সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ মার্চ: মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে স্বাধীনতা সংগ্রামী অরবিন্দ ঘোষের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গ। পাশাপাশি তুলে আনলেন পূর্বতন বাম সরকারের প্রসঙ্গও। এদিন আবেগপ্রবণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি বাতিল নিয়ে বলতে গিয়ে বিচারপতিদের আইন মেনে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করলেন। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘যারা অন্যায় করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কিন্তু, নির্দোষরা যেন দোষের ভাগীদার না হয়। আইন মেনে তাঁদের চাকরি ফিরিয়ে দিন’।

রোজ কেন চাকরি বাতিল হচ্ছে? আদালতের এক অনুষ্ঠানে এসে এই প্রশ্নই তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। আবার নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে তিনি ঢাল করলেন বাম আমলকে। এদিন তিনি দাবি করলেন, সিপিএম আমলেও দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দেওয়া হত। এরপরই তাঁর প্রশ্ন, ‘আমি তো সিপিএম ক্যাডারদের চাকরি খাইনি। তাহলে তোমরা কেন খাচ্ছ?’ রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, শিক্ষক নিয়োগ-সহ অন্যান্য দফতরের নিয়োগেও দুর্নীতি সামনে আসছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলে রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। এছাড়াও তৃণমূল যুব নেতা কুন্তল ঘোষ এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইডি হেফাজতে। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের আগে যা প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছে তৃণমূলের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে চাকরি হারানোদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবার বাম আমলের সিপিএম ক্যাডারদের চাকরি হওয়ার প্রসঙ্গ তুলেও আত্মপক্ষ সমর্থন করার চেষ্টা করলেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি সামনে প্রধান বিচারপতিকে পেলাম না। কিন্তু, আমার মনের ভাবনাটা বললাম। দরকার হলে তাঁদের আবার পরীক্ষা নিন কিন্তু, তাঁদের চাকরি ফিরিয়ে দিন। এই প্রসঙ্গে তিনি বাম আমলে কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ের কথা তুলে ধরেন। মমতার কথায়, আমি বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি রায় শুনেছিলাম। চাকরি নিয়ে মামলার রায়ে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি ভুল থাকে সংশোধন করে নাও।’ উনি চাকরি খাওয়ার কথা বলেননি। পাশাপাশি তিনি বলেন, আমরা তো আইনজীবীদের উপর নির্ভর করি। বিচারপতিদের রায়কে সম্মান জানাই। আমি অধিকার কাড়ার পক্ষে নই। আমি অধিকার দেওয়ার পক্ষে। যেটা আইনত স্বীকৃত, সেই অধিকারের কথা বলছি।


More Stories
প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস গ্রেফতার, সরব মহুয়া
সব্যসাচীকে গ্রেফতার করিয়েছেন কাকলি, অভিযোগ কল্যাণের
স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ, সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী