Home » বঙ্গবাজারের বিধ্বংসী আগুন ও একরাশ স্বপ্নের মৃত্যু

বঙ্গবাজারের বিধ্বংসী আগুন ও একরাশ স্বপ্নের মৃত্যু

হাবিবুর রহমান,বাংলাদেশ, ৫ এপ্রিল:

স্বপ্নের সমাধিস্তুপ 

বঙ্গবাজার আর স্বপ্নের সমাধি এখন সমার্থক। আগুনের লেলিহান শিখায় একরাশ স্বপ্নের মৃত্যু।  বাংলাদেশের ঢাকার বঙ্গবাজারের আকাশে বাতাসে এখন পোড়া গন্ধ, বঙ্গবাজার এখন শুধুই পোড়াস্তূপ। দুদিন আগেও যেখানে রঙিন কাপড় মোড়া ছিল স্বচ্ছ পলিব্যাগে, আজ সেই সব কাপড়ের রঙ জমাট কালো। পরশুও ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে যে বাজার ছিল জমজমাট আজ সেখানে ধ্বংসস্তুপ আর হাহাকার।দুঃস্বপ্নের রঙ জমাট বেঁধেছে বঙ্গবাজারে আর নৈরাশ্য  ছেয়েছে ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যত।

সর্বগ্রাসী আগুন যখন লাগল

বঙ্গবাজারের পাশপাশি ভয়াবহ আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পাশের বঙ্গ ইসলামীয়া মার্কেট, বঙ্গ হোমিও কমপ্লেক্স, বঙ্গবাজার মার্কেট, এনেক্সকো টাওয়ার, মহানগর শপিং কম্প্লেক্স, আদর্শ মার্কেট, গুলিস্তান মার্কেটেও। এইসব মার্কেটের কিছু সামগ্রী ব্যবসায়ীরা বের করতে পারলেও, পুড়ে গিয়েছে বেশিরভাগ সামগ্রী ।

আশায় যারা বাঁচেন

বঙ্গবাজারের পাশপাশি ভয়াবহ এই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের সাত তলা এনেক্সকো টাওয়ারেও। অগ্নিকাণ্ডের পর দুইদিন পেরিয়ে গেলেও এনেক্সকো টাওয়ারের জল ছেটানো অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস। এনেক্সকো টাওয়ারের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলা থেকে একের পর এক বস্তা ফেলা হচ্ছে নিচে। অগ্নিকাণ্ডের পর অবশিষ্ট কাপড়সহ যেসব সামগ্রী রয়েছে মূলত সেগুলিই বস্তায় করে নিচে ফেলা হচ্ছে। চারদিকে অসংখ্য উৎসুক মানুষের উপস্থিতি। সব মিলিয়ে মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচির চেনা আবহেও অপরিচিত এক বঙ্গবাজার দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষত নিয়ে। নতুন কাপড়ের গন্ধের বদলে সেখানে শুধুই পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাস্তার ওপর পড়ে থাকা সেসব পোড়াস্তূপেই ভালো কাপড় খুঁজে বেড়াচ্ছেন ছিন্নমূল কয়েকশ’ মানুষ। ছিন্নমূলরা দাবি করেছে এসব পোড়া জামাকাপড় কেউ পরবেন, কেউবা বিক্রি করবেন। আবার কেউ ঘরের দরজা জানালার পর্দা তৈরির কাপড় সংগ্রহ করছেন।

আরও পড়ুন : ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আন্দামান নিকোবর দীপপুঞ্জ

দুর্ঘটনা ও অগ্নি-নির্বাপন 

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজারে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ৪১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ৪৩টি ইউনিট যাওয়ার খবর জানায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ৫০টি ইউনিটের প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টায় বেলা ১২টা ৩৬ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ২দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো আগুন পুরোপুরি নেভার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি ফায়ার সার্ভিস।

আরও পড়ুন :শাকিব আল হাসানের বদলে জেসন রয় এলেন কেকেআরে

স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার দিশা

এতকিছুর পরেও মানুষ বাঁচে। পরিবার পরিজনের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে হয় ।তাই বঙ্গ বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষরা বলছেন,করোনা পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার গতি রুদ্ধ করল বিধ্বংসী আগুন। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আলোকিত পথের সন্ধানে বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মানুষ।।

আরও পড়ুন :ঢাকায় বিড়ালদের ৱ্যাম্প শো

About Post Author