Home » ঘুমের মধ্যে হাত পা কেউ চেপে ধরে বসে আছে? এমন কেন হচ্ছে জানেন?

ঘুমের মধ্যে হাত পা কেউ চেপে ধরে বসে আছে? এমন কেন হচ্ছে জানেন?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ এপ্রিল:  রাত্রে দিব্যি খাওয়া শেষে ঘুমোতে গেলেন। আপনি ঘুমিয়েও পড়লেন। হঠাৎ মাঝরাতে আপনার ঘুম ভেঙে গেলো।  কিন্তু,আপনি শত চেষ্টা করেও উঠতে পারছেনা।  ঘুমের মধ্যে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।  আপনি চোখ খুলে ঘরের সব কিছু প্রায় দেখতে পাচ্ছেন।  কিন্তু, জোড়ে চিৎকার করতে গেলে সেটাও পারছেন না। কোনো এক অদৃশ্য শক্তি আপনার হাত-পা যেনো চেপে ধরে আছে।কোন মতেই হাত -পা নাড়াতে পারছেন না, হঠাৎ সব আবার এক ঝটকায় ঠিক হয়ে গেল। সব আবার আগের মত স্বাভাবিক হয়ে গেলো। হ্যাঁ এইরকমই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এটির নাম স্লিপ প্যারালাইসিস বা বাংলায় অনেকে এটাকে বোবায় ধরাও বলে থাকে।


স্লিপ প্যারালাইসিস কি?
সাধারণত স্লিপ প্যারালাইসিস একটি মস্তিষ্কের রোগ। বিশেষ করে কোন ব্যক্তি যখন মানসিক চাপের মধ্যে থাকে তখন এই স্লিপ প্যারালাইসিস ঘটে থাকে। এই স্লিপ প্যারালাইসিস সাধারণত ঘুমের ঘোরে, বা জেগে ওঠার ঠিক আগের মুহূর্তে ঘটে থাকে। এমন পরিস্থিতে ব্যক্তি চাইলেও নড়াচড়া করতে পারে না। নিশ্বাস নিতেও খুব সমস্যার সৃষ্টি হয়, দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। এই স্লিপ প্যারালাইসিস আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে যখন এই অবস্থায় থাকাকালীন হ্যালুসিনেশনের সৃষ্টি হয়। স্লিপ প্যারালাইসিস নিয়ে বিজ্ঞান মহলে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং গবেষণায় দেখা গেছে সাধারণত ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়স পর্যন্ত ব্যক্তিদের এই স্লিপ প্যারালাইসিস বেশি হয়ে থাকে। জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ এই স্লিপ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

আরও পড়ুন    ত্বকের জেল্লা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী বেদানা


স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ কী?
গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দুর্বলতা, ক্লান্ত শরীর, নিদ্রাহীনতা, সময় মতো ঘুম না আসা, অতিরিক্ত মোবাইলের ব্যবহার, হতাশা প্রভৃতি স্লিপ প্যারালাইসিসকে আমন্ত্রণ জানায়। যার ফলে অনেক মানুষের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি হয়।
স্লিপ প্যারালাইসিসের লক্ষণ কী?
১) কথা বলতে এবং হাত পা নাড়াতে অক্ষম হওয়া।
২) দম বন্ধ হয়ে আসা।
৩) ফাঁকা ঘরেও কোন অচেনা ব্যক্তি বা অলৌকিক কিছুর উপস্থিতি অনুভব করা।
৪) বুকে এবং গলায় চাপ সৃষ্টিকারী শ্বাসরোধক কোন অদৃশ্য শক্তির উপস্থিতি অনুভব করা।


স্লিপ প্যারালাইসিস নিরাময়ের উপায়
এই স্লিপ প্যারালাইসিস থেকে মুক্তি পেতে গেলে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। সঠিক টাইমে খাবার খাওয়া ও ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। দীর্ঘ রাত্রি অবধি জেগে থাকা যাবে না। পর্যাপ্ত ঘুমের দরকার এবং প্রত্যহ একই দিনে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিতে হবে।

About Post Author