Home » লখনউকে মাটিতে শুইয়ে আকাশ ছুঁল মুম্বাইয়ের আকাশ

লখনউকে মাটিতে শুইয়ে আকাশ ছুঁল মুম্বাইয়ের আকাশ

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা : উত্তরাখন্ডের রূড়কীর ছেলেটির দেশে আলোড়ন ফেলে দেওয়া ক্রিকেটার হওয়ার কথা হয়তো ছিল, হয়তো ছিল না।হতে পারে সে ঋষভ পন্থের প্রতিবেশী কিন্তু ক্রিকেটে আগ্রহ থাকলেও  ডিউজ বলে সে হাত দেয় নি এই কয়েক বছর আগে অব্দি।টেনিস বল ক্রিকেটের বোলার হিসেবে উত্তরাখন্ড ও উত্তরপ্রদেশের এদিকে সেদিকে সে খেলে বেড়াত। বছর চারেক আগে উত্তরাখন্ডের নির্বাচকদের নজরে পড়ে সে। কর্নাটকের বিরুদ্ধে প্রথম রাজ্য দলের ক্যাপ পেল ছেলেটি।পাশাপাশি ২০২০-২১ সালে উত্তরাখন্ডের সেসময় নিযুক্ত হওয়া কোচ ওয়াসিম জাফর বুঝেছিলেন আগুন আছে ছেলেটির মধ্যে।২০২১ সালে মেঘালয়ের বিরুদ্ধে উত্তরাখন্ডের হয়ে শুরু হল পেসারটির লিস্ট এ ক্রিকেটে পথ চলা। ২৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট শুরু করে ফাস্ট বোলারটি। তাতে কি! প্রতিভা থাকলে সুযোগ আসতে যে বাধ্য । ২০২২ সালে সূর্য কুমার যাদব আহত হতেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আইপিএল স্কোয়াডে থাকার সুযোগ পেল সে। যদিও সেবার কোনও ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় নি তবুও যশপ্রীত বুমরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফাস্ট বোলারদের সংস্পর্শে শিখল অনেক কিছু, নিজেকে গড়ে তুলতে লাগল সে। ২০২৩ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাকে দলে ধরে রাখল। বুমরা নেই, আর্চার ধারাবাহিক ভাবে খেলতে পারছেন না। মুম্বাইয়ের শুরুর দিকের বা ডেথ বোলিং ভোঁতা দেখাচ্ছে। এরকম অবস্থায় রোহিত শর্মা ও বাউচাররা ঝুঁকি নিলেন তাকে খেলানোর। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আইপিএলের অভিষেক ম্যাচে দাগ কাটতে পারে নি ছেলেটি।প্রথম তিনটি আইপিএল ম্যাচে একটি উইকেট। অবশেষে শক্তিশালী গুজরাটের বিরুদ্ধে জীবনের চতুর্থ আইপিএল ম্যাচে প্রবল পরাক্রমে বোলিং করল ছেলেটি। একে একে ফেরাল শুভমান গিল, ঋদ্ধিমান সাহা আর ডেভিড মিলারকে। আলোচনায় চলে এল পেস বোলারটি। ক্রিকেটপ্রেমীরা সবাই আগ্রহী হয়ে উঠলেন এই নবোদিত পেসারের সম্পর্কে। আইপিএলের মধ্যে ভারতের ইমার্জিং ষ্টার হিসেবে আবির্ভাব হল আকাশ মাধওয়ালের।সে যে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে তা বোঝাতে বেশি সময় নেয় নি ২৯ বছরের আকাশ মাধওয়াল।

আইপিএলে গ্রূপের শেষ ম্যাচে আরও সংহার মূর্তি দেখা গেল আকাশের। হায়দ্রাবাদ দলের বিরুদ্ধে ডু অর ডাই ম্যাচ। হায়দ্রাবাদ দলের ওপেনিং ব্যাটার জুটি মুম্বাইয়ের বোলারদের কাউকেই রেয়াত করছে না। এক সময় মনে হচ্ছে রান হয়তো আড়াইশো পার করে ফেলবে হায়দ্রাবাদ। আবার মুম্বাইয়ের ত্রাতা হয়ে দেখা দিল আকাশ। আকাশের একের পর এক ব্রহ্মাস্ত্র হায়দ্রাবাদকে বেশি দূর এগোতে দেয় নি। ৩৭ রানে চার উইকেট নিয়ে আকাশ মুম্বাইয়ের প্লে অফে যাওয়ার চিত্রনাট্য তৈরি করে দিল।

এরপরের ম্যাচ লখনউয়ের সঙ্গে। ম্যাচটি এলিমিনেটর হিসেবেই গণ্য, হারলেই বিদায়, জিতলে বেঁচে থাকবে ফাইনালে যাওয়ার আশা – এরকম আবহে লখনউ সুপার জায়েন্টসের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের আকাশ যে কান্ড ঘটাল তা কার্যত ইতিহাস।তার প্রথম ওভারেই সে আউট করল মানকড়কে। এরপরে দ্বিতীয় ওভারে পর পর দু বলে ফিরল ফর্মে থাকা আয়ুষ বদনি ও নিকোলাস পুরান।বদনির স্ট্যাম্প ডিগবাজি খেল। নিকোলাস পুরানকে যে বলে ফেরায় আকাশ তা এককথায় যেকোনও বোলারের স্বপ্নের ডেলিভারি। কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরার পরেও ঠিক যেন ঘোর কাটে নি ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের মারমুখী ব্যাটার নিকোলাস পুরানের। এখানেই থামে নি আকাশ।শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য বোলিং গড় রেখে সে একাই ধ্বংস করল লখনউ দলের বাকি ব্যাটিং লাইন আপ ।

বছর চারেক আগে মুম্বাইয়ের হয়ে আলজেরি জোসেফ ১২ রানে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে আর সেটাই আজপর্যন্ত আইপিএলে সেরা বোলিং ফিগার।পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার সোহেল তনভীরও একদা রাজস্থানের হয়ে ১৪ রানে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন। মাধওয়াল ৩.৩ ওভার করে ৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে যুগ্মভাবে প্রবাদপ্রতিম অনিল কুম্বলের সঙ্গে আইপিএলের সর্বকালের সেরা বোলিংয়ের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এলেন । ৮১ রানে লখনউকে হারিয়ে সপ্তমবার ফাইনালে যাওয়ার দিকে একধাপ এগোনো মুম্বাইকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে আকাশ। নিজে প্রতিপক্ষকে ভূপতিত করে একদিকে আকাশ ছুঁয়ে চলেছে, আর অন্যদিকে মুম্বাইকে আইপিএলে চূড়ান্ত সাফল্য এনে দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ভারতীয়দেরও এবার নতুন পেস তারকাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার সময়। সেরকম ইঙ্গিত যশপ্রীত বুমরার টুইট অভিনন্দনে ।।

About Post Author