Home » ফিরে দেখা ২০২২ দেশ

ফিরে দেখা ২০২২ দেশ

সময় কলকাতা ডেস্কঃ বছর আসে, বছর যায়। তবে থেকে যায় কিছু স্মৃতি। রয়ে যায় কিছু নাম, কিছু শিউড়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। তাদের মধ্যেই কোনওটি তলিয়ে যায় কালের গর্ভে, আবার কোনও কোনও পরিবর্তন দেশীয় রাজনীতিতে চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলে যায়। বেশ কিছু নাম আবার রাজনীতির পট পরিবর্তনে মোক্ষম ভূমিকা পালন করে থাকে। চিরস্থায়ী হয়ে থাকে জনমানসে।

১. জম্মু ও কাশ্মীরে বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরে পদপিষ্ট নিহত ১২

বছরের শুরুতেই ছিল দুঃসংবাদ। ১ জানুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় মাতা বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হন, আহত হন বহু। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছিল, ‘অনুমতি পত্র’ ছাড়াই বহু ভক্ত ভোরে ঢুকে যান বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে। এরপরই হুড়োহুড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় প্রাণহারাদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকার করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

২. দেশ সাক্ষী থেকেছিল দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের: কৃষক আন্দোলনের জেরে আটকে পড়ে মোদির কনভয়

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে পাশ করানো হয়েছিল তিন কৃষি আইন। এই বিতর্কিত কৃষিআইন প্রত্যাহারের দাবিতে ২০২০ সালের শেষ ভাগ থেকেই আমাদের দেশ সাক্ষী থেকে কৃষকদের দীর্ঘ ১৫ মাস লাগাতার আন্দোলনের। শেষমেশ দেশের উত্তর প্রদেশ ও পঞ্জাবের নির্বাচনের প্রাক্কালে, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত জুড়ে ১ বছর ৩মাস ধরে চলা আন্দোলনরত কৃষকদের প্রতি বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, “আপনারা এবার ঘরে ফিরে যান”। শিখ ধর্মগুরু নানকের জন্মদিনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তবে, কৃষক আন্দোলনের রেশ চলাকালীনই ৫ জানুয়ারি পঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলায় একটি ফ্লাইওভারে আটকা পড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কনভয়।

৩. সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের কোপ

একীভূত অমর জওয়ান জ্যোতি ও জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের অনন্ত শিখা

১৯৭১ সালে ভারত-পাক যুদ্ধে শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে ১৯৭২ সালে রাজধানীর বুকে, ইন্ডিয়া গেটের পাদদেশে ‘অমর জওয়ান জ্যোতি’ শিখার প্রতিষ্ঠা হয়। গত পঞ্চাশ বছর ধরে যে অমর জওয়ান জ্যোতি ক্রমাগত জ্বলছিল, নির্মীয়মান সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসাবে জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে অনন্ত শিখার সাথে সেটি একীভূত করা হয়। ঐতিহ্য মিটিয়ে ‘সেন্ট্রাল ভিস্তা’র নামে রাজধানীর ‘মোদিকরণ’ করা হয়েছে বলে বিরোধীদের সমালোচনা কুড়িয়েছিল মোদি সরকার। তারওপর ভারতীয় সেনার আত্নবলিদানের স্মারক ইন্ডিয়া গেটের ‘অমর জওয়ান জ্যোতি’র ‘মোদিকরণে’র অভিযোগে বিদ্ধ হতে হয় কেন্দ্রীয় সরকার। খরচ বাঁচাতে ঐতিহ্যের ‘অমর জওয়ান জ্যোতি’র অগ্নিশিখাকে জাতীয় যুদ্ধ স্মারকের অগ্নিশিখার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

