Home » আজ দার্জিলিং পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন

আজ দার্জিলিং পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারিঃ সোমবার দার্জিলিং পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন। এদিন দার্জিলিং পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। সোমবার পুরভবন চত্বরে ১৪৪ ধারা জারি ও পুলিস মোতায়েন করে ভোট পরিচালনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট পদে প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলার দীপেন ঠাকুরির নাম আগেই ঘোষণা করেছেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা নেতা অনীত থাপা।

তবে, রবিবার বিকেল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টি সহ বিরোধীরা। কিছুদিন আগে অনাস্থা ডেকে হামরো পার্টির কাছ থেকে দার্জিলিং পুরসভা ছিনিয়ে নেয় অনীতের ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। এর বিরোধিতা করে আদালতে যায় হামরো পার্টি। তাতে তারা সুবিধা করতে পারেনি। এ অবস্থায় পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে আজ, পুরসভায় চেয়াম্যান নির্বাচন। সব দলের নজর সেদিকেই। তবে এসবের আগেই রবিবার বিকেলে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে অজয় এডওয়ার্ড, বিমল গুরুঙ্গ, বিনয় তামাঙকে একমঞ্চে থাকার বিষয়টি উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের সঙ্গী ছিলেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সমন পাঠক, পার্বত্য কংগ্রেস সহ ২২টি রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক সংগঠন।

এদিকে কিছুদিন আগেই একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল অজয় এডওয়ার্ড, গোর্খা জনমুক্তি সুপ্রিমো বিমল গুরুং ও তৃণমূলের সভাসদ বিনয় তামাং-কে। এই আবহে দল থেকে পদত্যাগের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন বিনয় তামাং। তাহলে কি পাহাড়ে নতুন করে কোনও সমীকরণ তৈরি হয়েছে? এমনটাই প্রশ্ন উঠেছিল রাজনৈতিক মহলে। যদিও ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা ইতিমধ্যেই নতুন করে বোর্ড গঠন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দলের মুখপাত্র কেশবরাজ পোখরেল বলেন,‘ওদের হেরে যাওয়ার ভয় রয়েছে। তাই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এসব আন্দোলন করছে। আর ওদের এই আন্দোলনকে গোটা পাহাড় বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছে না। এমনকী শান্তিপূর্ণ পাহাড়কে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। আমাদের দেশে নেতারা দল পরিবর্তন করেই থাকে। এতে কোনও ভুল নেই।’ অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে বিমল গুরুং বলেন, বর্তমানে ‘পাহাড়ে কোনও অনুশাসন নেই। গণতন্ত্রকে পুরোপুরি হত্যা করা হয়েছে। এদিকে,অর্থের লোভ দেখিয়ে কাউন্সিলর কেনাবেচা চলছে। আমরা এই রাজনীতির বিরুদ্ধেই সোচ্চার হয়েছি। কেন্দ্র ও রাজ্য নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’

প্রসঙ্গত,গত ২৪ নভেম্বর দার্জিলিং পুরসভার চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার ছ’জন কাউন্সিলর মিটিং ডাকার জন্য নোটিস দেয়। নিয়ম হচ্ছে, এই ধরনের চিঠির পর ১৫ দিনের মধ্যে বৈঠক ডাকতে হয়। কিন্তু তা না হওয়ায় ১৩ ডিসেম্বর ভাইস চেয়ারম্যানকে ফের জানানো হয়। তাতেও কাজ হয়নি। এরপর তিনজন কাউন্সিলর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার জন্য ১৮ ডিসেম্বর বৈঠক ডাকে। তার পরেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আটকাতে হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চে যায় হামরো পার্টির চেয়ারম্যান রীতেশ পোর্টেল ও ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াঞ্জি শেরপা। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে সোমবার বিচারপতি কৌশিক চন্দ নির্দেশ দেন, হামরো পার্টির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারবেন কাউন্সিলররা। তবে, দার্জিলিং পুরসভায় অনাস্থা ভোটাভুটির আগে পাহাড়ের গণতন্ত্র বাঁচাতে অজয় এডওয়ার্ডের আন্দোলনে যোগ দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং সহ তৃণমূলের সভাসদ বিনয় তামাং। বিমল গুরুং ও বিনয় তামাংকে ডেকে অজয় এডওয়ার্ড এটা প্রমাণ করতে মরিয়া যে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা অনৈতিকভাবে বোর্ড দখল করতে চাইছে।

About Post Author