সময় কলকাতা : অর্থাভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের চিকিৎসা করাতে পারেননি বাবা-মা। আর তার বিকল্প হিসেবে ছেলের পায়ে শেকল বেঁধে দিয়েছেন তারা। এমনই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের বংগী এলাকার পদ্মপুকুর পাড়ায় । দীর্ঘ কয়েকমাস ধরেই এই চিত্র দেখছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু নজরে পড়েনি প্রশাসনের। অভাব অনটনের মধ্যেও পরিবারের লোকের একটি মাত্র ইচ্ছে চিকিৎসার মাধ্যমে ছেলে ফিরে পায় শেকল মুক্ত জীবন।।

বালুরঘাট শহরের বংগী এলাকার পদ্মপুকুর পাড়ায় গেলেই নজরে পড়বে সরু গলির মধ্যে বাড়ির বাইরে নারায়ণ দাস নামে এই যুবকের পায়ে বাঁধা রয়েছে লোহার শেকল। চলাফেরা করার সময় ভীষণ কষ্ট হয় তার, কিন্তু বাবা মা নিরুপায়। শিকল বাঁধা পায়ে ইতিমধ্যেই কালশিটে পড়ে গিয়েছে। জীবনের প্রথম দিকটা ঠিক এমন ছিলনা। বাপি একটা সময় আর পাঁচজন ছেলেদের মতই বড় হয়ে উঠছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পাল্টে যায় তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। মানসিক রোগ ধরা পড়ে তার।জমানো সঞ্চয়ের ভরসায় প্রথমে স্থানীয় ভাবে ছেলের চিকিৎসা করান পেশায় টোটো চালক বাবলু দাস । কিন্তু পরবর্তী সময়ে টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যায় চিকিৎসা। ফলে দিনকে দিন বাড়তে থাকে তার মানসিক রোগ। বাধ্য হয়েই ছেলের পায়ে লোহার শেকল আটকে দেন পরিবারের সদস্যরা।

পেশায় টোটো চালক বাবলু দাস বলেন গত কয়েক মাস ধরে পাড়া-প্রতিবেশীদের যাতে কোন ক্ষতি না হয় বা ছেলে আপন মনে দূরে কোথাও চলে না যায় ।সে জন্যই বাধ্য হয়েই শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি। সামান্য টোটো চালিয়ে পরিবারের খরচ চালিয়েও ছেলের চিকিৎসা করিয়ে ছিলাম একটা সময়। কিন্তু এখন হাতে পয়সা নেই। অনেকের কাছে গেছি যদি ছেলের একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করিয়ে তার সাহায্যে বাইরে গিয়ে ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে পারি। কিন্তু সাহায্যের আবেদন করেও পাই নি।সরকার বা কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সহযোগীতা করলে ছেলেটাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারব। না হলে কি যে করব ভেবে পাচ্ছি না।
অন্যদিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত স্থানীয় কাউন্সিলর পরিমলকৃষ্ণ সরকার জানান , ‘আমার কাছে কেউ আসেনি। এলে তিনি তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করবেন। চিকিৎসার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন।


More Stories
চিকিৎসক বিরুপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা সরকারের
দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বিপদ,সৌগত রায়কে লক্ষ্য করে উড়ে এল পচা ডিম
হর্ষ-বিষাদে পালিত ঈদ-উল-আযহা