৪. হিজাব-পয়গম্বর বিতর্ক

বিতর্কের আঁচ পেয়েছিল গোটা দেশ

বছরের শুরুতে কর্ণাটকের বাসবরাজ বোম্মই সরকার কর্ণাটক শিক্ষা আইন, ১৯৮৩-র ১৩৩ (২) নামের একটি সংশোধনী আইন আনে। সেই আইন অনুযায়ী, সমস্ত পড়ুয়াকে কলেজ কমিটির বেছে দেওয়া পোশাক পরেই কলেজে আসতে হবে। কোনওরকম ধর্মীয় পোশাক পরা চলবে না। কর্ণাটক সরকারের এই ফরমানে জোর বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। উদুপি ও চিকমাগালুর জেলার বহু মুসলিম পড়ুয়া হিজাব ছাড়া কলেজে যেতে অস্বীকার করে। তৈরি হয় বিতর্ক। ক্রমে সেই বিতর্কের আঁচ পড়ে গোটা দেশে। ভাইরাল হয়েছিল হিজাব পরিহিতা এক মুসলিম নারীর প্রতিবাদও। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টও এ নিয়ে ‘স্প্লিট ভারডিক্ট’ দিয়েছে। যার ফলে আপাতত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে হিজাব পরা বন্ধই রয়েছে। এদিকে, পয়গম্বর নিয়ে নূপুর শর্মার মন্তব্য ছড়িয়েছিল বিতর্ক। বছরের মাঝামাঝি বিজেপি মুখপাত্র নূপুর শর্মা, নবিকে বিতর্কিত একটি মন্তব্য করেছিলেন। যার জেরে গোটা দেশে কার্যত আগুন জ্বলে যায়। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশ। ভাঙচুর, ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, এমন অনেক কিছুই হয়। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে নূপুরের বিরুদ্ধে ১০টি রাজ্যে মামলাও হয়। সুপ্রিম কোর্টে সবকটি মামলা একত্রিত করে এখনও শুনানি চলছে। বিজেপি বাধ্য হয়ে নূপুরকে বরখাস্ত করে।

৫. ৫ হাইভোল্টেজ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফল

 ‘বিজেপির জয়ের সারথি দেশের স্ত্রী শক্তি’, বলেছিলেন মোদি

১০ মার্চ, প্রেস্টিজ ফাইট। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নতুন আঞ্চলিক দলের গজিয়ে উঠে ভোট কারার ভয়, কৃষক আন্দোলনের প্রভাব — সব পার করে দেশের ৫ রাজ্যের ফল ঘোষণা। সবথেকে বেশি নজর আছে উত্তরপ্রদেশ এবং পঞ্জাবের দিকে, কারণ কৃষি আন্দোলনের আঁচ সবথেকে বেশি পেয়েছিল এই দুই রাজ্যই। তবে, শেষ পর্যন্ত পদ্মশিবিরের মুখ রক্ষা করেছিল উত্তরপ্রদেশ, মনিপুর, গোয়া ও উত্তরাখণ্ড। পঞ্জাব যায় আম আদমি পার্টির দখলে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির আমলে মুজফফরনগরে যে হিংসা হয়েছিল, তার সুযোগ পেয়েছিল বিজেপি। নিজেদের বিভিন্ন জাতি, বর্ণ ছেড়ে সপার বিরুদ্ধে ‘হিন্দু’ হিসেবে ভোট দিয়েছিলেন হিন্দুরা। একাংশের মতে, মাসছয়েক আগেও বিজেপির বিরুদ্ধে কৃষকদের যতটা ক্ষোভ ছিল, কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাতে অনেকটাই প্রলেপ পড়েছে। পঞ্জাবে অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ায় মাশুল গুনতে হয় কংগ্রেসকে। অথচ কংগ্রেসের হাতে কৃষি আন্দোলনকে কাজে লাগানোর সুযোগ ছিল। উঠেছিল হাওয়া বদলের রব। সেই হাওয়ায় ভর করেই পঞ্জাবে ওঠে ঝাড়ু ঝড়। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ‘পরিবর্তনের’ ধারা ভেঙে দেবভূমি উত্তরাখণ্ড জয় করে বিজেপি। অনেক আগে থেকেই ঘর ভাঙার খেলা খেলে শেষে বাইশে গোয়াতেও জয়লাভ করে বিজেপি। একই খেলা খেলে বাইশে মনিপুরের মসনদ দখল করে বিজেপি।

