সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ আগস্ট: রাহুল গান্ধীকে ঘিরে ইন্ডিয়া জোট যেন সব দূরত্ব কেটে যাচ্ছে। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির বলেছিলেন, ‘‘রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে যত মামলা হয়েছে,বিজেপির নেতা-কর্মীরা দায়ের করেছেন। এর থেকেই স্পষ্ট, বিজেপি রাহুলের রাজনৈতিক মোকাবিলা করতে পারছে না বলেই মামলা-মোকদ্দমা করছে।’’কিন্তু এতো ছিল কংগ্রেস নেতার বক্তব্য। এই বক্তব্যের সঙ্গে যেন আত্মিক ভাবে মিলে গিয়েছে “ইন্ডিয়া”। ইন্ডিয়া বলতে এখানে একটি সমগ্র দেশ নয় এ যেমন সত্যি , উল্টোদিকে সারা ইন্ডিয়ার বিজেপি বিরোধী শক্তির সিংহভাগ , যারা এক ছাতার তলায় এসেছে আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে। কি করে রাহুল গান্ধী এই বিরোধী শক্তির নিউক্লিয়াস হয়ে উঠলেন যাকে ঘিতে, আর তাঁকে ঘিরে কীকরে আরও শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে? বিরোধী ইন্ডিয়া জোটে তার রসায়ন কি? সমীকরণই বা কি? জোটের শুরু থেকে আর এখনও পর্যন্ত নবতম দিশার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা যাক প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন দিকগুলিকে।
আরও পড়ুন মোদি পদবী মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি রাহুল গান্ধির

উল্টোদিক থেকে এমুহূর্তে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ইন্ডিয়া জোট ঘিরে বিজেপির অস্বস্তি কতটা ও রাহুল গান্ধী লোকসভায় ফিরলে বিজেপির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ কতটা গভীর হচ্ছে। জোটের একতা ও শক্তিবৃদ্ধির ইঙ্গিতে যেদিন ইন্ডিয়া জোটের নামকরণ হল, সেদিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় রাহুল গান্ধীকে “আমাদের সবার প্ৰিয়” বলে ঘোষণা করেছিলেন। আম আদমি পার্টির সঙ্গেও কংগ্রেসের জোটের শুরুর দিকে অর্ডন্যান্স নিয়ে বিতর্কের দিনেও কেজরিওয়াল পাশে ছিলেন রাহুলের। এখনও তিনি বলছেন রাহুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা অন্যায্য ছিল। ধীরে ধীরে বাধার গাঁট খুলে যাচ্ছে আর ইন্ডিয়া পাচ্ছে অক্সিজেন।এখন দেখা যাচ্ছে, লালু প্রসাদ যাদবের বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। লালুপ্রসাদ সকাশে রাহুল কেন গুরুত্বপূর্ণ? মনে রাখতে হবে অতীতে মনমোহন সরকার পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে লালুপ্রসাদের সাংসদ পদ বাঁচাতে অধ্যাদেশ জারি করে কারণ সাংসদ-বিধায়ক দোষী সাব্যস্ত হলে তাতে স্থগিতাদেশ পাওয়ার জন্য তিন মাস সময় মেলে।
![]()
সে সময় রাহুল তার বিরোধিতা করেছিলেন। ফলশ্রুতি,অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সেসময় অধ্যাদেশ থাকলে রাহুলের মার্চ মাসে সাংসদ পদ খারিজ হত না। তাতে কি? বেশ কিছু মাস পরে সংসদে প্রবেশের ছাড়পত্র পাওয়া রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলিঙ্গনে যুদ্ধের আগে প্রাথমিক পর্যায়ে নৈতিক জয়ের সৌরভ।রাহুল ইস্যুতে এককাট্টা ইন্ডিয়া জোটের শক্তিবৃদ্ধি কতটা হয়েছে আর তারা কতটা উল্লসিত বলার আগে বিজেপির সাম্প্রতিক অবস্থান বোঝা দরকার। মার্চ মাসেই সুরাতের আদালতের রায়ে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তখন বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের জয় ধরে নিয়েছিল বিজেপি শিবির। এখন বিজেপি কি বলছে?বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবীয়প্রশ্ন তুলেছেন , রাহুল গান্ধী কত দিন আর রক্ষা পাবেন? বীর সাভারকরকে অপমান করার মতো বহু মামলা রাহুলের বিরুদ্ধে ঝুলে রয়েছে। রাহুল, সনিয়া গান্ধী ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় অভিযুক্ত। তাঁরা জামিনে রয়েছেন। এর মধ্যে যে কোনও মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেই তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি মিলতেই লালুর সঙ্গে সাক্ষাৎ রাহুল গান্ধির
রাহুল বরফের একটা সামান্য খন্ডের উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বিজেপি যে রাহুল গান্ধীর লোকসভায় ফেরা নিয়ে যার বন্যায় চিন্তিত তা তাদের বক্তব্যে পরিষ্কার। অন্য শীর্ষ নেতারাও রাহুল নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা ঢেকে রাখতে পারছেন না।গুজরাতের নিম্ন আদালতের রায়ে রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ হয়েছিল। বিরোধী শিবিরে আজ যারা ‘ইন্ডিয়া” শরিক তারা সেদিনও এই রায়ের ঠারে ঠারে বা প্রত্যক্ষভাবে বিরোধিতা করেছিলেন।মমতা বন্দোপাধ্যায় সে সময় বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদীর ‘নিউ ইন্ডিয়া’-য় বিরোধী নেতারা বক্তৃতা দিলে সাংসদ পদ খারিজ হয়।আর এখন? বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন,সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে একে বিচারবিভাগের জয় বলছেন। বঙ্গ তো নয় – কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত বিরোধী শিবির সে কেজরিওয়াল হোক বা লালুপ্রসাদ যাদব একজোট। এম কে স্ট্যালিন, ওমর আবদুল্লা, তেজস্বী যাদবের মতো বিরোধী শিবিরের নেতারাও সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। বৈরিতা নেই,রাহুলকে ঘিরে একজোট হয়ে এগোচ্ছে ইন্ডিয়া শিবির। তাহলে কি কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর ইউএসপি কে প্রাধান্য পাচ্ছে? কর্ণাটকের বিধানসভা ভোট কি বিরোধীরা নিজেদের মডেল করে নিচ্ছে?মুখ কি রাহুল গান্ধী যাকে সামনে রেখে কর্ণাটকে বিজেপিকে ধরাশায়ী করেছিল? বিজেপি কে ঈশান কোনে মেঘ আর ঝড়ের অশনি সংকেত দেখছে রাহুলের সংসদে ফেরায় ইন্ডিয়া জোটের একসুরে বিচারবিভাগীয় জয়ের বন্দনার মধ্যে ?


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?