সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক : উইং দিয়ে প্রচন্ড গতিতে বক্সে ঢুকে পড়তেন তিনি, পায়ে ছিল গোলার মত শট আর গোল করে সামার সল্ট দিতেন তিনি।তাঁর জার্সি ছিঁড়েও তাঁকে আটকানো যেত না। চিবুজোরকে এভাবেই দেখেছে আশির দশকের কলকাতা ময়দান। ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান বা মোহনবাগানের সাথে জড়িয়ে আছে তাঁর বহু স্মৃতি।৫৭ বছর বয়সে,বড় তাড়াতাড়ি চলে গেলেন চিবুজোর।

শুক্রবার একসময়ের ময়দানে সাড়াজাগানো নাইজেরিয়ান ফুটবল তারকা চিবুজোর নওয়াকানমা প্রয়াত হলেন আচমকাই।দিব্যি মর্নিং ওয়াক সেরে ফিরেছিলেন, বাড়িতেই হঠাৎ পড়ে যান তিনি। আর ওঠেন নি চিবুজোর। যা জানা যাচ্ছে,নাইজেরিয়ায় আবা শহরের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
এখন বা বিগত কিছুদিন ধরে বহু নাইজেরিয়ান তথা আফ্রিকান ফুটবলারকে ভারতের বিভিন্ন দলে খেলতে দেখা যায়। কিন্তু যে কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলাররা ভারতে প্রথম দাপট দেখাতে শুরু করেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন চিবুজোর। চিমা,এমেকা,বার্নার্ড ও ক্রিষ্টোফারের সঙ্গে এক নিশ্বাসে তাঁর নাম উচ্চারিত হত এক দশক ধরে। তাঁদের জন্য আশির দশকের মাঝামাঝি বিদেশী ফুটবলার আর নাইজেরিয়ান ফুটবলার যেন সমার্থক হয়ে যায়।মজিদ-জামশিদ জুটির পরে সফল হতে থাকেন চিমা চিবুজোররা।এঁদের মধ্যে চিমা ময়দানে বেশিদিন থেকেছেন, তুলনামুলক কম সাড়া ফেলেছেন বিশ্বকাপার এমেকা।আর চিবুজোর ছিলেন ধারাবাহিক এবং খুব বেশি ভাবে টিমম্যান। প্রত্যাশা ছাপিয়ে ফল দিতে অব্যর্থ ছিলেন ফরোয়ার্ড চিবুজোর।

চিবুজোর অবশ্য ভারতে এসেছিলেন পড়তে। ফুটবল তাঁকে ভারতে প্রতিষ্ঠা আর জনপ্রিয়তা দেয়। ইস্টবেঙ্গলে তিন বছর আর মহামেডানে পাঁচ বছর খেলা ছাড়াও মোহনবাগানে এক বছর খেলেছেন তিনি। দেশীয় তারকা কৃশানু, বিকাশ, প্রশান্ত, মনোরঞ্জন, সুদীপ চ্যাটার্জীদের আমলে উল্লেখযোগ্য বিদেশী মুখ ছিলেন চিবুজোর।
কলকাতার মেয়েকে বিয়ে করে খেলা ছাড়ার পরেও বেশ কিছুদিন কলকাতায় ছিলেন ধৰ্মপ্রাণ মানুষটি। দেশে ফিরে একটি চার্চে ফাদার হয়েছিলেন। সহসা তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে । চিবুজোর আশি – নব্বই এর ফুটবল প্রেমীদের জন্য রেখে গেলেন অজস্র স্মৃতি।।


More Stories
পাকিস্তানকে ধ্বংস করল ভারতের মেয়েরা
হর্ষ – গুরনুরের দুরন্ত অভিষেক, জিতল ভারত
সুভদ্র কেন উইলিয়ামসনের আচমকা অবসর