৬. মতানৈক্য

 ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন দল ছাড়েন কপিল-গুলাম

বহুদিন ধরেই বিদ্রোহ দানা বাঁধছিল। হয়তো বা চিঠির মাধ্যমে, নয়তো সভায় বা সংবাদমাধ্যমের সামনে, বারবার সেই ক্ষোভ তুলে ধরেছিলেন দলের বিক্ষুব্ধরা। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের কানে হয়তো তা পৌঁছয়নি। আর সেই কারণেই ২০২২-এ বড় ধাক্কা খায় কংগ্রেস। দল ছাড়েন দুই প্রবীণ নেতা। এখানে কথা হচ্ছে গুলাম নবি আজাদ ও কপিল সিব্বলের। কংগ্রেস থেকে প্রথমে বিদায় নেন প্রবীণ নেতা তথা দুঁদে আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিন দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে গত ১৬ মে তিনি কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন। ২৬ মে সমাজবাদী পার্টির সমর্থন নিয়ে রাজ্যসভা প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। কবিল সিব্বলের ইস্তফার তিন মাস পরেই ফের ধাক্কা খায় কংগ্রেস। ইস্তফা দেন আরেক প্রবীণ নেতা তথা জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ। ২৬ অগস্ট তিনি কংগ্রেসের সদস্যপদ থেকে শুরু করে যাবতীয় সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন।

৭. ন্যাশনাল হেরল্ড কেস

 রাহুল গান্ধিকে জিজ্ঞাসাবাদ, সনিয়াও ছিলেন তালিকায় 

এবছরটা খুব একটা ভালো যায়নি কংগ্রেসের। দলে ভাঙন, একের পর এক পরাজয়। উপরি পাওয়া ছিল, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তদন্ত। মামলায় নাম জড়ায় কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধি ও রাহুল গান্ধির। ১৩ জুন থেকে বেশ কয়েকবারই ইডি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন সনিয়া পুত্র রাহুল গান্ধি। প্রশ্নপর্বের মুখোমুখি হন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধিও। প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন গোটা দেশের কংগ্রেস সমর্থকেরা। উত্তপ্ত হয়েছিল দিল্লি। আটক হন ৪০০-রও বেশি কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক।

৮. অগ্নিপথ প্রকল্পের ঘোষণা

 রেশ ছেয়েছে বহুদূর

১৬ জুন ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেনা নিয়োগের পদ্ধতি, তাদের কাজের স্থায়িত্বতে নতুনত্ব আনার আশ্বাস দেয় কেন্দ্র। এই প্রকল্পের আওতায় নিযুক্ত জওয়ানদের বলা হবে ‘অগ্নিবীর’। সেনাবাহিনীর লোকবল অক্ষুন্ন রেখেই অস্থায়ী পদে সেনা নিয়োগ করা হবে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, পদ হল অস্থায়ী। প্রকল্প ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ফেটে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। এই অস্থায়ী পদে নিয়োজিত হতে তাঁরা একেবারেই নারাজ। প্রকল্পের বিরোধিতায় দেশজুড়ে চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিবাদ, মিছিল, ভাঙচুর দেখেছে গোটা দেশ। বিহার, উত্তর প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থানসহ ১০টি রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা হয়। ওই দিন তেলেঙ্গানা রাজ্যের সেকেন্দ্রাবাদ শহরে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি চালালে এক তরুণ প্রাণ হারান। বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেলপথ। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেনা নিয়োগ হলে স্থায়ীভাবে নিয়োগের রাস্তা প্রায় বন্ধই হয়ে যাচ্ছে। চার বছর উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তাগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীরা। যে ৭৫ শতাংশ স্থায়ী কমিশন পাবেন না তাঁরা অবসরকালীন যে কোনও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। মিলবে না পেনশনও।

