Home » সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা ঠিক কী নির্দেশিকা তৈরির নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা ঠিক কী নির্দেশিকা তৈরির নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ মার্চ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ঠিক কী ভূমিকা রয়েছে জানতে চায় কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এই বিষয়ে আগামী ২৯ মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকারকে নির্দেশিকা তৈরি করতে বললেন। পাশাপাশি ওই নির্দেশিকা বা গাইডলাইন আদালতেও জমা দিতে হবে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে। সম্প্রতি সরশুনা থানার দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসার। তাঁদের সঙ্গে পুলিশও ছিল। অভিযোগ পরে ওই যুবককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই যুবকের পরিবার। এই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা সিভিক ভলান্টিয়ারের ভূমিকা জানিয়ে গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ দিলেন।

আরও পড়ুন  কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে দিল্লিতে ২ দিনের ধরনায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী

সরশুনার নিখোঁজ যুবকের পরিবারের আইনজীবী সব্যসাচী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হাওড়ার বাম যুব নেতা আনিস খানের বাড়িতেও মাঝরাতে আমতা থানার দুই সিভিক ভলান্টিয়ার গিয়েছিল। পরে তা স্বীকারও করে নিয়েছিল পুলিশ। সরশুনার ঘটনাতেও তাই দেখা গেল। এরপরই বিচারপতি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা কী তা জানিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি কোন কোন কাজে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করা হয় সেটাও জানাতে হবে রাজ্য সরকারকে। রাজ্য পুলিশের ডিজিকে এই গাইডলাইন তৈরি করে আগামী ২৯ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন  সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য বড় প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্য সরকার। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ভালো কাজ করলে এবার সিভিক ভলান্টিয়াররা কনস্টেবল পদে উন্নীত হতে পারবেন। নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, পঞ্চায়েত ভোটের আগে এটা একটা টোপ। বিজেপি ও সিপিএম এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল। আবার সিভিক ভলান্টিয়ারদের প্রাথমিক স্কুলে পড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। ওই প্রস্তাব নিয়েও চরম বিতর্ক হয়। বাংলায় কয়েক হাজার যুবক-যুবতী বর্তমানে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে কর্মরত। মূলত রাস্তায় ট্রাফিক সামলানোর জন্যই সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু বর্তমানে তাঁদের থানার বিভিন্ন কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠছে। এবার এই আববে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ যথেষ্টই কার্যকরি বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

About Post Author