সময় কলকাতা ডেস্কঃ পানিহাটির দই-চিঁড়ের মেলায় ভিড়ের চাপে এবং প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। অসুস্থ হয়েছেন ১৫ জনেরও বেশি পুণ্যার্থী। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্থানীয় হাসপাতালে। পাশাপাশি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পও গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানেও বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থীর চিকিৎসা চলছে। এই দুর্ঘটনার পরই পানিহাটি পুরসভার বিধায়ক এবং পুলিশ প্রশাসন মেলা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাকি পুণ্যার্থীদের ইতিমধ্যেই মেলা থেকে বাইরে বের করে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে মন্দিরের পুজো।

উল্লেখ্য, সোমবার ৫০৬ তম দণ্ড মহোৎসব পালিত হচ্ছে পানিহাটি গঙ্গার তীরবর্তী মহোৎসব তলা ঘাটে। শুধু পানিহাটি নয়,সারা জেলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী ভক্তরা ভিড় জমান এই দণ্ড মহোৎসবে। পানিহাটির এই ঐতিহ্যবাহী মহোৎসব চিঁড়ের মেলা বলেও পরিচিত। বৈষ্ণব সমাজে কেউ আবার এই দণ্ড মহোৎসবকে মালশা ভোগ মেলা হিসেবেও পালন করে থাকেন।

কথিত আছে, আজ থেকে প্রায় ৫০৫ বছর আগে রঘুনাথ দাস গোস্বামী মহাপ্রভু দর্শনের জন্য গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে মিথ্যে বলেছিল। আর তা চৈতন্য মহাপ্রভু জানতেই রঘুনাথ দাস গোস্বামীকে দণ্ড দেন। মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব রঘুনাথ দাস গোস্বামীকে শাস্তি দিয়েছিলেন যে উপস্থিত সকল ভক্ত বৃন্দকে আহার হিসেবে দই চিড়ে খাওয়াতে হবে। সেই থেকেই প্রতিবছর পানিহাটি মহোৎসব তলা ঘাটে দণ্ড মহোৎসব মহা সমারোহে পালিত হচ্ছে। বর্তমানে পানিহাটি পুরসভার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় এই দণ্ড মহোৎসব বা চিঁড়ের মেলা।

জানা গিয়েছে, দণ্ড মহোৎসবে আগত পুণ্যার্থীদের ক্লান্তি দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থা এবং চৈতন্য সংঘের পক্ষ থেকে ক্লান্ত পুণ্যার্থীদের জল বাতাসা খাওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত দু’বছর বিশ্বজুড়ে করোনা আবহের জেরে পালিত হয়নি এই মহোৎসব। এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই পুনরায় দন্ড মহোৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভক্তরা বেজায় খুশি। পানিহাটি পুরসভার পুরপ্রধান মলয় রায় জানান, ‘পানিহাটি পুরসভার সমস্ত আধিকারিক সহ পুর প্রতিনিধিরা দায়িত্ব সহযোগে আগত পূণ্যার্থীদের সমস্ত রকম সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি খড়দহ থানার পুলিশ প্রশাসনও রয়েছে নিরাপত্তার দিক খতিয়ে দেখার জন্য।’


More Stories
কলাগাছের ভেলায় স্কুলের পথে পাড়ি, ঘটতে পারে দুর্ঘটনা, নির্বিকার প্রশাসন
সর্প আতঙ্ক গ্রাস করছে ধূপগুড়িকে
আয়ুষ-দীপককে বুক দিয়ে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি আইসি সুবলের