৯. মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক ডামাডোল, শিবসেনা ভাগাভাগি

শিবসেনা বালাসাহেব ঠাকরের দল। কিন্তু, বাইশের মাঝামাঝি সময়েই মহারাষ্ট্রের রাজনীতির পটপরিবর্তনে মুচমুচে হয়ে ওঠে রাষ্ট্র-রাজনীতির পরিসর। বালাসাহেব ঠাকরের ছেলে উদ্ধব ঠাকরে, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, বাবার দল থেকেই ব্রাত্য হয়ে পড়েন ছেলে ! মহারাষ্ট্রের রাজনীতি বছরের মধ্যভাগে নাটকীয় পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকে। হঠাত্ করেই শিবসেনা নেতা তথা মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী একনাথ শিন্ডে-সহ ২১ বিধায়ক সুরাটে চলে যান। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে অনাস্থা দেখিয়ে একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বে শিব সেনার একটা বড় অংশ হাত মেলাল বিজেপির সঙ্গে। আরও একটি রাজ্যে সফল হল ‘অপারেশন লোটাস’। যার ফলে উদ্ধব ক্ষমতাচ্যুত হলেন। সরকার গঠনেও আসে চরম নাটকীয়তা। মারপ্যাঁচ কাটিয়ে বিজেপির সমর্থনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হন একনাথ শিণ্ডে। উপমুখ্যমন্ত্রী হলেন দেবেন্দ্র ফড়ণবিস। আড়াআড়িভাবে ভেঙে গেল শিব সেনা। নির্বাচন কমিশন দুই শিবিরকে আলাদা আলাদা দলের স্বীকৃতি দিয়েছে। শিব সেনার তির-ধনুক প্রতীক কাউকেই দেওয়া হয় না।

১০. গুজরাট দাঙ্গার দায়ে গ্রেফতার তিস্তা শেতলবাদ

২৫ জুন ২০০২-এর গুজরাট দাঙ্গার দায়ে তিস্তা শীতলবাদ।  ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে তদন্তকারী দল তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ বেশ কয়েকজনকে ক্লিনচিট দেয়। তাঁরই বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। এবং সেই মামলা দেশের শীর্ষ আদালত খারিজ করে, পাশাপাশি আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে কোনও মিথ্যে তথ্য পেশ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। সেই সূত্রেই গ্রেফতার করা হয় তিস্তা শেতলবাদকে। অভিযোগ, ধৃত সমাজকর্মী তিস্তা শেতলবাদ বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের খাতিরে কংগ্রেস নেতা আহমেদ প্যাটেলের থেকে ৩০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে তিস্তা শেতলবাদ বিতর্ক উস্কে ওঠে। নাম জড়ায় কংগ্রেসেরও। তিস্তা শেতলবাদের গ্রেফতারি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় গোটা দেশ জুড়ে। দেশ ছাড়িয়ে বিতর্কের আঁচ ছড়ায় বিদেশেও। রাষ্ট্রপুঞ্জের পক্ষ থেকে তিস্তা শেতলবাদকে গ্রেফতারি নিয়ে মন্তব্য করা হয়।

১১. সে যেন এক দুঃস্বপ্ন, স্মৃতি ঘাটতে চান না কেউই !

 

মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় অশনি ২০২২ সালের মে মাসে ভারতে ল্যান্ডফল করে। অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে এই ঘূর্ণিঝড় ল্যান্ডফল করে। ৩০ জুন রাতে মণিপুরের ননি জেলায় টুপুল রেলওয়ে নির্মাণ সাইটের কাছে ভূমিধস নামে। ঘটনায় কমপক্ষে ৫৮ জন নিহত হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ২৯ জন ভারতীয় সেনাবাহিনীর, বাকি ২৯ জন সাধারণ নাগরিক। ৮ জুলাই অমরনাথ গুহার কাছে একটি মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কমপক্ষে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছিল এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিল। অন্যদিকে, অক্টোবরে বন্যার কবলে পড়ে উত্তরপ্রদেশ। চরম দুর্ভোগের শিকার হয় উত্তরপ্রদেশের ১৮-র বেশি জেলা। প্রাণ হারান বহু মানুষ। বন্যা বিধ্বস্ত তেলেঙ্গানায় বাড়ি ছাড়া হন বহু, প্রাণ হারান বহু, হায়দ্রাবাদেও ধরা পরে একই ছবি।

