সময় কলকাতা ডেস্ক,১৩ জুলাই : অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাজধানী দিল্লি। প্রায় সাড়ে চার দশকের রেকর্ড ভেঙে বেড়েছে যমুনা নদীর জলস্তর। কার্যত বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দিল্লিতে। গোটা রাজ্য জুড়ে জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। যমুনা নদীর আশেপাশের অঞ্চলে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। পরিস্থিতি এতটাই গম্ভীর যে দিল্লির সদর শহরেও ঢুকতে শুরু করেছে জলস্রোত। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবনের আশেপাশেও দেখা যাচ্ছে জল জমতে।
জানা গিয়েছে বুধবার রাতের পর থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে যমুনার জল। সকাল ৮ টা নাগাদ এই জলস্তর ছিল ২০৮.৪৮ মিটার। গত ৪৫ বছরের রেকর্ডের ভিত্তিতে যা সর্বাধিক। এর আগে ১৯৭৮ সালে যমুনার জলস্তর বেড়েছিল ২০৪.৭৯। এবার পরিস্থিতি আরও জটিল। নদী সংলগ্ন নিচু স্থানের বাসিন্দাদের ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে ঘর বাড়ি হারিয়ে ত্রাণ শিবিরের আশ্রয় নিয়েছে অনেক মানুষ। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ট্যুইট করে তাঁর দলের বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ত্রাণ শিবিরগুলিতে পৌঁছে মানুষের পাশে থাকার আবেদন করছেন।
কিন্তু কেন এরকম পরিস্থিতি তৈরি হল? একদিকে দিল্লিতে লাগাতার বৃষ্টি অপরদিকে হরিয়ানার বাঁধ থেকে জল ছাড়া। এই দুই কারণে এই বন্যা পরিস্থিতি বলে দাবি করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এনিয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়েছেন কেজরিওয়াল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে দিল্লির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্যালয় বন্ধের সিধান্ত নিয়েছে দিল্লি প্রশাসন।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে কাশ্মীরি গেট, মঞ্জু কা টিলা, দিল্লির রিং রোডের সিভিল লাইন। কাশ্মিরী গেট সংলগ্ন অঞ্চলেই রয়েছে দিল্লি বিধানসভা। মনেস্ট্রি মার্কেট, বোট ক্লাব, যমুনা বাজার, গীতা ঘাট, খাড্ডা কলোনি, ময়ূর বিহার সহ একাধিক স্থান জলের তলায় চলে গিয়েছে। দিল্লির যান বহুল রাস্তার মধ্যে অন্যতম রিং রোড। এই রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যায় পড়তে হয়েছে নিত্যযাত্রীদের।


More Stories
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত
আবার বিজয়ী, ইতিহাস গড়ল ভারত
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক