সময় কলকাতা ডেস্ক,৭ জানুয়ারিঃ লালন শেখের মৃত্যু মামলায় এবার সিআইডি তদন্তে অনাস্থা প্রকাশ সিবিআইয়ের। শুক্রবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করে। আর তারপরই সিআইডি’র কাছ থেকে কেস ডায়েরি তলব করলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। রাজ্য পুলিশ লালন মৃত্যুর তদন্ত ভুল পথে নিয়ে যেতে চাইছে বলেও আদালতে নালিশ জানিয়েছেন সিবিআই আইনজীবী। আগামী সোমবার ফের হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি রয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
যদিও লালন শেখের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে লালন মামলার শুনানি চলাকালী, কেন্দ্রীয় আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, সিবিআই হেফাজতে কীভাবে লালন শেখের মৃত্যু হল? তারই তদন্ত শুরু করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মহেশ কুমার মিত্তালের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে, লালন শেখের রহস্যমৃত্যুতে মানবাধিকার কমিশনের করা মামলার শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ। রায়দান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বগটুই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের রহস্যমৃত্যুর কিনারা করতে সিবিআইএর অস্থায়ী ক্যাম্পের পর লালন শেখের বাড়িতে পৌঁছয় ফরেন্সিক টিম। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় লালনের স্ত্রীকে। এরপরই রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে গিয়ে লালন শেখের স্ত্রী রেশমা বিবির বয়ান রেকর্ড করেছেন সিআইডি-র গোয়েন্দারা। সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তাঁর যাবতীয় অভিযোগ শুনেছে সিআইডি। লালনের স্ত্রী রেশমা বিবি তিন পাতার অভিযোগ করেছিলেন। যেখানে কিনা অন্তত ৭ জন সিবিআই আধিকারিকের নাম ছিল। লালন শেখের মৃত্যুতে তাঁদের কী ভূমিকা ছিল, কেন তাঁদের নাম এফআইআর-এ রয়েছে, সেগুলিও এদিন জানতে চায় সিআইডি। একইসঙ্গে লালনের স্ত্রী জানিয়েছিলেন, মামলা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সিবিআইয়ের তরফে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন লালনের স্ত্রী। পুলিশের একটি সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, লালনকে ‘পার্শিয়াল হ্যাঙ্গিং’ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ মাটিতে পা ঠেকে ছিল। ছবিতেও তাই দেখা গিয়েছে। লালনের মৃত্যু রহস্যের তিনটি দিক। প্রশ্ন অনেক। এখন প্রশ্ন, কে এই লালন শেখ ? বীরভূমের রামপুরহাটে খুন হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ। মৃত্যুর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বগটুই গ্রামের একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো নারকীয় ঘটনা ঘটে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাটা ছিল ৮। যদি, এই হিসেবের হেরফের রয়েই গিয়েছে। অভিযোগ হল, ওভাবে এতগুলো মানুষকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিল লালন শেখ। অর্থাৎ বগটুই গণহত্যার ঘটনায় লালনই অন্যতম অভিযুক্ত।


More Stories
মহেশতলায় বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিকের মৃত্যু
অনুমতি ছাড়া তৃণমূলের মিছিল, গ্রেফতার কুণাল ঘোষ
পুলিশ- আন্দোলনকারী সংঘর্ষ, ছাত্র আন্দোলনের জেরে অবরুদ্ধ মধ্য-কলকাতা