১২. দেশ পেল প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি

ইতিহাস গড়লেন দ্রৌপদী মুর্মু

২১ জুলাই নতুন রাষ্ট্রপতি পায় ভারত। দেশের ১৫ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হলন এনডিএ মনোনীত প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু। বিরোধী দলের প্রার্থী যশবন্ত সিনহাকে প্রায় ৩ লক্ষেরও বেশি ভোটে হারিয়ে জয়ী হন দ্রৌপদী। দেশের দ্বিতীয় মহিলা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

১৩. গুজরাট বিষমদকাণ্ড

বিষাক্ত মদ্যপানে মৃত্যু ৪২ জনের, অসুস্থ বহু ! 

মোদির রাজ্যে বিষমদকাণ্ডে মৃত্যু ৪২ জনের, অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু। মৃতদের পাকস্থলী থেকে মিথাইল অ্যালকোহলের উপস্থিত ছিল বলে জানা যায়। গুজরাটে মদ্য বিক্রি ও মদ্য পান নিষিদ্ধ। তাই ড্ৰাই স্টেটে চোলাই মদ খেয়ে এতজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়েছে বিজেপি সরকার। উঠে আসে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগও।

১৪. ‘পল্টুরাম’: নীতিশের ভোলবদল

বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ কুমার ‘পল্টুরাম’ হিসাবে পরিচিত। ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে কখন বন্ধুকে শত্রু, আর কখন শত্রুকে বন্ধু বানিয়ে ফেলবেন, তা বোঝাই যাবে না। রাজনীতির ময়দানে ক্ষমতা ধরে রাখতে এবছরও নীতীশ কুমার ভোল বদলেছেন। বিজেপির হাত ছেড়ে আরজেডির হাত ধরে যোগ দিয়েছেন ইউপিএ-তে। তেজস্বী যাদবকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে ফের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। তবে, নীতীশের এবারের ভোলবদল একটু বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবার শিবির বদলের পর জেডিইউ সুপ্রিমো যেভাবে বিজেপিকে ‘গালমন্দ’ করে চলেছেন সেটা আগে কখনও করতে দেখা যায়নি তাঁকে। এই মুহূর্তে নীতীশ বিজেপির সঙ্গে সখ্যতাকে অতীত ধরে, বিরোধী শিবিরের প্রধানমন্ত্রীর মুখ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

১৫. বাংলার রাজ্য-রাজ্যপালের সংঘর্ষে ইতি

দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়  

ভারতের ১৪ তম উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জগদীপ ধনখড়। প্রতিপক্ষ মার্গারেট আলভাকে হারান বড় ব্যবধানে। বাংলার রাজ্যপাল থাকাকালীন নবান্ন-রাজভবন দ্বৈরথ কারোরই অজানা ছিল না। তবে, ভালো পার্ফর্মেন্সের জন্য উপরাষ্ট্রপতি হন জগদীপ ধনখড়।

১৬. গুড়িয়ে ফেলা হয় নয়ডার টুইন টাওয়ার 

২৮ আগস্ট দুর্নীতির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সুপারটেক নির্মাতার টুইন টাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে গুড়িয়ে ফেলা হয়। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ভেঙে ফেলা হয় উত্তর প্রদেশের নয়ডার বেআইনি বহুতল টুইন টাওয়ার। এর জন্য হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দীর্ঘ লড়াই হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জয় হয় সাধারণ মানুষের, যারা নির্মাতার স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিল।

১৭. টলমল ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন সরকার !

