জন্যও সুপ্রযুক্ত।


More Stories
কলাগাছের ভেলায় স্কুলের পথে পাড়ি, ঘটতে পারে দুর্ঘটনা, নির্বিকার প্রশাসন
সর্প আতঙ্ক গ্রাস করছে ধূপগুড়িকে
আয়ুষ-দীপককে বুক দিয়ে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি আইসি সুবলের