সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক : ২০০০ সালের ভারত বনাম বাংলাদেশ টেস্টে তিনি যখন প্রথম কমেন্ট্রি করতে শুরু করেন তখন তাঁর বয়স ৩৫ ও হয় নি। তাঁর খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিভার বিকাশ হলে সে সময় তাঁর তো ক্রিকেটার হিসেবেই ভারতীয় দলে থাকার কথা। তাঁর নাম লক্ষণ শিবরামকৃষ্ণান। শিবা নামে পরিচিত স্পিনারটির ঝুলিতে ৯ টি টেস্টে রয়েছে ২৬ উইকেট যা দিয়ে তাঁর লেগ স্পিন ঘূর্ণির অসামান্য জাদুকে তুলে ধরা যাবে না। ১৬ টি একদিবসীয় ম্যাচে ১৫ উইকেট রয়েছে তাঁর। মানুষ আজ ভুলে গিয়েছে শেন ওয়ার্ণের মতই বিরাট টার্ন করাতে পারতেন শিবা।

দুর্দান্ত লেগ স্পিনার হিসেবে যে প্রতিভা নিয়ে শিবা ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তোলপাড় ফেলে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, তা পূর্ণ বিকশিত হওয়ার আগে ঝরে যায়।এত দ্রুত উত্থান ও পতনের ইতিহাস বাস্তবেই বিরল। আড়াই বছরের কম সময়ের মধ্যে তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মেয়াদ ছিল মাত্র চার বছর। অথচ ৮৪-৮৫ সালের ভারতের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ২৩ টি উইকেট নেওয়া শুধু নয়, তিনি ছিলেন ভারতের ম্যাজিক বোলার, ছিলেন বিস্ময়। বম্বে টেস্টে ১২ উইকেট পেয়ে তিনি ইংরেজ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে শুরু করলেও সিরিজের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা হয়তো তাঁর রহস্য ভেদ করে ফেলেন।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তারপরে খুব বেশি সাফল্য আর পান নি বাকি সময়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে মাত্র ১৭ বছরে টেস্ট জীবন শুরু করেছিলেন শিবরামকৃষ্ণাণ । ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সফল সিরিজের পরে আর মাত্র তিনটে টেস্ট খেলেন শিবা । সাফল্য পান নি। অস্ত্রেলিয়ায় ও শারজায় সামান্য কিছু একদিবসীয় ক্রিকেটের সাফল্য পেলেও ৮৭ সালের পরে নির্বাচকদের পরে মানুষ ভুলে যায় । সঠিক দিশা না পেয়ে মাত্র ২২ বছরে তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে হয়।৮৭সালের বিশ্বকাপের পরে আর তাঁকে ভারতীয় দলে দেখা যায় নি। সঠিক ভাবে তাঁকে ব্যবহার করা হয় নি, এমনকি তাঁর ক্ষেত্রে যথেষ্ট ধৈর্য নির্বাচকরা দেখান নি। অল্প বয়সের ব্যর্থতা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেন নি শিবা।।


More Stories
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
কুপার কনোলি জেতালেন পাঞ্জাবকে