সময় কলকাতা ডেস্কঃ বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এবং তার স্বামীর গ্রেপ্তারির দাবিতে বিক্ষোভ দেখালো বিজেপি। বিজেপির এই বিক্ষোভ ঘিরে শুরু হয়েছে শাসক -বিরোধী তরজা।
২০১৭ সালে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বর ব্লকে বন্যার ত্রাণ নিয়ে উঠেছিল দুর্নীতির অভিযোগ। মূলত যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছেল তাদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ জয়শ্রী কর্মকার এবং তার স্বামী বাপি পাল। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে বর্তমান পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কোয়েল দাস ,ত্রাণ কর্মাধ্যক্ষ রোশনারা খাতুন, একদা বিরোধী দলনেত্রী এবং বর্তমান তৃণমূল নেত্রী সুজাতা সাহার বিরুদ্ধেও।
২০১৭ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর এলাকার কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের একাংশ। ২০১৯ সালের প্রথমদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। অভিযোগ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে এই টাকা না দিয়ে শাসকদলের জনপ্রতিনিধি এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের একাউন্টে একাধিকবার ক্ষতিপূরণের টাকা পাঠানো হয়। অর্থাৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি ভুয়ো তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের পালপাড়া এবং রক্ষিতপাড়া এলাকার একাধিক পরিবারের একাউন্টে ৭০ হাজার টাকা করে ঢোকানো হয়েছিল কিন্তু সেই এলাকায় বন্যার জল প্রবেশই করেনি। সেই সময় অভিযোগ ওঠে জয়শ্রী কর্মকার এবং বাপি পাল ,এলাকারই এক ব্যক্তি মিঠুন রক্ষিতের মাধ্যমে এই টাকার লেনদেন করেছিল। আরো অভিযোগ ওঠে জয়শ্রী কর্মকার এবং বাপি পালের যোগসাজসে ৮৬ জন ভুয়ো বেনিফিশিয়ারির অ্যাকাউন্টেও টাকা দেওয়ার।

তৎকালীন হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের এবং কোর্টে মামলাও দায়ের করেন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোশনারা খাতুনকে গ্রেফতার করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। রহস্যজনকভাবে জয়শ্রী কর্মকার এবং বাপি পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও গ্রেফতার করা তো দূরের কথা তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। সম্প্রতি শাসকদলের ব্লক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বর ব্লকের তিনটি অঞ্চলের মহিলা সভাপতি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা জয়শ্রী কর্মকারের। তারপরেই প্রতিবাদের ঝড় উঠে এলাকায়। রবিবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার কুশিদা বাসস্ট্যান্ডে হরিশ্চন্দ্রপুরের বিজেপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তাদের দাবি অবিলম্বে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা তথা তৃণমূল নেত্রী জয়শ্রী কর্মকার ও তার স্বামী বাপি পালকে গ্রেফতার করতে হবে। তা না হলে থানা ঘেরাও সহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেয় বিজেপি নেতৃত্ব।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী