Home » আগামী চার মাসের মধ্যেই চারধাম যাত্রা শুরু হবে: পুষ্কর সিং ধামি

আগামী চার মাসের মধ্যেই চারধাম যাত্রা শুরু হবে: পুষ্কর সিং ধামি

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ জানুয়ারিঃ যোশীমঠের পরিস্থিতি আগের থেকে ঠিক আছে। সেখানে ৬৫-৭০ শতাংশ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। আগামী চার মাসের মধ্যেই চারধাম যাত্রা শুরু হবে। তখন এই অবস্থা আরও উন্নত হয়ে যাবে। দলে দলে তীর্থযাত্রীরা তখন আসবেন। জোশীমঠ হয়েই তাঁরা কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথের দিকে এগিয়ে যাবেন। বুধবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানালেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি জানান, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে জোশীমঠের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি এখানকার বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সমস্তরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁকে বলতে শোনা যায়, জোশীমঠের পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। দেশের অন্য অংশে বসে থেকে জোশীমঠ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করা হচ্ছে।”

উত্তরাখণ্ডে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই শহরজুড়ে এখন শুধুই ফাটল। কোনও সময় বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে দেবভূমি। ফাটল দেখা দিয়েছে ৮৫০টি বাড়িতে। ফাটল দেখা দিয়েছে অবস্থিত যোশীমঠ-মালারি সড়কেও। ভারত-চিনের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এই রাস্তাজুড়ে নানা স্থানেই দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফাটল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ঘোষণা করে দিলেন, এই জনপদ বসবাসের উপযুক্ত নয়। এখানকার পুর এলাকাগুলিকে ‘বিপর্যস্ত’ তকমা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধামির কাছে।

সম্প্রতি জোশীমঠের বাসিন্দাদের যাতে শিকড় উপড়ে না যায়, তার জন্যই ইতিমধ্যেই একটি মডেল শহর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট। যোশীমঠের ভাঙন রুখতে এই সংস্থার তরফে একটি বিপর্যয় প্রতিরোধক মডেল শহর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জোশীমঠের যে সমস্ত বাসিন্দারা বাড়িতে ফাটল ধরার কারণে ঘরছাড়া হয়েছেন, তারা এরফলে উপকৃত হবেন। একদিকে যেমন সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের তরফে মডেল শহর গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তেমনই কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের তরফেও তিন-স্তরীয় অ্যাকশন প্ল্যানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যে বিল্ডিংগুলি সম্পূর্ণ বিপদজনক, সেগুলিকে ভেঙে ফেলতে হবে। বাকি ৪ হাজার বিল্ডিং কতটা সুরক্ষিত ও মজবুত, তার সেফটি অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিবিআরআই-র ডিরেক্টর আর প্রদীপ কুমার। সোমবারই সিবিআরআই-র ডিরেক্টর সংস্থার বিজ্ঞানীদের নিয়ে যোশীমঠ ঘুরে দেখেন এবং পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ ও উত্তরাখণ্ড সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তাঁরা। সিবিআরআই-র তরফে একটি বিপর্যয় প্রতিরোধক মডেল শহর গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে আধুনিক খরচ সাপেক্ষ বিল্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষিত জায়গা চিহ্নিত করে পরিকল্পনামাফিক শহর তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

About Post Author