Home » সুস্থ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বারাসাতের গান্ধী স্কুল, প্রাক্তনীদের অনন্য উদ্যোগ

সুস্থ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বারাসাতের গান্ধী স্কুল, প্রাক্তনীদের অনন্য উদ্যোগ

সময় কলকাতা ডেস্ক :
“বর্ষে  বর্ষে  দলে  দলে ,আসে  বিদ্যামঠতলে
চলে  যায় তারা  কলরবে” আর তারাই গড়ে তোলে এক আলোকোজ্জ্বল সমাজ যার উজ্জ্বল নিদর্শন ৭৫ বছর ধরে বয়ে চলেছে বারাসাতের মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল হাই স্কুল।

সকাল তখন সাড়ে দশটা। শ্রমিক দিবসে বারাসাত শহরের বুকে  অনন্য এক শিক্ষাঙ্গনে প্রজ্জ্বলিত হল আলো। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করলেন শিবানন্দ ধামের মহারাজ। উপলক্ষ্য রাজ্যের অন্যতম যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতী ছাত্ররা জ্ঞান ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে দেশে-বিদেশে সেই  বারাসাত মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল হাই স্কুলের ৭৫ তম বছরে পদার্পন উদযাপন । সারা বর্ষ ব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ সূচনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে মিশে গেলেন স্কুলের প্রাক্তনীরা, দিনভর চলল সংস্কৃতিমূলক ও সামাজিক দায়িত্বের বার্তাবাহী অনুষ্ঠানমালা। অনবদ্য ভাবনা ও কাজের মেলবন্ধন প্রাক্তনী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে।

অনুষ্ঠান ছিল সামাজিক দায়িত্ববোধের।সম্প্রতি পরলোকে পাড়ি দেওয়া স্কুলের সঙ্গে যুক্ত নক্ষত্রদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনে নীরবতা পালনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। ৭৫ এ পা তাই তাই অন্যতম সামাজিক কর্তব্যের ট্যাগলাইন ছিল ৭৫ এ ৭৫। আর এই অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে  ৭৫ জন রক্তদান করেন। পঁচাত্তর ছাড়িয়ে এবার বিদ্যাঙ্গন এগোবে সেঞ্চুরির লক্ষ্যে। প্রতীকী হিসেবেই যেন ১০০ জন শিশুকে নিয়ে আয়োজিত হল নিউট্রিশন ক্লিনিকের শিবির যার দায়িত্বে ছিলেন প্ৰখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ ধীমান চ্যাটার্জী এবং প্রাক্তনী ডাঃ দেবাশীষ দাস।

এই স্কুলের অবদান সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে যাকে পঁচাত্তর বা একশোর গণ্ডীতে বাঁধা যায় না।রূপকস্বরূপ শতাধিক অভিভাবকের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মাননীয় ডাঃ গৌতম সাহা এবং সাইকোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ শ্রী মোহিত রণদীপ এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয় পেরেন্টাল কাউন্সেলিং। চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন হয় এদিন।বর্তমান শিক্ষা, স্বাস্থ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে হয় বিশেষ প্রদর্শনী (এক্সিবিশন) যা  ভুয়সী প্রশংসার যোগ্য । তুহিন শুভ্র সরকারের  তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয় প্রদর্শনী।

কার্যত স্কুল প্রাঙ্গন হয়ে উঠেছিল চাঁদের হাট।প্রাক্তনীদের সঙ্গে মেশেন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের খ্যাতনামা মানুষ। ছিলেন শিক্ষাব্রতীরা , ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ববর্গ।ছিলেন বারাসাত পৌরসভার উপ পুরপ্রধান তাপস দাশগুপ্ত , পুরসভার পুরপারিষদ চম্পক দাস।

রক্তদান, স্বাস্থ্যশিবির, বিশেষ প্রদর্শনী এবং প্রাঞ্জল আলোচনায় গান্ধী স্কুল কর্তৃপক্ষের বার্ষিকী উদযাপনের একদিনের অনুষ্ঠানের রেশ রয়ে যাবে হৃদয়ে, প্রভাব থাকবে সমাজে।স্কুলের পথ চলার ৭৫ বছরের কোলাজে জমা হল আর একটি উল্লেখযোগ্য দিন।সময় কথা বলে চলে মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল স্কুলের সমাজে সামগ্রিক অবদানে আর সুবাতাস বয়ে আনে বিদ্যাপীঠের ছাত্রদল। তাঁরাই যে শিক্ষা, জ্ঞান ও সুস্থ সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার ধারক ও বাহক।।।

About Post Author