নিজের নামে একটি খনির ইজারা নেওয়ার অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিল রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, কোনও জনপ্রতিনিধি লাভজনক কোনও কাজে যুক্ত থাকতে পারেন না। বিজেপি এই বিষয়ে ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল। রাজ্যপাল এই বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতামত জানতে চাইলে তাদের তরফে হেমন্তের বিধায়ক পদ খারিজের প্রস্তাব করা হয়। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার রাজ্যপালের হাতেই ন্যস্ত করে নির্বাচন কমিশন। এসবের মাঝেই ঝাড়খণ্ডের রিসর্ট রাজনীতি দেখে গোটা দেশ। যে কোনও মুহূর্তে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করতে পারেন রাজ্যপাল। তবু বাসযাত্রা থেকে জলবিহার, ঝাড়খণ্ডে নিজের সরকার বাঁচাতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। শাসকজোটের বিধায়কদের নিয়ে পাড়ি দেন হেমন্ত। পরে ৫ সেপ্টেম্বর ঝাড়খন্ড বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়লাভ করেন হেমন্ত সোরেন। বিরোধীরা হেমন্তের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন, আস্থাভোটে জিতে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন হেমন্ত সোরেন।

১৮. দিল্লির মদ কেলেঙ্কারি

ইডি-সিবিআই তলবে জর্জরিত দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী 

দিল্লির মদকাণ্ডে নাম জড়ায় দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া সব বহু আপ নেতার। আপ নেতা তথা দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিং এবং কেসিআর-এর মেয়ের নাম ইডির চার্জশিটে দাখিল করেছে ইডি। এই চার্জশিটে, ইডি দাবি করেছে দিল্লি মদ কেলেঙ্কারিতে সরকারের ২৮৭৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যেখানে অভিযুক্তরা এই মদ কেলেঙ্কারি থেকে ২৯৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। একাধিকবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলবের মুখোমুখি হন মণীশ সিসোদিয়া। চলে একাধিক নেতার বাড়িতে তল্লাশি, গ্রেফতারি। যদিও, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ কমাননি আপ সুপ্রিমো তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া।

১৯. কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রা

‘পার্ট টাইম রাজনীতিবিদ’ ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে এলেন কংগ্রেসের রাজপুত্র 

এসি ঘর বসে নয়, আন্দোলন হবে মাঠে নেমে। ভাঙতে থাকা দলকে পুনরুজ্জীবনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন কংগ্রেসের রাজপুত্র রাজীব-সনিয়া পুত্র রাহুল গান্ধি। বছরের শেষদিকে এসে তিনি শুরু করেন সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ভারত জোড়ো যাত্রা।’ কন্যাকুমারী থেকে শুরু হয়ে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি, পাঞ্জাব হয়ে এই যাত্রা শেষ হবে কাশ্মীরে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কংগ্রেস সমর্থকরা ঝিমিয়ে পড়েছিলেন, তাঁরা আবার রাস্তায় নামছেন। পা মেলান বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। শুধু তাই নয়, রাহুলের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিতেও ব্যাপক বদল এনেছে এই ভারত জোড়ো যাত্রা। যদিও, বিজেপির কটাক্ষ, মাঝপথে যাত্রা ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে পারেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। সেসব কটাক্ষের জবাব দিয়ে কার্যত নিজের ‘পাপ্পু’ এবং ‘পার্ট টাইম রাজনীতিবিদ’ ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন কংগ্রেসের রাজপুত্র। তবে, সম্প্রতি দেশজুড়ে ফের করোনার আতঙ্কে ফের প্রশ্নের মুখে রয়েছে কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রা।

