সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক :’চিনের প্রাচীর: নামেই খ্যাত ছিলেন মোহনবাগানের কিংবদন্তী ডিফেন্ডার গোষ্ঠ পাল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরাসরি এই নামেই সম্বোধন করেছিলেন প্রবাদপ্রতিম ডিফেন্ডারকে।প্ৰখ্যাত রাজনীতিবিদ অতুল্য ঘোষ এক বার বলেছিলেন, ‘‘গোষ্ঠ পাল হল, জেল না খাটা এক স্বাধীনতা সংগ্রামী।”বাস্তবেই মাঠে একাধিক বার স্বাধীনচেতা মনোভাব দেখিয়েছেন, অনেকক্ষেত্রে ব্রিটিশ রেফারিদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন – তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত তাঁর ফুটবল জীবনকে ছোট করেছে। আলোচনা তাঁকে নিয়েই। তাঁর ক্লাব প্রীতির প্রকৃত রং নিয়ে বিতর্ক রয়েছে তাঁর ১২৭তম জন্মদিনেও।

ঘটি-বাঙালের আদি যুদ্ধ যতই স্তিমিত হোক, মোহনবাগানের দুর্গ গোষ্ঠ পাল ইস্টবেঙ্গলে খেলেছেন কিনা এনিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেন এই বিতর্ক? আদৌ কি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছিলেন গোষ্ঠ পাল?

গোষ্ঠ পালের জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুরে।তাঁর মামার বাড়ি ভাগ্যকুলে।তাঁর মামার বাড়ির অবদান রয়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব গঠনে। ফলে বাঙাল সেন্টিমেন্ট থাকা স্বাভাবিক। তাঁকে ইস্টবেঙ্গল তাঁর ফুটবল অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছিল। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে তাঁর ছবির তলায় ‘ইস্টবেঙ্গলের প্রথম অধিনায়ক’ লেখা থাকার রহস্য ভেদ করেছিলেন তাঁর ছেলে নীরাংশু পাল। তিনি জানিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব যখন ছোট ছোট প্রতিযোগিতা খেলত তখন গোষ্ঠ পাল ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন। ফলে তাঁর পুত্রের বক্তব্য মানলে বলতেই হয় ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মাঠে নেমেছেন গোষ্ঠপাল।
তথাপি উল্লেখ্য,ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তখনও আই এফ এ অন্তর্ভুক্ত ক্লাবের তালিকায় স্বীকৃত ছিল না। ফলে ভারতীয় মানের প্রতিযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে গোষ্ঠ পাল ইস্টবেঙ্গল জার্সি চাপান নি।পরবর্তীতে সর্বভারতীয় স্তরে ইস্টবেঙ্গল খেলা শুরু করার পরে তাঁর এক সম্পর্কিত মামার (যিনি আবার ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম শীর্ষ কর্তা ছিলেন) দেওয়া অভাবিত বিরাট অঙ্কের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি মোহনবাগান ছেড়ে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খাতায় কলমে নাম লেখাতে চান নি। বাঙালবাড়িতে জন্মালেও গোষ্ঠ পাল মনে প্রাণে ছিলেন মোহনবাগানের, যাদের প্রাচীর বরাবর আগলেছেন তিনি ।।।


More Stories
স্বপ্না বর্মনের অবসর
জিতল লাল হলুদ,অভিষেকে ইউসেফের জোড়া গোল
পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছেঁটে ফেলতে পারে আইসিসি?