Home » ডামাডোলের মাঝে ফের সক্রিয় বালি মাফিয়ারা

ডামাডোলের মাঝে ফের সক্রিয় বালি মাফিয়ারা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতি ইতিমধ্যেই ঝড় তুলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে। রাজ্যের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন আড্ডা ,ট্রেন, বাস সর্বত্র এখন আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়োগ দুর্নীতি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একুশে জুলাই এর মঞ্চ থেকে সিবিআই -ইডিকে মুড়ি খাওয়ানোর বার্তা দেওয়ার পরের দিন সকাল থেকেই ময়দানে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টটরেট।

বাইশে জুলাই ভোর বেলাতেই রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী নিয়ে অভিযান চালায় ইডি। সেখান থেকে তারা খবর পায় অর্পিতা মুখার্জির। অর্পিতা মুখার্জির বাড়ি থেকে ২১ কোটির অধিক টাকা ৭৯ লক্ষ টাকার সোনার গয়না ,কুড়িটি মোবাইল, ফিক্স ডিপোজিট সহ একাধিক প্যাড চিঠি উদ্ধার করে ইডি। ২৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেফতার করা হয় পার্থ চ্যাটার্জিকে তারপর গ্রেপ্তার হয় অর্পিতা মুখার্জি। ইডির তদন্তে উঠে এসেছে বহু নাম। যে নাম এখনো প্রকাশ্যে না আসলেও ইডির আতস কাঁচের নিচে কিছু নাম থাকায় বহু নেতা মন্ত্রী কাউন্সিলার সবাই আতঙ্কিত। ভুবনেশ্বর থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যে ফিরলেও এখনো রয়েছেন ইডির হেফাজতে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার দিকেই এখন জনসাধারণের চোখ। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বালি মাফিয়ারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক সভা থেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বালি মাফিয়াদের। কার্যত সেই হুঁশিয়ারীকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আবার রমরমিয়ে শুরু হয়েছে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ব। সময় কলকাতার ক্যামেরায় উঠে এলো একাধিক জায়গায় বালি মাফিয়াদের দৌরাত্বের ছবি। একদিকে বালি মাফিয়ারা প্রকাশেই প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে বেআইনিভাবে নদী থেকে বালি তোলায় ব্যস্ত। আর অন্যদিকে প্রশাসন ,পুলিশ, ভূমি সংস্কার দপ্তর ,সেচ দপ্তর কার্যত চোখ বন্ধ করে বসে রয়েছে। কি বলছেন এলাকার বাসিন্দারা।

ধূপগুড়ির গিলান্ডি,ডুডুয়া, বামনী,নাগরাকাটার খেরকাটা,ডায়না, বানারহাটের কালুয়া,রাঙ্গাতি, ময়নাগুড়ির রামশাই, জলঢাকা এবং জলপাইগুড়ির করলা নদী থেকে চোরাপথে চলছে বালি, পাথর, পাচার। আর চোরাপথে বালি, পাথর আসায় চড়া দামে সেই বালি পাথর কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, চোরাপথে বালি, পাথর পাচারের সময় বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিচ্ছেন পাচারকারীরা। আর তাতে স্বাভাবিকভাবেই বালি, পাথরের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন পাচারকারীরা। বালি পাচার নিয়ে কিছু অভিযান ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে করা হচ্ছে দাবি বি এল আর ওর।

এখন থেকে ভূমি সংস্কার দপ্তর তারা অভিযান চালাবেন তাহলে এতদিন তারা কি করছিলেন? এ প্রশ্ন উঠছে বারবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অবিলম্বে বন্ধ করা হোক এই বালি খাদান।

দীর্ঘ দিন ধরে যে বালি খাদান চলছে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম যেখানে সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে সেখানে এতদিন বাদে দেখবেন? কেন? এ কেনর উত্তর বরাবরই থাকে অধরা। বিজেপির অভিযোগ শাসকদলের নেতারাই জড়িত এই অবৈধ বালি পাচার চক্রের।

একদিকে বিজেপির অভিযোগ অবৈধ বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যুক্ত শাসকদলের নেতাকর্মীরা অন্যদিকে সেকথা মানতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূল নেতার কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর নির্দেশের বাইরে কেউ যায় না তাহলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গেল কিভাবে? কেন গেল? এখানেও সেই কেনর উত্তর অধরা। কেন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ব বন্ধ হচ্ছে না? কেন প্রশাসন সব দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকায়? কেন সেচ দপ্তর এতদিন বাদে অভিযানের চিন্তা করলো?

কেন মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ সত্ত্বেও বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হলো না? কেন পুলিশ সব জেনেও চুপ থাকে? এমন বহু কেনর উত্তর আজও মেলেন? আদৌ কি এই উত্তর মিলবে তা সময় বলবে।

About Post Author