সময় কলকাতা ডেস্কঃ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দেশের ১৫তম রাষ্ট্রপতি পদে আসীন দ্রৌপদী মুর্মু। বিরোধী শিবিরের মনোনীত প্রার্থী যশবন্ত সিনহা তাঁর প্রাপ্ত ভোটের কাছেও যেতে পারেননি। বিরোধীরা যদিও আগে থেকেই দাবি করেছিলেন, দ্রৌপদী মুর্মু আসলে বিজেপির রাবার স্ট্যাম্প হিসাবে কাজ করবেন। সত্যি কি তাই?
১৫ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২৫ জুলাই শপথ নেবেন দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু তাঁর এই জয়কে ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কারণ এনডিএ সমর্থিত প্রার্থীরা যতবার রাষ্ট্রপতির আসনে বসেছেন, ততবারই তাঁদের রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে নামাঙ্কিত করেছে বিরোধী। কারণ কেন্দ্রের শাসকের আসনে যে দল থেকেছেন, তাঁদের অনুগ্রহ মেনেই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে রাষ্ট্রপতিদের।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের জনমত নিয়ে ভোটব্যাঙ্ক ভরাতে চেয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ দ্রৌপদী মুর্মুকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন। এবার তিনি জয় পাওয়ার পর নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি কতটা দলের কথা শোনেন, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বিরোধীরা।
কিন্তু সংবিধান মতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির পদ। তিনি রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক ভাবে দেশের তিন সেনার প্রধান। সেই পদের অধীনে রয়েছে একাধিক অধিকার, যা দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র একলহমায় বদলে দিতে সক্ষম,
দেশের প্রধানমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ
যে কোনও মুহূর্তে লোকসভা ভেঙে দেওয়ার অধিকার
দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপাল নিয়োগ
রাজ্য সরকার ভেঙে দেওয়ার অধিকার
বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, একাধিক IAS, IPS, IFS, অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের অধিকার করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রপতির হাতে
রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ছাড়া সংসদে পাস হওয়া কোনও বিল আইনে পরিণত হয় না
অর্থ বিল এবং সংবিধান সংশোধনী বিল ছাড়া অন্যান্য সমস্ত বিল সংসদে ফেরত পাঠানোর অধিকার

যদিও রাষ্ট্রপতির হাতে থাকা এই অধিকারগুলির বেশিরভাগটাই অবশ্য মন্ত্রীসভার অনুমতি সাপেক্ষ। এবার রাষ্ট্রপতি চাইলে নিজে থেকেও সরকারের জনবিরোধী কোনও বিল আটকে দিতেই পারেন। এমনকী সরকার জনবিরোধী কাজ করলে সেই সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতেই পারেন। এক্ষেত্রে দ্রৌপদী মুর্মুর রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাসে তেমন কোনও ঘটনার নজির দেখা যায়নি। তাই ভবিষ্যৎ-র ছবিটা কি হবে, সেটা এখন সময়ই বলবে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর