সময় কলকাতা ডেস্ক,৬ জানুয়ারি: হাইকোর্টে স্বস্তি বলিউড অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের। অভিনেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা স্পষ্ট জানান,পরেশ রাওয়ালের বিরুদ্ধে আর কোনও তদন্ত করা যাবে না। সম্প্রতি,বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে মন্তব্যের জেরে আইনি বিতর্কে জড়িয়েছেন বিজেপি সাংসদ অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। তাঁর বিরুদ্ধে তালতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে হাজিরা দিতে নোটিস পাঠিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবারই আদালত দ্বারস্থ হন পরেশ রাওয়াল।

সোমবার সেই মামলারই শুনানির সময় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা জানান, ‘তিনি গুজরাতি ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন। এমনকী টুইট করে তিনি ক্ষমাও চান। এরপরও কেন মামলা করতে হল? অভিযোগকারী সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে।‘

প্রসঙ্গত, গুজরাটে নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন জনপ্রিয় অভিনেতা। গ্যাসের দাম নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে বিজেপি সাংসদ বলেন,‘গ্যাসের দাম বাড়লে তা আবার কমে যাবে। মূল্যবৃদ্ধি হলে সেটাও লাগামের মধ্যে চলে আসবে। রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ঘুরে বেড়ায়, তখন কী করবেন? কমদামের গ্যাসে মাছ রান্না করে বাঙালিদের খাওয়াবেন?’এই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের রোষের মুখে পড়েন পরেশ। যদিও এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন অভিনেতা। তাতেও অবশ্য বিতর্ক থামেনি। এরপরই তালতলা থানায় পরেশের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।

যদিও এ প্রসঙ্গে পরেশ রাওয়াল জানিয়েছিলেন, তিনি অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের কথা বলতে চেয়েছেন। বাঙালিদের অপমান করতে চাননি। এর জন্য যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাতে তিনি দুঃখিত। বিতর্ক একবার নয়। বারবার বিতর্কের দানা বেঁধেছে পরেশ রাওয়ালের বিবৃতি ঘিরে। ২০১৪ সালে পূর্ব আমেদাবাদ কেন্দ্র থেকে বিজেপি সাংসদ হওয়ার পরে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি। ২০১৭ সালে পরেশ রাওয়াল বিতর্কিত হয়ে ওঠেন অরুন্ধতী রায়কে নিয়ে তার মন্তব্যের জন্য। সে সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে এক পাথর নিক্ষেপ কারীকে বেঁধে রাখার বিষয়টি সামনে আসে।

পরেশ রাওয়াল সে সময় টুইট করেন প্রস্তর নিক্ষেপকারীকে না বেঁধে রেখে তার বদলে লেখিকা অরুন্ধতী রায়কে বেঁধে রাখা হোক। শুধু তাই নয় তিনি লেখিকা অরুন্ধতী রায় প্রসঙ্গে গোদরা দাঙ্গার কথাও টেনে আনেন। এই উক্তি বিতর্কে জন্ম দেয় এবং বিদ্বজন সমাজ ও রাজনৈতিকভাবে কংগ্রেস প্রবল বিরোধিতা জানায়। ২০১৭ সালের তার আরেকটি বক্তব্য রাজপুত সমাজের উস্মার কারণ হয়ে ওঠে। ২০১৭ সালে পরেশ রাওয়াল রাজকোটে এক সমাবেশে সর্দার প্যাটেলকে স্মরণ করার সময়, অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রাজপরিবার এবং সঙ্গীতকে রাজা ভাজা উল্লেখ করে বানরের বা বাঁন্দ্রার সাথে তুলনা করেছিলেন, যা স্বাভাবিকভাবেই রাজপূত সম্প্রদায়ের অপমানকর বোধ হয়েছিল।


More Stories
“কী ঔদ্বত্য রে বাবা! ” -অভিষেক থাকলে তাঁরা নেই জানালেন কল্যাণ
নারদা কাণ্ডে “৫ লাখ টাকা ঘুষ “-এর উল্লেখ সুখেন্দু শেখরের সাংসদকে আক্রমণে
আইনি নোটিস ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও ভাইরাল