Home » ডিম ছাড়া পুজো হয় না এখানে! এই বাংলাতেই আছে এমন আজব রীতি

ডিম ছাড়া পুজো হয় না এখানে! এই বাংলাতেই আছে এমন আজব রীতি

পুজো অর্চনা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ মার্চ: সনাতন ধর্মে নানান ভাবে পুজো অর্চনার রীতি আছে। এরমধ্যে শুদ্ধাচারে অর্থাৎ শুদ্ধ বসনে আমিষের ছোঁয়া ছাড়া ফলফলাদি ও ভোগ নিবেদন করে পুজো করার রীতি বহুল প্রচলিত। আবার শাক্ত মতে পুজো করলে মাছ বা মাংস উৎসর্গ করা যায় দেব-দেবীকে। কিন্তু সনাতন ধর্মে কোনও পুজোয় ডিম উৎসর্গ করার রীতি খুব একটা শোনা যায় না। কিন্তু এই বাংলাতেই এমন এক পুজো হয়, যেখানে ডিম ছাড়া পুজোই হয় না। অর্থাৎ, পুজো দিতে হলে ডিম লাগবেই। শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুজোয় থাকে নানান রীতিনীতি। যেমন আমিষ কোন খাবার অধিকাংশ পুজোয় ব্যবহার করা হয় না। আমিষের মধ্যে আবার ডিম (egg) ব্যবহার তো দূরের কথা ছোঁয়া লাগলেই পুজোয় বিঘ্ন ঘটে বলে মনে করা হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মহম্মদবাজারের একটি পুজো এই ধারণা বদলে দিয়েছে। যেখানে ডিম ছাড়া পুজো হবেই না। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে। ফলে এমন ব্যতিক্রমী পুজোর কথা জানলে বা শুনলে রীতিমত অবাক হতে হয় বৈকি।

আরও পড়ুন  নখের যত্নে আপনার জন্য রইল কিছু টিপস

মহম্মদবাজার ব্লকের পুরাতন গ্রাম পঞ্চায়েতের উস্কো গ্রামের এই পুজোকে সবাই চেনেন বারণী পুজো নামেই। এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে দ্বারকা নদ। এখানেই প্রতি বছর চৈত্র অমাবস্যা তিথিতে হয় গোরক্ষনাথের পুজো। বিগ্রহ বলতে মাটি থেকে দুই ফুট উঁচু হয়ে থাকা একটি গাছের গুঁড়ি। একেই গোরক্ষনাথ হিসেবে সম্মান করে চলে পুজো অর্চনা। গ্রামবাসীদের ধারণা সব রকম বিপদ-আপদের থেকে রক্ষা করেন গোরক্ষনাথ। প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন এই পুজোয় মূল উপাচার হল ডিম। কারণ ডিম ছাড়া বারণী পুজো হয় না।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, যদি কারও চর্মরোগ থাকে তবে তিনি দ্বারকা নদে ডুব দিয়ে গোরক্ষনাথের কাছে ডিম দিয়ে মানত করলে রোগ সেরে যায়। আর রোগ সেরে যাওয়ার পর মানত পূরণ করার সময়ও ডিম দিতে হয়। তবে সেক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। মানত করার সময় যত ডিম গোরক্ষনাথকে উৎসর্গ করা হয়, মানত পূরণ হলে তাঁর দ্বিগুণ ডিম দিতে হয়। ফলে প্রতি বছর চৈত্র মাসের অমাবস্যা তিথিতে বীরভূমের মহম্মদবাজার ব্লকের উস্কো গ্রামে ডিমের পাহাড় তৈরি হয়। ফলে এই অভিনব পুজো দেখতে এবং মানত করতে প্রতি বছর কয়েক হাজার ভক্ত এখানে আসেন। বারণী পুজো উপলক্ষ্যে এই গ্রামে বিশাল মেলাও বসে।

About Post Author