Home » করমণ্ডলের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার ১০ দিনের মাথায় সিবিআই-এর জালে ৩ রেলকর্মী

করমণ্ডলের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার ১০ দিনের মাথায় সিবিআই-এর জালে ৩ রেলকর্মী

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ জুনঃ করমণ্ডলের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় নয়া মোড়। দুর্ঘটনার ১০ দিনের মাথায় সিবিআই-এর জালে তিন রেলকর্মী। সূত্রের খবর,সোমবার তদন্তের জন্য তিনজন রেলকর্মীকে আটক করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, বাহানাগা বাজার স্টেশনের মাস্টার, একজন রেল টেকনিশিয়ান এবং আরও এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। কোনও অজ্ঞাত পরিচয় স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁদের। ইতিমধ্যেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সিবিআই।

আরও পড়ুন    করমণ্ডলকাণ্ডে ওড়িশার মর্গে দেহ শনাক্ত করতে এআই-নির্ভর ‘সঞ্চার সাথী’-র ব্যবহার

যদিও বালেশ্বরে করমণ্ডলের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার প্রথমদিন থেকেই রেল দুর্ঘটনার তদন্ত নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখে কুলুপ এঁটেছে সিবিআই। কার্যত সেকারণেই এই তিন রেলকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য মেলেনি। কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি, সিগন্যাল বিভ্রাট, অন্তর্ঘাত না কি রেলকর্মীর গাফিলতি? ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। এর আগে একাধিক রেলকর্মীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাঁদের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হয়। ঘটনার দিনের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ইন্টারনেট সার্চ হিস্ট্রিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের খাতিরেই করমণ্ডল এক্সপ্রেস, বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের লোকো পাইলটদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।

এদিকে,যত দিন পেরোচ্ছে, ততই ওড়িশার ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে চলছে বিস্তর কাটাছেঁড়া, চুলচেরা বিশ্লেষণ। ঘটনাটি কেন ঘটল, কীভাবে ঘটল, তার মূল পর্যন্ত পৌঁছতে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, দুর্ঘটনায় মৃত সকলের দেহ শনাক্ত করা ও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া। দিনের পর দিন যেন আরও অসম্ভব হয়ে উঠছে এই কাজ। কারও কারও মুখ থেঁতলে গেছে, চেনার উপায় নেই। তার উপর এবার সেগুলিতে পচন ধরতে শুরু করেছে। ফলে করমণ্ডলকাণ্ডে ওড়িশার মর্গে এখন কয়েকশো লাশের ভিড়। তাই এবার দেহ শনাক্ত করতে এক ধাপ এগিয়ে নতুন প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে রেল। রেল মন্ত্রকের সাইবার সেলের তরফে জানানো হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আপাতত ঠিক করা হয়েছে, এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে কাজে লগিয়ে দেহগুলি শনাক্ত করা হবে। সাইবার বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত সাহু জানিয়েছেন, মৃতের মুখের ছবি দেখে তার সিমকার্ড তথা মোবাইল নম্বরের সঙ্গে মেলানো এবং সেই নম্বরের সঙ্গে যোগ করা আধার কার্ড খুঁজে বার করে তাতে আঙুলের ছাপ মেলানো– এইভাবে কাজ হচ্ছে।

আরও পড়ুন    বুধবার থেকে ফের চাকা গড়াবে শালিমার-চেন্নাই করমণ্ডল এক্সপ্রেসের

বেশ কিছু ক্ষেত্রে সফল হচ্ছে পদ্ধতি। তবে কিছু দেহের এমনই অবস্থা, যে এইভাবেই পরিচয় বার করা যাচ্ছে না। এই কাজে প্রথমে আধার কার্ড বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মর্গে। তার পরে পরিচয়হীন দেহগুলির বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলের হাতের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। সেই সঙ্গে জোড়া হবে ‘সিম কার্ড ট্র্যাঙ্গুলেশন’ সিস্টেমকেও। এইভাবে এই শনাক্তকরন পদ্ধতিকে জোড়া হবে ‘সঞ্চার সাথী’ ব্যবস্থার মাধ্যমে। এভাবেই আধার কার্ড ও সিম কার্ডের যোগসূত্র বার করে মিলবে দেহের পরিচয়। ইতিমধ্যেই ৬৫টি দেহের আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। তবে সব দেহই নির্ভুলভাবে শনাক্ত হয়নি। তবে এই পদ্ধতিতেও সমস্যা হচ্ছে বিস্তর। কারণ বহু দেহেরই হাতের চামড়াও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে সমস্ত দেহ থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা সহজ হচ্ছে না। ফলে তা আধার কার্ডের সঙ্গে মেলানোও মুশকিল। সেখানেই সাহায্য করছে ‘সঞ্চার সাথী’, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরশীল এই পদ্ধতিতে মুখের ছবির সঙ্গে মোবাইলের সিমকার্ডের ফর্মের ছবি মেলানো সম্ভব।

About Post Author