সময় কলকাতা ডেস্ক: পাটের দর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সুর চড়াতে শুরু করেছিলেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তুলেছিলেন প্রশ্ন। তার সঙ্গেই তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের মঞ্চে যেতেও তাঁর আপত্তি নেই বলেও কার্যত জানিয়েছিলেন। এবার পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলা সহ চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন অর্জুন সিং। আর অর্জুনের এই চিঠিকে ঘিরে শোরগোল পড়েছে বাংলার রাজনীতির আঙিনায়। তবে কি চিঠি চাপাটির মাধ্যমেই তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর প্রথম ধাপ ফেললেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ?

অর্জুন ক’দিন ধরেই অভিযোগ করছেন যে, কাঁচা পাট কেনার জন্য জুট কমিশনার দামের যে ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিয়েছেন তাতে পাটশিল্প চরম সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ব্যারাকপুরে ২০টি জুটমিল আছে এবং এই জুটমিলের শ্রমিক ছাড়াও পাটচাষি ও অন্যান্যভাবে এই শিল্পের সঙ্গে সব মিলিয়ে কয়েক লাখ পরিবারের স্বার্থ জড়িত। কিন্তু জুটমিলগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, কারণ জুট মিলের মালিকরা কাঁচা পাট কিনতে পারছেন না। কারণ জুট কমিশনার যেভাবে দামের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিয়েছেন তা ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

চিঠিতে বিজেপি সাংসদ লিখেছেন, জুট কমিশনার অফ ইন্ডিয়া যেভাবে পাটের দামকে বেঁধে রেখেছে তুঘলকিভাবে, সেটা আপনি অবগত আছেন। আমি এই ব্যাপারটাতে আপনাকে হস্তক্ষেপ করার জন্য কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য় অনুরোধ করছি। কাঁচা পাটের অভাবে জুটমিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এর আগেই তিনি জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী পীযুষ গোয়েলকে তিনি চিঠি লিখেছেন। কিন্তু তাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেননি। তারপর থেকে আরও কড়া অবস্থান অর্জুনের।

কয়েকদিন ধরেই রাজ্য বিজেপিতে এই নিয়ে চাপানউতোর চলছে। অনেকেই মনে করছেন এটাই অর্জুনের তৃণমূলে চলে যাওয়ার আগাম ধাপ হতে পারে। অর্জুন নিজেও সাংবাদিকদের বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি আমার সঙ্গে আন্দোলন করতে রাজি থাকেন, তাহলে আমি অবশ্যই তাঁর সঙ্গ দিতে রাজি আছি। মুখমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে অর্জুন আবেদন করেছেন, কেন্দ্রের বস্ত্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুক রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, অর্জুন এই ব্যাপারে রাজ্য সরকারের অবস্থানের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

অর্জুনের বক্তব্য, অবিলম্বে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বদল করতে হবে। তিনি একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সম্প্রতি দেখাও করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে। তাতে বিশেষ লাভ না হওয়ায়, অর্জুন বলেছেন, যদি কথা না শোনা হয়, জুট কমিশনারকে ঘেরাও থেকে যন্তরমন্তরে ধর্না, সবই করবেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই অর্জুন এ ভাবে সরব হওয়ার পরে বাংলার রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন। অর্জুনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সেই দিকেই গড়াবে কিনা সেটাই দেখার। বিজেপির একাংশ মনে করছে, অর্জুন আদি দলে ফিরতে চাইছেন। কারণ, নিজের এলাকায় তাঁর রাজনৈতিক জমি তৃণমূল কেড়ে নিয়েছে। গত বছর বিধানসভা ভোটে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভার ছয়টি তৃণমূল দখল করেছে। অর্জুনের ঘনিষ্ঠ নেতারাও তৃণমূলে এখন।
এদিকে আগামী ৪মে জুট কমিশনারের অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। আর আগের বার্তার মতোই অর্জুনের সুর যেন আরও নরম। তাঁর বার্তা ডাকলে যাব! তবে এবার প্রশ্ন তৃণমূল কি আদৌ ডাকবে অর্জুনকে?


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?