Home » দামোদরের চরে দেখা মিলল মায়া সভ্যতার

দামোদরের চরে দেখা মিলল মায়া সভ্যতার

সময় কলকাতা ডেস্ক: মায়া সভ্যতা ,এই মায়া সভ্যতা কে বলা হয় ইতিহাসের একটি স্বর্ণযুগ। খ্রিস্টপূর্ব ২০০থেকে ২৫০ খ্রিস্টাব্দ কে থেকে ধরা হয় মায়া সভ্যতার প্রতিষ্ঠার কাল হিসেবে। গবেষকদের মতে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মায়া সভ্যতা পৌঁছেছিল উন্নতির চরম শিখরে । মেক্সিকো শহরের সীমান্তের কাছাকাছি মায়ানগরের ধ্বংসস্তূপ আজও বিরাজমান।

মানব সভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে উন্নত সভ্যতা এই মায়া সভ্যতা। যে সভ্যতায় ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া অর্থাৎ রাস্তাঘাট ,নিকাশি ব্যবস্থা, বাড়ি-ঘর ,ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ হাট -বাজার সবই ।আধুনিক সভ্যতার শুরু বলা যেতে পারে মায়া সভ্যতাকে। স্প্যানিশদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত মায়া সভ্যতার বিস্তার ঘটে ছিল। মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে মায়া সভ্যতার বিস্তার লাভ ঘটেছিল। অন্যান্য সভ্যতার সঙ্গে মায়া সভ্যতার ফারাক লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ,মূলত লেখার উন্নতি সাধন বা কোন গ্রন্থের শুরুর বাক্য নির্বাচন, বর্ষপঞ্জিকা সৃষ্টি সহ আরো বিভিন্ন বিষয়ে। এল সালভাদর ,হন্ডুরাস গুয়াতেমালা সহ আরো বিভিন্ন দেশের মধ্যেও মায়া সভ্যতার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে মায়া সভ্যতার নিদর্শন আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কালের গর্ভে হয়তো মায়া সভ্যতা বা মায়া নগরী বিলীন হয়ে গিয়েছে কিন্তু মায়া সভ্যতার প্রভাব এবং তাদের সাংস্কৃতিক চিন্তাভাবনার প্রভাব আজও রয়ে গিয়েছে মেক্সিকো সহ আরো বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে। মায়া সভ্যতার রীতিনীতি আচার-অনুষ্ঠান আজও পালন করা হয় বিভিন্ন জনজাতির মধ্যে।

স্পেনীয়রা যখন বিভিন্ন অঞ্চল দখল করছে ,একের পর এক সভ্যতার পতন ঘটছে, তখনো মায়া সভ্যতা হারিয়ে যায়নি। আজও রয়ে গিয়েছে মায়া সভ্যতার প্রভাব। এখনো বহু মায়া সভ্যতার বংশধররা মায়া ভাষাকে তাদের প্রাথমিক ভাষা হিসেবে মনে করে। আচি ভাষায় লিখিত একটি নাটক রাবিনাল আচি ,যাকে ২০০৫ সালে ইউনেস্কো মানবতার মৌখিক এবং ঐতিহ্যবাহী শ্রেষ্ঠ অবদান হিসেবে ঘোষণা করেছে।


সেই সভ্যতার নিদর্শন কে নিখুঁতভাবে বর্ধমানের মাঝ দামোদরের চড়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন ইতিহাসের অধ্যাপক রঙ্গজীব রায়।
সেই সভ্যতাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য বর্ধমানের মাঝ দামোদরে নদীর চড়ায় বালি কেটে মাটির হাড়ি ঘর এবং রং দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মায়া সভ্যতার নিদর্শন। ছোট ছোট মন্দির সহ বাড়িঘরের অসংখ্য নিদর্শন তৈরি করেছেন রঙ্গজীব বাবু,উদ্দেশ্য একটাই ইতিহাসের ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষের সামনে মায়া সভ্যতার ইতিহাস কে আবার ফিরিয়ে আনা।


রঙ্গজীব রায়ের তৈরি করা নদীর চরে মায়া সভ্যতাকে দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন আসেন বহু ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। স্বচক্ষে মায়া সভ্যতার নিদর্শন কে নিজের রাজ্যে পেয়ে খুশি আগত ছাত্র-ছাত্রীরা । নিজের সৃষ্টির সার্থকতা কে উপলব্ধি করে স্বভাবতই খুশি ইতিহাসের অধ্যাপক রঙ্গজীব রায়।

About Post Author