Home » অশরীরী আত্মার আতঙ্কে তালাবন্ধ স্কুলের রান্নাঘর, চাঞ্চল্য ধুপগুড়ির স্কুলে

অশরীরী আত্মার আতঙ্কে তালাবন্ধ স্কুলের রান্নাঘর, চাঞ্চল্য ধুপগুড়ির স্কুলে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ দু বছরের ব্যবধান।  স্কুলের মিডডে মিলের ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী  হয়েছেন একই পরিবারের দুই সদস্য। তারপর থেকেই অশরীরী আত্মার আতঙ্কে তালাবন্ধ স্কুলের মিডডে মিল রান্নার ঘর।ভয়ে কেউ ওই ঘরে রান্না করতে না চাওয়ায়  স্কুলের মিডডে মিল তৈরি হচ্ছে পাশের বাড়ির হেঁসেলে।শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই ঘটেছে ধুপগুড়ির মাগুরমারী ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলতলা শিশু শিক্ষা নিকেতনের। এই ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পরেই তেঁতুলিয়া ও সংলগ্ন বেশ কয়েকটি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে এলাকার এক যুবক স্কুলের রান্নাঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।আর তারপর থেকেই ওই রান্নাঘর সহ গোটা স্কুল চত্বর স্থানীয়দের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।সেই আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতে ২০২১ সালে তেঁতুলতলা শিশু শিক্ষা নিকেতনের মিডডে মিলের রান্নার ঘরেই ফের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে একই পরিবারের আরেকজন।একই রান্না ঘরে পরপর দুজন গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা যাওয়ার ঘটনার পর থেকেই গোটা স্কুলের রান্নাঘরটি ভুতুড়ে বাড়ি হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই রান্নাঘরটিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বর্তমানে স্কুলের রান্নাঘর তালা ঝোলানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।স্বভাবতই স্কুলের মিডডে মিলের রান্না করা হচ্ছে অন্যের বাড়িতে।স্কুলে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে মোট ৪২ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে।মিডডে মিল রান্নার কাজের সঙ্গে যুক্ত রাধঁনিদের দাবি, অশরীরী আত্মার ভয়ের পাশাপাশি স্কুলের পানীয় জলের কোন ব্যবস্থা নেই। স্কুলকর্তৃপক্ষকে বারবার বলেও কোনও লাভ হয়নি অভিযোগ রাঁধুনিদের। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে স্কুলের রান্ন চলতে থাকায় সমস্যার পড়েছে ওই পরিবার।

প্রশাসন স্কুলের যাবতীয় সমস্যা জেনেও এখনো চুপ কেন তা নিয়েই ইতিমধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয়রা।অন্যদিকে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভুত,প্রেত ও অশরীরী আত্মাকে কেন্দ্র করে কিভাবে কুসংস্কারকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।  কুসংস্কারকে দূরে রেখে কবে তেঁতুলতলা শিশু শিক্ষা নিকেতন পুরানো ছন্দে ফেরে এখন সেটাই দেখার।

About Post Author