Home » ‘পঞ্চায়েত ভোটে সিভিক ভলান্টিয়ার ও শিক্ষকরা নয়’, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

‘পঞ্চায়েত ভোটে সিভিক ভলান্টিয়ার ও শিক্ষকরা নয়’, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক,৯ জুনঃ পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে এবার রাজ্য সরকারের মতামত চাইল আদালত। বিজেপি এবং কংগ্রেসের আবেদনের শুনানিতে শুক্রবার একথা জানিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। তবে সেই সঙ্গেই প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘‘ রাজ্য নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য যে সময় দিয়েছে তা উপযুক্ত নয়। ওই সময়সীমা আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করে আদালত।’’ কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে পৃথক মামলা দায়ের করেছে কংগ্রেস। মামলার শুনানি শেষে শুক্রবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে একটি নির্দেশ ও দু’টি পরামর্শ দিল হাইকোর্ট। আদালতের স্পস্ট নির্দেশ, নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে সিভিক ভলান্টিয়ার ও স্কুল শিক্ষকদের ব্যবহার করা যাবে না। পঞ্চায়েত ভোটে ভোটকর্মী হিসাবে স্কুল শিক্ষকরা কাজ করেন। কিন্তু এবারের এই নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ন বলেই মনে করছেন অনেকে।

এদিন সমস্ত জবাব শুনে আদালত কমিশনের উদ্দেশে দু’টি পরামর্শ দিয়েছে। এক, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো যায় কিনা তা কমিশন ভেবে দেখুক। দুই, অনলাইন মনোনয়ন সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রেখেছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আদালত বলেছে, প্রযুক্তি এত উন্নত হয়েছে। কত দ্রুত কাজ হয়। ৭৫ হাজার মনোনয়ন পত্র এত অল্প সময়ের মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে জমা দিতে সমস্যা হতে পারে। তাই আদালত প্রাথমিক ভাবে মনে করছে অনলাইনের মাধ্যমে যদি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কিনা তা কমিশন জানাক।এই দুটি বিষয়েই আগামী সোমবার কমিশনের মত জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।সেইসঙ্গে আদালত বলেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর বিষয়ে রাজ্য সরকারের কী অভিমত, তাও সোমবারের শুনানিতে জানাতে হবে।

আরও পড়ুন   পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি,হাইকোর্টে মামলা দায়ের কংগ্রেসের

প্রসঙ্গত,দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত ভোটের তারিখ ঘোষণা করলেন নব নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তবে পঞ্চায়েত ভোটের নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশ নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনী? পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিরাপত্তা দেবে কে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে রাজীব সিনহা রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা রাখার ইঙ্গিতই দিলেন। জানা গিয়েছে ৮ জুলাই, শনিবার রাজ্যে ৬৩ হাজার ২৮৩টি আসনে একদফাতেই ভোট গ্রহণ করা হবে। আগামী ৯ জুন থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া শুরু হবে। ১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য ২০ জুন পর্যন্ত সময় পাবেন পঞ্চায়েত ভোটের প্রার্থীরা। ১১ জুলাই গণনা ও ফলাফল ঘোষণা।

আরও পড়ুন    কালিয়াগঞ্জকাণ্ডে বিচারপতি মান্থার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেল রাজ্য

রাজ্যে মোট ২২টি জেলায় ৩৩১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। মোট পঞ্চায়েত আসন ৬৩ হাজার ২৮৩টি। গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচন কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৯৪। পঞ্চায়েত ভোটে মোট ভোটার হল ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ ২১ হাজার ২৩৪। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটার রয়েছে মুর্শিদাবাদে। সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছেন কালিম্পংয়ে। অন্যদিকে, শুক্রবার অর্থাৎ ৯ জুন থেকেই’’ রাজ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হয়ে যাচ্ছে। ফলে রাত ১০টা থেকে সকাল ৮ পর্যন্ত মিটিং মিছিল করা যাবে না। তবে বর্ষায় ভোট হওয়ায় গ্রামে ভোট দিতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। পাশাপাশি সর্বদলীয় বৈঠক না করেই পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ।

About Post Author