Home » ‘পলাতকের প্রত্যাবর্তন’, দেশে ফিরলেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি

‘পলাতকের প্রত্যাবর্তন’, দেশে ফিরলেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি

সময় কলকাতা ডেস্কঃ অবশেষে ঘুচল স্বেচ্ছা নির্বাসন। ৫২ দিন পর ফের শ্রীলঙ্কায় ফিরলেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষ। শুক্রবার রাতেই শ্রীলঙ্কার বিমানবন্দরে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এদিন বেশ কয়েকজন নেতা-মন্ত্রী রাজাপক্ষকে গলায় মালা পরিয়ে অভ্যর্থনাও জানান। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে রাজাপক্ষ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

সাত সপ্তাহ আগে নিঃশ্বব্দে দেশ ছেড়ে চম্পট দিয়েছিলেন গোতাবায়া রাজাপক্ষ। সেসময় জানা গিয়েছিল, চাটার্ট বিমানে চড়ে মালদ্বীপ যাচ্ছেন তিনি। পরে সে বিমান পৌঁছয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে মাসখানেক ছিলেন রাজাপক্ষ। সিঙ্গাপুর থেকেই দেশের প্রেসিডেন্ট পদে ইস্তফা দেন তিনি। এরপর ফুরিয়ে যায় তাঁর ভিসার মেয়াদও। ফলে সিঙ্গাপুর ছাড়তে বাধ্য হন প্রাক্তন লঙ্কা প্রেসিডেন্ট। এরপরই আশ্রয় নেন থাইল্যান্ডে।

শোনা গিয়েছে, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাংককের একটি হোটেলে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই নতুন একটি নিরাপত্তা বাহিনী তৈরি করা হয়েছে রাজাপক্ষের জন্য। যেখানে থাকছে পুলিশের কমান্ডো। এছাড়াও তাঁকে দেওয়া হবে একটি নিরাপত্তারক্ষী, একটি গাড়ি এবং থাকার জন্য আলাদা বাসভবন। যদিও শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরে আসার পরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে জনগণের দাবি মেনে ভ্রান্ত অর্থনীতির দেশের অর্থনৈতিক সংকট খাদ্যাভাবের অভিযোগে রাজা পক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে কি সরকার? যদি শ্রীলঙ্কার সরকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় সেক্ষেত্রে চরম রাজনৈতিক সংকটে রাজাপক্ষের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে। এখন দেখার জনগণের দাবি মেনে দেশের সরকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয় কিনা?

প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কায় তখন উত্তাল পরিস্থিতি। আর্থিক সংকটে কার্যত অনাহারে দিন কাটছিল শ্রীলঙ্কার বাসিন্দাদের। এমতাবস্থায় গোতাবায়া রাজপক্ষের ইস্তফা চেয়ে বিক্ষোভে সামিল হন নাগরিকরা। প্রায় হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী রাজাপক্ষের বাসভবন ঘিরে ধরে। এমনকী ক্ষোভের জেরে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তাঁর বাসভবনে। তাদের হটাতে টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটায় লঙ্কা পুলিশ। এরই মধ্যে জনরোষের মুখে পড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। পরিস্থিতি যে এতটাই ভয়ংকর হয়ে উঠবে, তা কয়েকদিন আগে থেকেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন রাজাপক্ষ। এই কারণে আগেই প্রধানমন্ত্রী বদলের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষ পলাতক হওয়ায় দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। কার্যত সেখানে ধ্বংসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

 

About Post Author