২০. গান্ধিদের হাতের বাইরে কংগ্রেস

এবছর বহু উথ্থান-পতন দেখেছে দেশের শতাব্দীপ্রাচীন দল কংগ্রেস। এসব থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২২ সালের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনটি ঘটেছে কংগ্রেসের অন্দরে। প্রায় ৩ দশক বাদে কোনও অ-গান্ধিকে বসানো হয়েছে কংগ্রেস সভাপতির পদে। প্রকৃতঅর্থে, গান্ধি পরিবারের সদস্যদের হাতে দলের লাগাতার ব্যর্থতা এবং সেই সঙ্গে পরিবারতন্ত্র নিয়ে বিরোধীদের খোঁচা – এই দুইয়ের ফাঁস থেকে বেরোতে চাইছিল কংগ্রেস। ফলস্বরূপ, নির্বাচনের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় দলের সভাপতি। নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং শশী থারুর। ভোটে থারুরকে অনায়াসে হারিয়ে ১৯ অক্টোবর দেশের প্রধান বিরোধী দলের ব্যাটন নিজের হাতে তুলে নেন খাড়গে।

২১. মোরবি মারণ সেতু: মনে করায় পোস্তার ঘটনা

৩০ অক্টোবর, গুজরাটে মোরবি জেলায় মাছু নদীর ওপর ভেঙে পড়ে একটি ঝুলন্ত সেতু। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৪১ জনেরও বেশি মানুষের। পরে দুর্ঘটনাস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটে ভোটের প্রাক্কালে এই ঘটনা আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। দুর্ঘটনা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার সম্মুখীন হয় মোদির রাজ্যের সরকার। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালে কলকাতার পোস্তা ফ্লাইওভার দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয় বিরোধীদলীয় নেতা। প্রশ্ন ওঠে ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কোম্পানির ভূমিকা নিয়েও। অভিযোগ ওঠে, সংস্থার গাফিলতির। অভিযোগ ওঠে, মোরবি পুরসভার ভূমিকা নিয়েও, অভিযোগ ওঠে স্বার্থের কারণে উদাসীনতারও। গ্রেফতার হন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন। ৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে গুজরাট পুলিশ।

২২. গুজরাট জয়, হিমাচল-দিল্লিতে ধাক্কা লোটাস শিবিরের  

যোগীর গড় উত্তরপ্রদেশে বিজেপির যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, বছর শেষে সেটা অব্যাহত থাকল গুজরাটেও। প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্যেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সপ্তমবার ক্ষমতায় ফেরে বিজেপি। প্রভাব ফেলেনি মোরবির মারণ দুর্ঘটনাও। গুজরাটের রাজনীতিতে আপ ভোট কাটুয়া খেতাব নিয়ে উঠে আসে। তার খেসারত দিতে হয়েছে কংগ্রেসকে। হাত শিবিরের ভোটব্যাংক এবং আসন সংখ্যায় বিরাট ধস নামে। তবে, গুজরাটের সেই ধাক্কা অবশ্য কংগ্রেস কিছুটা সামলে নিয়েছে হিমাচল প্রদেশে। ৫ বছর অন্তর অন্তর পাহাড়ি রাজ্যটিতে সরকার বদলের যে রীতি, সেটা বজায় রেখে হিমাচল প্রদেশে ক্ষমতা দখল করেছে হাত শিবির। এদিকে, গেরুয়া শিবির আরও একটা জায়গায় ধাক্কা খেয়েছে, সেটা হল রাজধানী দিল্লি। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর দিল্লি পুরনিগম হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির। নিজের গড়ে প্রথমবার পুরসভা দখল করেছে আম আদমি পার্টি।

ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। দেশজুড়ে এবছর চরম মাত্রায় পৌঁছয় বলেই অভিযোগ বিরোধীদের। কংগ্রেসের ‘ফার্স্ট ফ্যামিলি’ থেকে শুরু করে তৃণমূল, আপ, শিব সেনা পর্যন্ত প্রায় সব দলই কমবেশি কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র শিকার হয়েছে। বছর শেষে এমনই কিছু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খবর রয়ে গেল সময় কলকাতায় আর্কাইভে।

About Post Author