সময় কলকাতা ডেস্ক,৭ জুনঃ পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির মামলা যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্তে নেমে বুধবার রাজ্যের ১৪টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, সল্টলেকের নগরোন্নয়ন দফতর, দক্ষিণ ও উত্তর দমদম পুরসভা, ব্যারাকপুর, পানিহাটি, কাঁচরাপাড়া, টিটাগড়, চুঁচুড়া, কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর সহ বিভিন্ন পুরসভাতে হানা দিয়েছে সিবিআইয়ের বিভিন্ন দল। এছাড়াও অয়ন শীলের বাড়িতেও পৌঁছে গেছে সিবিআই। তদন্তে জানা গেছে, ২০১৪ সালের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। মেথর, ক্লার্ক থেকে শুরু করে অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি হয়েছে! সেইসব তথ্যের ভিত্তিতেই এদিন তল্লাশি অভিযানে নামে সিবিআই। এই প্রথম সিবিআই পুর নিয়োগ মামলার তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নথি সংগ্রহ করছে।
আরও পড়ুন পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দ্বারস্থ রাজ্য

উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীলের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে সিবিআই জানতে পারে যে, পুর নিয়োগেও দুর্নীতি হয়েছে! অফিস ও বাড়ি থেকে এমন কিছু তথ্য উদ্ধার হয়, যা থেকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে এই নিয়োগেও বড় গরমিল হয়েছে। বিষয়টি আদালতে জানাতেই পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তারপরই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। প্রায় দেড় মাস আগে প্রথম এফআইআর দায়ের করে এই দুর্নীতি মামলায় তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু রাজ্য সরকার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চ ও সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলাকে হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়। মঙ্গলবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলা করে রাজ্য।

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল এখন ইডির জালে। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা,অ্যাডমিট কার্ড ও একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী শান্তনু ও অয়নের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন কয়লা পাচার মামলায় মলয় ঘনিষ্ঠ শঙ্কর চক্রবর্তীকে তলব ইডির
একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য একএকরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি।


More Stories
দিল্লি গেলেন অভিষেক
ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত -নাম না করে মমতাকে বেনজির আক্রমণ শান্তনু সেনের
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান