Home » পঞ্চায়েত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল বিজেপি-কংগ্রেসের

পঞ্চায়েত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল বিজেপি-কংগ্রেসের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ জুন: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সারা বাংলায় কেন্দ্রীয় মোতায়েন করতে পারে। তারপরেই সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার যখন সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলে বাংলার রাজনীতিতে গুঞ্জন রয়েছে, ঠিক তখনই আগেভাগে শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করে রাখল বিজেপি ও কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট করে রেখেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করলেন মালদহ দক্ষিণের সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী।

আরও পড়ুন   এবার বাড়িতেই বানিয়ে নিন ইন্দুবালা স্টাইলের কচু বাটা, দেখে নিন রেসিপি

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজেপি এবং কংগ্রেস আগাম আদালতে পক্ষ হতে চেয়ে আবেদন করে রাখল। অর্থাৎ, এখন যদি রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করে তাহলে কংগ্রেস ও বিজপি পক্ষ হয়ে যাবে। আদালতে তারা তাদের বক্তব্য জানাতে পারবে। রাজ্য সরকারের একার কথা শুনে আদালতের নির্দেশ দেওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না। উল্লেখ্য, হাইকোর্ট প্রথমে নির্দেশ দিয়েছিল, স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হোক। কিন্তু সেই নির্দেশের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে আদালতে যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেখানেই হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় রাজ্যে সব জেলাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে ভোট করাতে হবে।

রাজ্যে সর্বত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই করতে হবে পঞ্চায়েত ভোট। এমনই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য। শুধু রাজ্য সরকার নয়, সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে স্পেশাল লিট পিটিশন দাখিল করতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনও।পঞ্চায়েত ভোটে সব জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ শুক্রবার রাতেই অনলাইনে মামলা দায়ের করে নবান্ন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্রের কাছে রিক্যুইজিশন পাঠাতে হবে। সেই সময়সীমার আগেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে চাইছে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মতে, বাংলায় এমন পরিস্থিতি নেই যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভোট করাতে হবে।কলকাতা হাইকোর্টের ওই রায় ঘোষণার আগেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা সেরে রেখেছিল নবান্ন ও নির্বাচন কমিশন। তারপর আদালতের রায় হাতে পাওয়ার পর কমিশনের কর্তারা বৈঠকে বসেন। নবান্নেও বৈঠক হয়। তারপর নথি তৈরি করে পিটিশন দাখিল করতে চলেছে নবান্ন ও নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন   পঞ্চায়েত নির্বাচনে স্পর্শকাতর বুথের তালিকা সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় শুরু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের

পঞ্চায়েত ভোটের রায় ঘোষণা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানিয়েছিল, রাজ্যের স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কমিশন ইতিমধ্যে যে সব জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে, সেখানে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রের কাছে রিক্যুইজিশন পাঠানো হোক। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি, পঞ্চায়েত মামলা চলাকালীন কমিশন একটি বা একাধিক জেলাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করে কোনও রিপোর্টই পেশ করেনি। সে রকম কোনও প্রাথমিক মূল্যায়নও করেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টে থেকে কোনও সুরাহা না পেলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার পথ খোলা রাখছে। এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা শুরু করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্তারা।

About Post Author