সময় কলকাতা ডেস্কঃ এক চিলতে সিঁদুরে বদলে যায় সব মেয়েরই জগৎ। আর সেই সিঁদুর যদি স্বামী নিজে হাতে মুছে দিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে স্ত্রীর প্রেমিক ও স্ত্রীর চার হাত এক করে দেয় তাহলে তাঁকে কি বলবেন! আপাত অসম্ভব এই ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার শালগাড়ায়।
১৯৯৯ সাল । বলিউডে সঞ্জয় লীলা বনসলির এক অন্য প্রেমের কাহিনী নাড়িয়ে দিয়ে ছিল সমাজকে। স্ত্রীর প্রেমিককে খুঁজতে অজয় দেবগনের আকুতি। ভালোবাসাকে এক ত্যাগের মন্ত্রে নাড়িয়ে দেওয়া কাহিনীর বাস্তবায়ন দেখা গেল বাঁকুড়ার শালগাড়া গ্রামে। স্ত্রী রাখির ভালবাসার কথা জানতে পেরে আর পাঁচ জন স্বামীর মত প্রতিক্রিয়া দেন নি প্রদীপ বাউড়ি। বরং স্ত্রী তাঁর ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধুক এই ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দিয়ে তৎক্ষনাত রাখির কপালের সিঁদুর মুছে দেন প্রদীপ। স্থানীয় মনসা মন্দিরে গিয়ে তিনি স্ত্রীর সিঁদুর মুছিয়ে দিয়েই চলে যান না প্রদীপ। বরং সামনে দাঁড়িয়ে থেকে স্ত্রীর প্রেমিক সুরেশকে দিয়ে সেই মনসা মন্দিরের উঠানে আবার সিঁদুর দান করান। প্রেমিকের হাত দিয়ে রাঙ্গিয়ে দেন স্ত্রী রাখির কপাল।

ভালবাসা মানে না কোন আইনের কথা। বাঁকুড়ার মাটিতে হাম দিল দে চুকে সনমকেও হার মানিয়ে দিল প্রদীপ আর রাখির কাহিনী। বরং সুরেশ এক সন্তানের জননীকে আপন করে নিল গভীর ভালবাসায়। সমাজ কি বলবে তা নিয়ে কেউ তেমন ভাবিত নয়। বরং ভাললাগা আর ভালবাসাই শেষ কথা বলে মেনে নিয়েছে প্রদীপ। মনসা মন্দিরের উঠানে সিঁদুর দানের এই অনুষ্টান দেখতে সারা পাড়া ভেঙ্গে পড়েছিল। মেয়ের হঠাৎ এই ভালবাসার কথা শুনে ছুটে এসেছিলেন রাখির মা মিনতি বাগদিও। বিচ্ছেদের আইন অধিকার দেয় সঙ্গীকে বেছে নেওয়ার।কিন্তু রাখি-প্রদীপের দাম্পত্য বলে দিচ্ছে উদারতা আর ত্যাগই শ্রেষ্ঠ পথ।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী