সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক,২৬ মার্চ :
একসময় ভারতীয় ফুটবলে যারা দৈত্য ছিল সেই ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান পারফর্ম্যান্স তলানিতে। কোন পথে ইস্টবেঙ্গল বোঝা দায়। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে চূড়ান্ত ব্যর্থ ইস্টবেঙ্গল নিয়ে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল মিটছে না।

ক্রীড়ামোদীরা বুঝেই উঠতে পারছেন না হালহকিকত। গত তিনবছর ধরে গয়ংগচ্ছ ভাবে চলার পরে আগামী দিনে ইস্টবেঙ্গল কোন পথে হাঁটতে চলেছে। স্পনসর ইমামির সঙ্গে প্রাথমিক বিতর্ক ও মতের অনৈক্য মিটেছে। যদিও কোচ নির্বাচন ও দলগঠন নিয়ে সমস্যা মিটছে না।গত কয়েকদিন ধরে ইস্টবেঙ্গল টিম গঠন নিয়ে চলছে প্রবল জলঘোলা। স্পনসর ইমামি এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকর্তাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। তবুও কিছুই পরিষ্কার হচ্ছে না।

এটিকে মোহনবাগান এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে চাপ প্রবল হয়েছে ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তাদের ওপরে। ভালো ফল করতে যা যা করা দরকার তাই তাঁরা করছেন এমনটাই দেখাচ্ছেন ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা।কিন্তু মুখের কথায় চিড়ে ভেজে না – সমর্থকরা আশ্বস্ত হতে পারছেন কোথায়? ফান্ডের সমস্যা রয়েছেই। তবে ইমামি কর্তৃপক্ষ বলছেন, ফান্ড সাফল্যের শেষকথা হতে পারে না। এজন্য তাঁরা যুক্তিও দেখিয়েছেন যে প্রচুর টাকা দিয়ে দল গড়েও সবসময় সব নামী দল সাফল্য পায় নি।
আরও পড়ুন : ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন জার্মান তারকা মেসুত ওজিল

তবুও ইস্টবেঙ্গলের দল নির্বাচন বিশ বাঁও জলে। সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা যেতে পারে, এখনও পর্যন্ত কোচ, বিদেশি খেলোয়াড় বা দেশী খেলোয়াড় কোনো বিষয়েই ঐক্যমত্য দেখা যায় নি। একমাত্র যে বিষয়টি নিশ্চিত তা হল ছয় বিদেশির মধ্যে ক্লেটন সিলভা আগামী মরশুমে নিশ্চিত। ইভান গঞ্জালেসের সাথে চুক্তি থাকলেও তাঁকে নিয়ে সামান্য হলেও সংশয় রয়েছে। তবে কোচ নিয়ে যা চলছে তা অভূতপূর্ব। প্রথমে ঠিক ছিল কনস্ট্যানটাইন আগামী মরশুমে কোচ না থাকলেও সুপার কাপে কোচ হবেন। অথচ তাঁকে ছাঁটাই করে ফেলা হয় সুপার কাপের আগেই। মোটামুটি স্পনসরদের তরফে নিশ্চিত করে ফেলা হয় ওড়িশা এফ সির কোচ জোসেফ গাম্বাউ কোচ হবেন। বেঁকে বসেন ক্লাব কর্মকর্তারা। তাঁদের এবং ক্লাবকর্তাদের বৈঠকে উঠে আসে গাম্বাউএর ভারতের মাটিতে সেভাবে সাফল্য না পাওয়ার খতিয়ান এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর বনিবনা না হওয়া তথা দুর্ব্যবহার করার কথা। ফলে এ মুহূর্তে কোচ হওয়ার দৌড়ে আন্তিনিও হাবাস বা টমাস বাদারিক এগিয়ে। হাবাস এটিকে কে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। তাঁকে চাইছেন ক্লাবকর্তারা। যদিও এখনও কোচ হিসেবে কারও সম্পর্কে সবুজ সংকেত মেলে নি।

তবে কোচ যেই হয়ে আসুন, ভালো খেলোয়াড় বেছে নেওয়াই সাফল্যের প্রাথমিক শর্ত বলে মনে করছেন স্পনসর ও ক্লাবকর্তারা। সেক্ষেত্রে বিদেশী চয়নের ক্ষেত্রে কোচ যে ভূমিকাই নিন, দেশীয় ফুটবলার পাওয়া খুব দরকারি মানছেন তাঁরা।সাইডবেঞ্চ ভালো করা দুরস্ত, প্রথম একাদশে খেলবেন এমন অন্তত ভালো সাতজন দেশীয় ফুটবলার পাওয়াই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। গত মরশুমে নাওরেম মহেশ সিং ও কিছুটা হলেও লালচেননুঙ্গা ও গোলরক্ষক কমলজিৎ সিংহ ছাড়া কেউ বিন্দুমাত্র নজর কাড়তে ব্যর্থ।

অন্যদিকে,ভারতীয় ভালো প্লেয়াররা ইতিমধ্যেই দল পেয়ে বসে আছেন। নতুন করে প্লেয়ারস ড্রাফট বা নিলাম চায় ইস্টবেঙ্গল ও ক্লাবের স্পনসর সংস্থা ইমামি। যৌথ ভাবে দাবি করা হয়েছে, বেঙ্গালুরু এফসি ও হায়দ্রাবাদ এফ সি আইএসএলে শুরু করার বছরে নতুন করে নিলামে তোলা হয়েছিল ফুটবলারদের। ইস্টবেঙ্গল সেই সুবিধা পায় নি। এদিকে প্লেয়াররা ইতিমধ্যেই অন্যক্লাবে চুক্তিবদ্ধ। ফলে ইস্টবেঙ্গলের দাবি এফএসডিএল না মানলে খুব একটা নতুন করে ভালো খেলোয়াড় পাওয়া ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে কঠিন। সেক্ষেত্রে মূল ভরসার জায়গা বিদেশী প্লেয়ার। আর তাই বিদেশী চয়নে এমন কোচ চাইছে ইস্টবেঙ্গল যিনি ভালো বিদেশীর সন্ধান দিতে পারবেন । আর এটিকে মোহনবাগানের সাফল্য আনা হাবাস এর আগেও রয় কৃষ্ণার মত খেলোয়াড়ের সন্ধান দিয়েছিলেন যারা ভারতের মাঠে সাফল্য পেয়েছেন। হাবাস একাধিক বছর ধরে আইএসএলে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। দেশি বিদেশী খেলোয়াড়ের সংমিশ্রনে সাফল্য আনতে ভারতের মাটিতে আইএসএল স্তরে পোড়খাওয়া সফল কোচ কে চাওয়া হচ্ছে।।
আরও পড়ুন :ইস্টবেঙ্গল আইএসএলে চুরান্ত ব্যর্থ হওয়ায় ইমামি অফিসে সমর্থকদের তুমুল বিক্ষোভ


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার