Home » অনুব্রত মণ্ডলের পরিচারকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল সিবিআই

অনুব্রত মণ্ডলের পরিচারকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল সিবিআই

সময় কলকাতা ডেস্ক,২২ ফেব্রুয়ারিঃ অনুব্রত মণ্ডলের পরিচারক বিজয় রজকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল সিবিআই। সূত্রের খবর, বিজয় রজকের নামে খোলা অ্যাকাউন্টে এখনও পর্যন্ত ১৫ লক্ষ টাকা রয়েছে। যা তাঁর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বলে মনে করছে সিবিআই। আর এর উৎস খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে সিবিআই। ফ্রিজ করা হয়েছে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এর আগে ৫ জানুয়ারি, সিউড়ির সমবায় ব্যাঙ্কে হানা দেয় সিবিআই। সিউড়ি শাখা-সহ বীরভূম জেলার একাধিক কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের শাখায় বেশকিছু ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান মেলে। ব্যাঙ্ক ম্যানেজারদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। সমবায় ব্যাঙ্কের একাধিক শাখায় ৩৩০-এরও বেশি বেনামি অ্যাকাউন্ট খুলে কালো টাকা সাদা করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিলবলে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে। ইনভেস্টিগেটিং অফিসার সুশান্ত ভট্টাচার্য নিজে অ্যাকাউন্টগুলির নথি খতিয়ে দেখছেন। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলি কার জানতে প্রয়োজনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক্সপার্টদের মতামত নেওয়া হতে পারে।


উল্লেখ্য,১৭ ফেব্রুয়ারি গরুপাচার মামলায় ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয় বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের। অনুব্রতর আইনজীবী নতুন করে জামিনের আবেদন না করায় আসানসোলের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সূত্রের খবর,আগামী ৩ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এদিকে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারে প্রায় এক ঘণ্টা অনুব্রতকে জেরা করেন তদন্তকারী অফিসারেরা। তবে,অনুব্রত এদিন স্বভাবসিদ্ধভাবে একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে,প্রথমে ১৭৭ ও পরে ৫৪ টি বেনামি অ্যাকাউন্টের পর ৩ ফেব্রুয়ারি নতুন করে ১১৫ টি অ্যাকাউন্টের নথি জমা করেছিল সিবিআই। এই অ্যাকাউন্টগুলি বাফার অ্যাকাউন্ট হিসাবে ব্যবহার করার হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ১১৫ টি বাফার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে কেষ্ট মন্ডলের কী যোগ রয়েছে, সেটাই জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। সিবিআই ব্যাঙ্কের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের সরাসরি যে যোগাযোগ রয়েছে, সেই তথ্য জোগাড় করতে চাইছে ৩। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, অ্যাকাউন্টগুলি ওই ১৬ জনের খোলা নয় এবং টাকাও তাঁদের নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে এই কাজ ব্যাঙ্ক ম্যানেজার করেছেন বলে আদালতে জানিয়েছেন সিবিআইয়ের আইনজীবী।
সিবিআইয়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে প্রচুর কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। রাইস মিল সংক্রান্ত প্রচুর টাকার লেনদেন হয়েছে এইসব অ্যাকাউন্ট থেকেই। সিউড়ি সমবায় ব্যাঙ্কের এই অ্যাকাউন্টগুলিতেও গরু পাচারের টাকা লেনদেন হয়েছে কিনা? ইতিমধ্যেই তাও খতিয়ে দেখছেন সিবিআই আধিকারিকরা। এদিকে,সমবায় ব্যাঙ্কগুলির অ্যাকাউন্ট থেকে যে টাকা ঘুরপথে অনুব্রত মণ্ডলের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, সেখানে রাজীব ভট্টাচার্যের নামও জড়িয়ে রয়েছে। এই সেই রাজীব ভট্টাচার্য, যাঁর বিরুদ্ধে অনুব্রত মণ্ডলের স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ৬৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গিয়েছে বাফার অ্যাকাউন্টে।

About Post Author