সময় কলকাতা ডেস্কঃ এ রানার সে রানার নয়। তার হাতে লন্ঠনও থাকে না , থাকে খবরের কাগজের বান্ডিল। কারন সেও মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দেয়। ভোরের আলো ফোটার পরেই শুরু হয় তার দৌড়।পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা টানা ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে প্রতিদিন সকালে এলাকার গ্রাম গুলির পাঠকের হাতে খবর পৌঁছে দেন দক্ষিণ দিনাজপুরের নিতাই বসাক।ইন্টারনেটের যুগেও অতিমারি, রোদ-বৃষ্টি, শীত-গরম, দুঃখ-কষ্ট সব ভুলে সারা বিশ্বের খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই যেন তার এক মাত্র লক্ষ্য। তাই দক্ষিণ দিনাজপুর তথা সমগ্র কুমারগঞ্জ ব্লকের সকলেই একডাকে চেনে পেপার বিক্রেতা নিতাইকে।
প্রতিদিন সকাল সকাল দক্ষিণ দিনাজপুরের গোপালগঞ্জ, কুমারগঞ্জ, বালুপাড়া, ধাদলপাড়া, মিশনমোড়, সাফানগর, চাঁদগঞ্জসহ একাধিক গ্রামে খবরের কাগজের মাধ্যমে খবর পৌঁছে দেন নিতাইবাবু।তার এই কঠোর পরিশ্রম দেখে অবাক হন জেলাবাসী।কিন্তা তা নিয়ে কার্যত ভাবলেশহীন নিতাই বসাক।এমনিতেই গ্রামগঞ্জে পত্রিকা এখন খুব কমই বিক্রি হয়।কেননা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকলেই খবর পড়ে থাকে।তাই আগের চেয়ে এখন পত্রিকাও চলে কম। এত সবের পরেও কে রাখে তার সংসারের খবর? তবুও পত্রিকা বিক্রি করে অল্প স্বল্প আয়েই কোনরকমে সংসার চলে তার।এক ছেলে, এক মেয়ে ও পরিবার নিয়ে এভাবেই চলছে নিতাই বাবুর সংসার।
জানা গিয়েছে,দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে পায়ে হেঁটেই হকারের এই কাজ চালিয়ে আসছেন নিতাই বসাক।সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, দোকানপাট সহ বিভিন্নস্থানে পত্রিকা বিলি ও সংবাদপত্র বিক্রি করেন আজকের রানার নিতাই বসাক ।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
বেজি কি সাপের বিষে কাবু হয় না?