সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ মার্চ : নিয়োগ দুর্নীতিতে এবার বিপাকে ২০১৬ সালে স্কুলে নিযুক্ত ৩ হাজারের বেশি গ্ৰুপ সি কর্মী। নাম জড়িয়েছে প্রথম সারির তৃণমূল নেতা নেত্রীর।উত্তরপত্রে একটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়েও চাকরিতে নিয়োগের অভিযোগ। উত্তর পত্রে ভয়াবহ গরমিল থাকায় গ্ৰুপ সির ৩ হাজারের বেশি কর্মীর চাকরি নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন । গরমিল এরকম স্তরে যে,এক তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে নামের ও নিয়োগের সাথে সাযুজ্য ও সঙ্গতিপূর্ণ গ্রুপসি কর্মীর উত্তরবিহীন উত্তরপত্র জমা দেওয়ার তথ্য সামনে আসছে।

গ্রুপ সি-র ৩,১১৫ জন কর্মীর চাকরি যে বিপাকে তার তথ্য সামনে এসেছে, ওএমআর শিটে গরমিল থাকার বিষয়টি মেনে নিয়েছে কমিশন।ফলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিশ বাওঁ জলে পড়েছেন গ্রুপ সি কর্মীরা। এরমধ্যেই এমন কয়েকজনের নাম রয়েছে যাদের সঙ্গে নাম হুবহু মিলে যাচ্ছে ২০১৬ সালে নিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলার সহ একাধিক নেতা নেত্রীর। কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত ওএমআর সিটের তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গিয়েছে এরকম পরীক্ষার্থীও রয়েছেন যারা সাদা খাতা জমা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত,হাইকোর্টের নির্দেশ মত বৃহস্পতিবার স্কুল সার্ভিস কমিশন ৩ হাজার ৪৭৭ জনের ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র প্রকাশ করে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৩৬২ জনের ওএমআর শিটে কোনও গরমিল নেই । অন্যদিকে উত্তরপত্রে গরমিল থাকা ৩১১৫ জনের তালিকায় বারাসাতের এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের নাম থাকার সম্ভাবনা। উল্লেখ্য, গরমিল যুক্ত গ্ৰুপ সি কর্মীদের তালিকায় দোলন বিশ্বাস ও দোলন আচার্য্যর নাম ও রয়েছে। উল্লেখ্য,বারাসাতের প্রাক্তন পুরমাতা দোলন বিশ্বাস ২০১৬ সালেই (বিগত বোর্ডের পুরমাতা ) অশিক্ষক কর্মচারী হিসেবেই বারাসাতের এক স্কুলে নিযুক্ত হন। আশ্চর্যজনকভাবে, ক্লার্ক পদের তালিকায় যে দোলন বিশ্বাসের নাম পাওয়া গিয়েছে তার ওএমআর সিটে একটি প্রশ্নেরও উত্তর নেই। দোলন আচার্য্য আবার মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এরকম নিদর্শন ভুরিভুরি।

গত ৩ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে গ্রুপ সি মামলায় হলফনামা দিয়েছিল কমিশন। আদালতে কমিশন জানিয়েছিল, ২০১৬ সালের গ্রুপ সি পদে নিয়োগে আরএলএসটি পরীক্ষার্থীদের নম্বরে হেরফের রয়েছে। এই তালিকায় তৃণমূলে একাধিক প্রথম সারির নেতা-নেত্রীর নাম কার্যত সামনে আসায় নতুন করে অস্বস্তিতে শাসক দল । পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতিতে ২০১৬ সালের গ্ৰুপ সি পদে নিযুক্তদের অনেকেরই চাকরি নিয়ে এখন বিরাট প্রশ্নচিহ্ন ও অনিশ্চয়তা ।।


More Stories
আইনি জটিলতা কাটাতে এনসিপিআই-এ মিশে গেলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা
“রাজনৈতিক প্রতিহিংসা “, জামিনের আবেদন সুজিত বসুর
কার্যত ভুল স্বীকার করে নিলেন অভিষেক, সুর নরম কল্যাণের, অভিষেক – কল্যাণ বিবাদ মিটল!