Home » পুতুল নাচের ইতিকথা

পুতুল নাচের ইতিকথা

সময় কলকাতা ডেস্ক : “পুতুল নাচের ইতিকথা” উপন্যাসের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়  পুতুল নাচের উৎপত্তি বা বিকাশের কথা বলে যান নি। সাহিত্যে বা গণমাধ্যমে পুতুল নাচের সংকট নিয়ে আলোচনা কালক্রমে হয়েছে তথাপি কালের সাথেসাথে সংকট তীব্র হয়েছে পুতুল নাচের। তবুও এই পেশাকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে পুতুল নাচের সঙ্গে যুক্ত মানুষরা অন্যভাবে রুগ্ন এই কলার অস্তিত্ব সংকট দূর করার চেষ্টায় রয়েছেন।

l

পুতুল নাচ  কেবলমাত্র যে বিনোদনের অঙ্গ তা নয়। পুতুল নাচে যেখানে পুতুলের মাধ্যমে কাহিনী বলা হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পৌঁছে দেওয়া হয় শিক্ষণীয় বার্তা । প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতিতে পুতুল নাচের এক অনন্য গুরুত্ব ছিল।প্রযুক্তির উন্নতি ঘটেছে। আজ মুঠোফোন আর কম্পিউটারের রমরমা।পুতুল নাচ এখন চরম সঙ্কটে । তবুও পুতুল নাচের ঐতিহ্য বজায় রাখতে কিছু মানুষ আজও সচেষ্ট।আজও কিছু জায়গায় পুতুল নাচের আসরে লোক সমাগম হয়।রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মত দুই বর্ধমানেও পুতুল নাচের জনপ্রিয়তা ছিল বরাবর। প্রতিবছরের মতো এবারও  কালনা শহরের আড়াইশো বছরের প্রাচীন মহিষমর্দিনী  পুজোর মেলায় এসেছে একটি  পুতুল নাচের দল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার খাকড়াকোনা থেকে আসা জ্ঞানদা চক্রবর্তীর পুতুলনাচের দলে রয়েছেন ১০ জন শিল্পী। তাঁরা দর্শকদের আনন্দ দিতে ত্রুটি রাখছেন না।  দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার দলটি প্রতিবছর কালনার মহিষমর্দিনী পূজার মেলায় পাঁচ দিনের জন্য ডাক পান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু গত দুবছর মহামারীর কারণে মেলা বন্ধ ছিল। এবার মানুষের ঢল নেমেছে । এই পুতুল নাচের দলের সঙ্গেভাল যুক্ত কলাকুশলীরা দর্শকদের খুশি করতে পেরে নিজেরাও খুশি।

তবে খুব সুখে নেই পুতুল নাচের শিল্পীরা। সারা বছর কাজ জোটে না। ভালোভাবে বাঁচতে অন্য পেশাও আঁকড়ে ধরতে হয়েছে পুতুল নাচের দলের শিল্পীদের । তবুও পুতুল নাচের আসর তাঁদের টানে । পুতুল নাচের মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতে দূর-দুরান্তে ছুটে যান শিল্পীরা । আজকাল যখন তাঁদের ছেলেমেয়েরা এই পেশায় আসতে রাজি হয় না তখন হতাশা জন্মায়। শিল্পীরা দ্বিধায়, তাঁরা প্রশ্ন করেন তাহ’লে পুতুল নাচ কি  হারিয়ে যাবে? পুতুল নাচ কি ঠাঁই নেবে ইতিহাসের পাতায়?

About Post Author